সদ্যোজাত শিশুর যকৃত প্রতিস্থাপন বড় চ্যালেঞ্জ

সদ্যোজাত শিশুর দুরারোগ্য ব্যাধি যে কোনো বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনের জীবনে অন্ধকার বয়ে আনতে পারে৷ কিন্তু চিকিৎসাবিদ্যার উন্নতি অতীতের অনেক জটিল রোগ দূর করার পথ খুলে দিচ্ছে৷ তবে ঝুঁকি থেকেই যায়৷

ন্যান্সি ভারলিশ মা হিসেবে তাঁর শিশুকন্যার জীবন বাঁচাতে ব্যাকুল হয়ে রয়েছেন৷ ছোট্ট লুইসে-র বয়স মাত্র ন'সপ্তাহ৷ ডাক্তাররা তার শরীরে এক দুরারোগ্য ব্যাধি চিহ্নিত করেছেন৷ বিরল এক রোগ নিয়ে তার জন্ম হয়েছে, যার ফলে যকৃত ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়৷ একমাত্র অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বাচ্চাটির জীবন বাঁচানো সম্ভব৷ ন্যান্সি বলেন, ‘‘মা হিসেবে শিশুর দুরারোগ্য ব্যাধির কথা শোনা সহজ নয়৷ জেনেছিলাম, আমার বাচ্চা বড়জোর তিন মাস বাঁচবে৷ অর্থাৎ কিছু করার জন্য মাত্র তিন মাস হাতে ছিল৷ তখন রাতারাতি হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলাম৷’’

লুইসে-র মা বার্লিনের বিখ্যাত শারিটে হাসপাতালে ডাক্তারি পরামর্শ নিতে গিয়েছিলেন৷ অত্যন্ত জটিল এই রোগের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের সম্মিলিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে৷ তাঁদের সিদ্ধান্তের উপর ছোট্ট মেয়েটির জীবন-মরণ নির্ভর করছে৷

লুইসে-র অবিলম্বে নতুন যকৃতের প্রয়োজন রয়েছে৷ কিন্তু শিশুদের জন্য সহজে দান হিসেবে উপযুক্ত অঙ্গ পাওয়া কঠিন৷ তাই মা-কেই তাঁর যকৃতের একটা অংশ দান করতে হবে৷ শিশু চিকিৎসক ড. ভ্যার্নার লুক বলেন, ‘‘গত শতাব্দীর আশির দশকে প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলাম৷ তখনও যকৃত প্রতিস্থাপন রুটিন অপারেশন হয়ে ওঠেনি৷ তখন দেখতে হয়েছিল, মাসের পর মাস কষ্ট পেয়ে কীভাবে শিশুরা মারা যেত৷ উপায় থাকলে কত ভালো হয়৷ কোনো বাবা-মাকে যখন বলতে হয় যে তাদের শিশুর রোগের কোনো চিকিৎসা নেই, তার থেকে খারাপ কিছু হতে পারে না৷’’

ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নিলেন, যে লুইসে-র মা অঙ্গদানের যোগ্য হতে পারেন৷ কিন্তু সেই লক্ষ্যে তাঁকে কঠিন এক অপারেশন করাতে হবে, যার ফলে তাঁর নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে৷ ন্যান্সি ভারলিশ বলেন, ‘‘মনের মধ্যে ঝুঁকিগুলি চেপে রাখার চেষ্টা চলে৷ বলা যায়, কোনো অবস্থায় আমি এমন ঝুঁকি নেবো না৷ বড় ভয় করছে৷ কিন্তু তাহলে তো বলতে হয়, আমার মেয়ের জীবনের পরোয়া করি না৷ কারণ তার তো স্বাভাবিক জীবনের আশা নেই৷ তার মৃত্যু তো অনিবার্য৷ সে কারণেই আমি বলি, তার বেঁচে থাকার সুযোগ পাওয়া উচিত৷’’

গেরো পুল এই অপারেশন করবেন৷ ৪৪ বছর বয়স্ক এই সার্জেন এর মধ্যে প্রায় ৪০০ বার যকৃত প্রতিস্থাপন করেছেন৷ কিন্তু এমন অভিজ্ঞ শল্যচিকিৎসকের জন্যও এমন অপারেশন এক বড় চ্যালেঞ্জ৷

বার্লিনের শারিটে হাসপাতালে ডাক্তারদের টিম এক জটিল অপারেশন শুরু করলো৷ প্রতিস্থাপনের জন্য মায়ের যকৃতের প্রায় এক-অষ্টমাংশের প্রয়োজন৷ প্রকৃতির এক আশ্চর্য প্রক্রিয়ার কারণে এমন প্রতিস্থাপন আদৌ সম্ভব হয়েছে৷ কারণ যকৃতই একমাত্র অঙ্গ, যা আবার বেড়ে উঠতে পারে৷ সবকিছু ঠিকমতো চললে মাত্র ছ'সপ্তাহের মধ্যে যকৃত আবার তার স্বাভাবিক আয়তন ফিরে পেতে পারে৷ শল্যচিকিৎসক প্রো. গেরো পুল বলেন, ‘‘জীবন্ত অবস্থায় যকৃত প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো একটি মুহূর্ত নয়, গোটা অপারেশনই অত্যন্ত জটিল৷ আপনি জানেন, যে সুস্থ এক মানুষ অপারেশ টেবিলে শুয়ে রয়েছেন৷ এই মানুষটির সঙ্গে কোনো খারাপ কিছু হতে দেওয়া যায় না৷’’

মায়ের অপারেশনের পাশাপাশি একই সঙ্গে ডাক্তাররা সন্তানের বিকল যকৃত বার করে নেন৷ জার্মানিতে বছরে মাত্র ২০ বারের মতো এমন অপারেশন হয়৷ গেরো পুল হাতে গোনা কয়েকজন সার্জেনদের মধ্যে পড়েন, যাঁদের এই জটিল অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ নিজের আবেগ চেপে রাখতে পারলেই পেশাদারিত্বের সঙ্গে তিনি কাজ করতে পারেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এমন এক অপারেশনের জন্য ভালো প্রস্তুতির প্রয়োজন, বিশেষ করে মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে৷ ঠিকমতো অনুশীলনের পর আপনি দ্রুত ভুলে যাবেন, যে আপনি এক শিশুর অপারেশন করছেন৷ তখন শুধু কাজে মন দেবেন এবং পুরোটা সময় ধরে সদ্যোজাত শিশুর কথা ভাববেন না৷ নিজের সন্তান থাকলে আরও কষ্ট হয়, কিন্তু সেটা হতে দেওয়া উচিত নয়৷’’

এবার সেই মুহূর্ত এসে গেছে৷ ডাক্তাররা রক্ত চলাচল বন্ধ করে মায়ের যকৃতের অংশ কেটে নিলেন৷ তারপর অতি সাবধানতার সঙ্গে সার্জেন সেটি পাশের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলেন৷ শিশুর শরীর থেকে বিকল যকৃত সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ এবার সবচেয়ে কঠিন কাজের পালা৷ গেরো পুল রক্তবাহী শিরা সেলাই করছেন৷ অত্যন্ত সূক্ষ্ম সেই কাজ৷ সব শিরা ও ধমনি নিখুঁতভাবে জোড়া হলে যকৃত তবেই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে৷ ডাক্তাররা গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন৷

প্রায় আট ঘণ্টার পর ডাক্তাররা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন৷ অপারেশন সফল হয়েছে৷ ছোট্ট লুইসে এখনো ডাক্তারি নজরদারির মধ্যে রয়েছে৷ তবে আসল বিপদ কেটে গেছে৷

মিয়ানমারকে ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার সুপারিশ

মিয়ানমারকে ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার সুপারিশ

 

চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে রাখাইন কমিশন। সেখানে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক নিশ্চিত না করলে মিয়ানমারের এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের উচিত যৌথভাবে যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া, রাখাইনে ফেরত নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার সুপারিশ করে কমিশন বলেছে, যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে, প্রয়োজনে মিয়ানমার সরকার তাদের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেবে।

 

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ বাণিজ্য কমিশনকে আরো সক্রিয় করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদার করার সুপারিশ করেছে আনান কমিশন। সুপারিশে কমিশন বলেছে, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়াতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের মধ্যে সুধী সমাজের সফর বিনিময়, থিংক ট্যাংক, শিক্ষাবিদ ও বেসরকারি খাতের সফর বিনিময় করতে পারে।

 

আনান কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, চ্যালেঞ্জ এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধাদি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে এ ধরনের কমিশন গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে একে স্বাগত জানিয়েছে কমিশন।  

 

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই যৌথ কমিশন অন্ততপক্ষে প্রতি তিন মাস অন্তর একবার করে বৈঠক করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, অবৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, রোহিঙ্গাদের দলিলাদি তৈরি করা, মানবপাচার ও মাদকপাচার প্রতিরোধে যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়া এবং সহিংসতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থাকতে হবে। কারণ এক দেশের কোনো ঘটনা অন্য দেশকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। ২০১৬ সালে রাখাইনে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক মুসলিম রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সীমান্তের দুই পাড়েই মানবিক সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও পারস্পরিক সহায়তার সুযোগ উভয় দেশের জন্যই স্বার্থ বয়ে আনবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমণ করে। তখন প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটেই আনান কমিশন গঠিত হয়। কমিশন একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দেয় গত মার্চে। এরপর গত ২৪ আগস্ট সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমার সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে

মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে সংকটে রয়েছে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা৷ সংকট নিরসনে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন৷ ত্রাণ বিতরণেও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের৷

জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২৫শে আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে মোট চার লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছেন ৷ এদের মধ্যে শিশু দুই লাখ ৪০ হাজার, এক বছরের কম বয়সি শিশু ৩৬ হাজার, অন্তঃসত্ত্বা এবং প্রসূতি নারী ৫২ হাজার৷ জাতিসংঘ থেকে জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার৷ বাংলাদেশ সরকার, বিদেশি রাষ্ট্র, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ত্রাণ সহায়তা চলছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে৷

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে নারী এবং শিশুই বেশি৷ টেকনাফে খবর সংগ্রহের জন্য অবস্থানরত সাংবাদিক আমানুর রহমান রনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘রোহিঙ্গাদের মধ্যে এখনো ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়নি৷ টেকনাফ থেকে সড়কের দু'পাশে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন৷ তারা ত্রাণের কোনো গাড়ি দেখলেই ছুটে যাচ্ছেন৷ ঝাঁপিয়ে পড়ছেন৷ একারণে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে৷ আর ত্রাণের ক্ষেত্রে কার কি প্রয়োজন তার কোনো হিসাব নাই৷ সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সংস্থা তাদের ইচ্ছেমত ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন৷ কিন্তু খাবার ছাড়াও বেশি প্রয়োজন শিশু খাদ্য, কাপড়চোপড়, চিকিৎসা৷''

আমানুর আরও জানান, ‘‘শিশুরা সবচেয়ে কষ্টে আছে৷ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুশ'রও বেশি শিশু মারা গেছে৷ অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের অবস্থা সংকটাপন্ন৷ তাদের চিকিৎসার জন্য ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না৷ আর সেনিটেশন এবং খাবার পানির সংকট প্রচণ্ড৷ মাত্র ৩০টি নলকূপ দিয়ে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে৷'' রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় নেয়াই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি৷ বলেন, তাদের এক জায়গায় নেয়া না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে৷

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘অন্তত ২০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী চিহ্নিত করতে পেরেছি৷ আমরা চেষ্টা করছি তাদের নিরাপদে প্রসব করাতে৷ শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে৷ একজন এইচআইভি পজেটিভ পুরুষও পেয়েছি৷ এছাড়া ডায়রিয়া, নিউমোনিয়সহ নানাধরণের রোগে তারা আক্রান্ত হচ্ছে৷''

রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্প এলাকায় ৩২টি মেডিক্যাল টিম পালা করে কাজ করছে বলে জানান তিনি৷ বেসরকারি পর্যায়েও মেডিক্যাল টিম আছে৷ এর বাইরে উপজেলা, ইউনিয়ন এবং কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকেও তারা চিকিৎসা পাচ্ছে৷

জেলা প্রশাসন চাইছে কুতুপালং-এর কাছে বালুখালি এলাকায় সব শরণার্থীদের নিতে৷ আমানুর জানালেন সেটা সম্ভব হচ্ছে না৷ এখনো দুইটি নিবন্ধিত এবং ১৪টি অনিবন্ধিত ক্যাম্প ছাড়াও টেকনাফ, উখিয়া এলাকায় রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে আছেন৷ ত্রাণের আশায়ই মূলত তারা মহাসড়কে পাশে অপেক্ষা করছেন৷ আর তাদের জন্য থাকার প্রকৃতপক্ষে এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি বলে জানালেন আমানুর৷

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহিদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এ পর্যন্ত ঠিক কত ত্রাণ সহায়তা এসেছে তা বলা সম্ভব নয়৷ সরকারের পক্ষ থেকে খাবার রান্না করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে৷ এর বাইরে ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও ত্রাণ বিতরণ চলছে৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এক জায়গায় নিয়ে ত্রাণ বিতরণ সম্ভব হচ্ছে না৷ কারণ যেখানে তাদের নিতে চাই সেই বালুখালি যাওয়ার রাস্তা নেই৷ তাই তিনটি রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে৷ আমরা এখন ত্রাণ বিতরণের জন্য ১২টি স্পট নির্ধারণ করে দিয়েছি৷ জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ওই ১২টি স্পটে ত্রাণ বিতরণ করা যাবে৷''

আমানুর জানিয়েছেন, ‘‘রোহিঙ্গারা এমন সব দুর্গম এলকায় আশ্রয় নিয়েছেন যেখানে এখনো কোনো ত্রাণ যায়নি৷ বনের ভেতরও সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে৷''

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শান্তিতে নোবেলজয়ীদের কথা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও কট্টরপন্থি বৌদ্ধরা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে ওঠে গত অক্টোবর থেকে৷ সহিংসতার মুখে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ হাজার ছাড়িয়ে গেছে৷

রোহিঙ্গাদের দমন-পীড়ন বন্ধে ব্যর্থতার জন্য শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চির সমালোচনা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে৷ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও সু চি সমালোচনার মুখে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

এই আলোচনা-সমালোচনা এখন আর কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনের বিষয়বস্তু নয়৷ রোহিঙ্গা ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রত্যাশিতভাবেই শান্তির দূতরাও মুখ খুলতে শুরু করেছেন৷ তাঁদের কারও কারও কঠোর অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার৷ আবার অনেকেই এ ব্যাপারে রহস্যজনকভাবে একেবারেই মুখ খুলছেন না সেটাও সত্য৷ এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, নোবেলজয়ীদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠজনই সাহস দেখিয়েছেন সবার আগে৷ মালালা ইউসুফজাইয়ের পর একে একে ডেসমণ্ড টুটু, ড.মুহাম্মদ ইউনুসসহ অনেকে বিবৃতি দিতে শুরু করেন৷ 

এখন পর্যন্ত ১৩ নোবেল জয়ী এবং আরও ১৯ জন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চির সমালোচনা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে বিবৃতি পাঠিয়েছে৷ বিবৃতিতে স্বাক্ষদানকারী নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীদের মধ্যে আছেন, পূর্ব তিমুরের হোসে রামোস হোর্তা, উত্তর আয়ারল্যাণ্ডের মেইরিড মগুইয়ের, দক্ষিণ আফ্রিকার ধর্মযাজক ডেসমন্ড টুটু, কোস্টারিকার অস্কার আরিয়াস, ইরানের শিরিন এবাদি, বাংলাদেশের ড. মুহাম্মদ ইউনূস, পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাইসহ বেশ কয়েকজন৷

‘মানবতা যেখানে লঙ্ঘিত হচ্ছে এই রকম একটা দেশের নেতৃত্বে ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক একজন ব্যক্তির থাকা এখন খুবই বেমানান’

‘মানবতা যেখানে লঙ্ঘিত হচ্ছে এই রকম একটা দেশের নেতৃত্বে ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক একজন ব্যক্তির থাকা বেমানান’

সংকট সমাধানে শান্তিতে নোবেলজয়ী কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো

ডেসমন্ড টুটু

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সরকারের আচরণ নিয়ে নীরব ভূমিকায় থাকা দেশটির সরকারপ্রধান ও শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সাং সু চির সমালোচনা করেছেন আরেক নোবেল জয়ী ডেসমন্ড টুটু৷ সরকারের আচরণে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে হস্তক্ষেপ করতে সুচিকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান দক্ষিণ আফ্রিকার এই এমিরেটাস ধর্মযাজক৷

৭ সেপ্টেম্বর প্রিটোরিয়ায় নিযুক্ত মিয়ানমার দূতাবাসের মাধ্যমে সূচিকে দেয়া এক খোলা চিঠির মাধ্যমে এই আহ্বান জানান তিনি৷ চিঠিতে তিনি সু চিকে অত্যন্ত প্রিয় বোন হিসেবে উল্লেখ করেন৷ বলেন, ‘‘আমার ডেস্কে তোমার একটি ছবি থাকত আর সেই ছবির দিকে তাকিয়ে সব সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথাই ভাবতাম সব সময়৷''

রোহিংঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘‘নীরবতাই যদি মিয়ানমারের সর্বোচ্চ কার্যালয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক মূল্য হয় তাহলে এই মূল্য সত্যিই খুব চড়া৷''

‘‘রোহিঙ্গাদের দুঃখ-কষ্ট সবার মনে যন্ত্রণা আর ভয় ধরিয়ে দিয়েছে৷ মানবতা যেখানে লঙ্ঘিত হচ্ছে এই রকম একটা দেশের নেতৃত্বে ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক একজন ব্যক্তির থাকা এখন খুবই বেমানান৷''

‘‘এ সব ভয়ংকর চিত্র আসার সঙ্গে সঙ্গে আপনার জন্যও প্রার্থনা করছি, আপনি আবার ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও মানুষের মত্যৈক্য তৈরিতে কাজ করুন, হয়ে উঠুন স্পষ্টভাষী৷''

 

মালালা ইউসুফজাই

শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন৷ একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের পক্ষে মুখ খোলার জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানান৷

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মানবাধিকারকর্মী মালালা বলেন, ‘‘হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, এ অবস্থায় আমরা চুপ থাকতে পারি না৷''

মালালা বলেন, ‘‘এটি মানবাধিকার ইস্যু৷ সরকারের উচিত প্রতিক্রিয়া দেখানো৷ জনগণ ঘরহারা হচ্ছে৷ সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে৷ শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে সব ধরনের মৌলিক অধিকার থেকে৷ সহিংস অবস্থার মধ্যে তাদের বাস করতে হচ্ছে৷ এমন সহিংস অবস্থার মধ্যে বাস করাটা খুবই কঠিন৷ আমাদের উচিত এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং আমি আশা করব, অং সান সু চিও সাড়া দেবেন৷''

 

৩ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে এক টুইটে মালালা বলেন, ‘‘মুসলমানদের ওপর ওই অমানবিকতা হৃদয়বিদারক৷ মিয়ানমারের শিশুদের ছবি আমি দেখেছি৷ এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হয় না৷''

ড. মুহাম্মদ ইউনূস

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের সমস্যা দূর করতে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে খোলা চিঠি দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস৷ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও সদস্যদের উদ্দেশে ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় মানবিক ট্রাজেডি ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে৷ এ ব্যাপারে অবিলম্বে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন৷'

ড. মুহাম্মদ ইউনূস চিঠিতে জাতিসংঘের উদ্দেশে বলেন, ‘‘গত বছরের শেষে পরিস্থিতির বেশ অবনতি হলে বেশ কয়েকজন নোবেলজয়ী ও বিশ্বের বিশিষ্ট নাগরিকসহ আমি এ বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আপনাদের নিকট যৌথভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলাম৷ আপনাদের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি৷''

রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস চিঠিতে বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার ২০১৬ সালে যে রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিশন গঠন করেছিল, তার সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারকে উদ্বুদ্ধ করতে আপনারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন৷ এ জন্য আমার বিশেষ অনুরোধ৷''

সম্প্রতি টিআরটি ওয়ার্ল্ড নিউজে দেয়া সাক্ষাৎকারেও একই সুরে কথা বলেন তিনি৷

বারাক ওবামা

পরপর দুই মেয়াদে থাকা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শান্তিতে নোবেলজয়ীও বটে৷ শাসনকালে তো বটেই এখনও দুনিয়াব্যাপী তার ভক্ত অনুসারীর অভাব নেই৷ তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত মুখে একেবারে কলুপ এঁটেছেন শান্তির এই দূত৷

কোফি আনান

গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলার জেরে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করলে ডিসেম্বরে কোফি আনান মিয়ানমার সফর করেন৷ তিনি রাখাইন রাজ্যের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন কিউ, সশস্ত্র বাহিনীপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং লায়েং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির সঙ্গেও বৈঠক করেন৷

রাখাইন রাজ্যের জনগণের কল্যাণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ তৈরির জন্য মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি গত বছর জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনানকে প্রধান করে ওই পরামর্শক কমিটি গঠন করেন৷

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারকে পরিচয় যাচাইয়ে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় সেই কমিশন৷ এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়াসহ দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে একটি যৌথ কমিশন গঠনেরও সুপারিশ করা হয়৷ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া ও তাঁদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের অবাধে রাখাইন এলাকায় যাওয়ার জন্যও সুপারিশ করে কমিশন৷

তবে এখনও ওই কমিশন গঠনের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি মিয়ানমার৷

নোবেলজয়ী কোফি আনান এখন পর্যন্ত এই কমিশন নিয়ে কাজ করলেও এর বাইরে কোন মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেখাননি৷

শিরিন এবাদি

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া বিশেষ ব্যক্তিদের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন তিনি৷ এছাড়া সম্প্রতি ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শিরিন শান্তিতে নোবেলজয়ী আরেক ‘ফেলো' সু চির কঠোর সমালোচনা করেন৷ বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিষয়টিকে অবহেলা করছেন সু চি৷ তারপরও আমি বলবো, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য তিনি যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন৷''

পৃথিবীর বুকেও নিউক্লিয়ার হামলা চালাতে পারে মঙ্গল!

পৃথিবীর বুকেও নিউক্লিয়ার হামলা চালাতে পারে মঙ্গল!

 

মঙ্গলগ্রহে এক আদি সভ্যতা আছে যার নাম মার্টিয়ান সভ্যতা। সেই সভ্যতা নাকি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল আর এক ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের নিউক্লিয়ার আক্রমণে।

এমনটাই দাবি করছেন মার্কিন এক পদার্থবিজ্ঞানী।  

মঙ্গলের বুক থেকে মুছে গিয়েছিল মার্টিয়ান সভ্যতার নাম। মার্টিয়ার সভ্যতার প্রাণি, যাদের নাম ইউটোপিয়ানস ও সিডোনিয়ানস বলে দাবি করেছেন বৈজ্ঞানিকরা। তারা সেই নিউক্লিয়ার আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের জিনোসাইডের নিদর্শন নাকি আজও মিলবে মঙ্গলের বুকে।

নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে কয়েক বছর আগের এক তথ্য তুলে ধরছেন বৈজ্ঞানিকরা।  সে বছর মঙ্গলের বুকে এক থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরণের চিহ্ন দেখা যায়।  এখন মার্কিন পদার্থবিদদের দাবি, সেই নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ মোটেও প্রাকৃতিক নয়, বরং রীতিমত সামরিক পরিকল্পনামাফিক ঘটানো হয়েছিল। এখন মঙ্গলের মাটিতে ইউরেনিয়াম মেলায় সেই তথ্য আরও জোরদার হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, একসময় মঙ্গলে পৃথিবীর মতই আবহাওয়া ছিল। প্রাণি ও উদ্ভিদও ছিল লালগ্রহের মাটিতে। আর এখানেই বেঁধেছে বিপত্তি। মঙ্গলে এখন কোনও সভ্যতার অস্তিত্ব টিকে থাকলে তারা পাল্টা পৃথিবীর বুকে নিউক্লিয়ার আঘাত হানতে পারে। মঙ্গলে নানান অভিযান থেকে তারা পৃথিবী সম্পর্কে নানান খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করছে। যদিও এই আশঙ্কা এখনও হাইপোথিসিসের পর্যায়ে রয়েছে বলেই দাবি মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানীদের।

রোহিঙ্গাদের দোষী করতে ভুয়া ছবি প্রকাশ

মিয়ানমারের সংঘাতপ্রবণ রাখাইন অঞ্চল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন একদল বিদেশি সাংবাদিক৷ তাদের নিয়ে যাওয়া হয় এমন সব এলাকায়, যেখান থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেছে৷ তবে সাংবাদিকদের ধোঁকা দিতে গিয়ে ফেসেছে স্থানীয়রা৷

 

 

মিয়ানমারে আমন্ত্রিত বিদেশি সাংবাদিকদের রাখাইনে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে৷ তাঁদের স্বাধীনভাবে কোথাও যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা ছিল৷ নিষেধাজ্ঞা ছিল খুশিমতো কারো সঙ্গে কথা বলাতেও৷ তবে মিয়ানমার সরকার তাদের নিয়ে গেছে এমন সব এলাকায়, যেখান থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেছে৷ সেখানে কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল সাংবাদিকদের, যারা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন যে, রোহিঙ্গারা কার্যত স্থানীয় হিন্দুদের উপর হামলা চালিয়েছে৷ এবং নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে৷

স্থানীয় এক বৌদ্ধ বাসিন্দা সাংবাদিকদের কয়েকটি ছবি দেখান, যেখানে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছিল কমলা রংয়ের পোশাক পরা এক মহিলা একটি ঘরে আগুন দেয়ার পর দা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন৷ অপর ছবিতে সেই নারীর সঙ্গে ঘরে আগুন দিতে আরেক পুরুষকে দেখা যায়৷ স্থানীয় এক মঠাধ্যক্ষ এবং সেই বৌদ্ধ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ছবিতে দেখা মানুষরা রোহিঙ্গা এবং তারা নিজেরাই নিজেদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে৷

কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন সাংবাদিকরা ছবির সেই মানুষদের কাছেরই একটি স্কুলে আবিষ্কার করেন, যেখানে সহিংসতার শিকারদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে মিয়ানমার সরকার৷ বার্তা সংস্থা এপি এবং বিবিসি'র সাংবাদিকরা ছবিতে থাকা নারীকে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়৷ আর তাঁর সঙ্গে ছবিতে থাকা পুরুষটিও হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মিয়ানমারের নাগরিক৷ তাদের দু'জনের পরনে তখনও ছবিতে পরা পোশাকই ছিল৷

ধারনা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের উপর দোষ চাপাতে সাংবাদিকরা সেই এলাকায় যাওয়ার কিছু আগে ঘটনা সাজিয়ে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল৷ কিন্তু সাংবাদিকরা পরবর্তীতে ছবির মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে আবিষ্কার করায় সেটা আর সম্ভব হয়নি৷

তবে পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের ভয়াবহতা বোঝাতে অন্য ঘটনার ছবি রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের ছবি হিসেবে প্রকাশের অনেক ঘটনাও ঘটেছে৷ তার মধ্যে কোনো কোনো ছবি ইন্টারনেটে ভাইরালও হয়েছে৷ এই টুইটে রয়েছে সেরকম কিছু ছবি (গ্রাফিক কনটেন্ট):

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্টে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদেরহামলার পর সেখানে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী৷ এতে প্রাণ হারায় চার শতাধিক ব্যক্তি৷ আর সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী৷

Make Website

 

Quick Contact