দখল হয়ে যাওয়া ঢাকার প্রাচীন স্থাপনাগুলো বন্দি হলো ক্যামেরায়

পুরনো ঢাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা৷ এগুলো সংরক্ষণের সরকারি উদ্যোগ নেই, নেই প্রভাবশালীদের হাত থেকে দখলমুক্ত করার পথ৷ তাই ক্যামেরা হাতেই বেড়িয়ে পড়ি নিশ্চিহ্ন হতে থাকা স্থাপনাগুলোর ছবি তুলতে৷

পুরনো ঢাকার ফরাশগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে অন্যতম একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রূপলাল হাউস৷ ২০০৪ সালে প্রথম ছবি তুলতে যাই বাড়িটির৷ সামনে থেকে বাড়িটি খুঁজে বের করাই কঠিন৷ অনেক কষ্টে খুঁজে পেয়ে ভেতরে ঢুকি৷ বাড়িটি দখল করে ভেতরে গেঁড়ে বেসেছ বেশ কিছু মশলা আর সবজির আড়ৎ৷ ক্যামেরা দেখেই তখন তেড়ে এসেছিলেন এক ব্যবসায়ী৷ ধমকের সুরে তাঁর প্রশ্ন ছিল ‘এ সবের ছবি তুলে হবেটা কী?' অনেকটা ভয় পেয়েই সেখান থেকে বেড়িয়ে আসি৷ পরে বহু কষ্টে পাশের একটি ভবনের ছাদে উঠে সেবার ছবি তুলেছিলাম৷

রূপলাল হাউজ পুরনো ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা৷ ফরাশগঞ্জের রূপলাল দাস এবং রঘুনাথ দাস নামে ব্যবসায়ী দুই ভাই মিলে এটি নির্মাণ করেন৷ ১৮৪০ সালে তাঁরা আরাতুন নামে এক আর্মেনীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি পুরানো ভবন কিনে নেন৷ পরে কলকাতার মার্টিন কোম্পানির একজন স্থপতিকে দিয়ে রূপলাল হাউস তৈরির কাজ শেষ করেন তাঁরা৷ সে সময়ে ভবনটিকে জৌলুসের দিক থেকে আহসান মঞ্জিলের সঙ্গে তুলনা করা হতো৷ জানা যায়, ১৮৮৮ সালে লর্ড ডাফরিনের ঢাকা সফরকালে তাঁর সন্মানে বল-নাচের আয়োজন করা হয়েছিল৷ আর সেজন্য রূপলাল হাউজের হলঘরটি দু'দিনের জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন ইংরেজরা৷ ঢাকায় শুধু আহসান মঞ্জিল এবং রূপলাল হাউজেই বল নাচের উপযোগী হলঘর ছিল তখন৷

১৯৮৭ সালে দেশ বিভাগের সময় দাস পরিবারের সদস্যরা ভারতে পাড়ি জমান৷ এরপর থেকে মূল্যবান এ স্থাপনাটি দখল হতে থাকে৷ গত কয়েক বছর ধরে বাড়িটির কিছু অংশ সেনাবাহিনীর দখলে থাকলেও এখনো কিছু অংশ থেকে গেছে অবৈধ দখলে৷ এমনকি বাড়ির ভেতরে বাস করছে কিছু পরিবারও৷ গত বছরেও বাড়িটির ছবি তুলতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হই৷ অগত্যা উপায় না পেয়ে নৌকা ভাড়া করে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে বাড়িটার ছবি তুলি৷

এই হলো রূপলাল হাউসের বর্তমান অবস্থা৷ বিশাল এই ভবনটি এখন যেনধ্বংসের প্রহর গুনছে৷ অথচ কোনো সরকারই অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে স্থাপনাটি উদ্ধার করে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি৷

পুরনো ঢাকার আরেক ঐতিহাসিক স্থাপনা বড় কাটরা৷ স্থাপনাটির নামেই এখন জায়গাটির নাম৷ ২০১৩ সালে ছবি তুলতে যাই সেখানে৷ চকবাজার থেকে অলিগলি পেড়িয়ে বড়কাটরার তোরণটি খুঁজে পাই৷ অনেক খুঁজে ভেতরে যাবার পথও পেয়ে যাই৷ তবে হাতে ক্যামেরা দেখে ভেতরে ঢুকতে বাঁধা দেন বড় কাটরার উপরের দিকটা দখল করে থাকা মাদ্রসা কর্তৃপক্ষ৷ তবে মাদ্রাসার এক শিক্ষককে হাত করে ভেতেরে প্রবেশের অনুমতি পাই৷

বড় কাটরা

বড় কাটরা

প্রাচীন আমলের চুন-সুরকির সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠতে গিয়ে থমকে যাই আমি৷ হাতুরি আর শাবল দিয়ে দেয়ালের একটি অংশ ভাঙছিলেন একজন৷ তাঁর কাছ থেকে জানতে পারি, দেওয়াল ভেঙে দরজা বানানো হচ্ছে৷ এমন একটা পুরাকীর্তি নিয়ে ছেলেখেলা হচ্ছে অথচ সেটা দেখবার কেউ নেই!  মনে মনে খুব কষ্ট পাই৷

ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ একটি প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন এই বড় কাটরা৷ ১৬৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দে চকবাজারের দক্ষিণ পাশে বুড়িগঙ্গার তীরে সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজার নির্দেশে তৈরি হয়েছিল এটি৷ প্রথমে এতে শাহ সুজার বসবাসের কথা থাকলেও, পরে অবশ্য এটা ব্যবহৃত হয় মুসাফিরখানা হিসেবে৷ তারপর? যুগে যুগে শুধুই দখল হয়েছে স্থাপনাটি৷ নীচের দিকের বাইরের অংশটা বিভিন্ন দোকান আর ভেতরের অংশটা দখল করে বসবাস করছে কয়েকটি পরিবার৷ দখল হতে হতে বিশাল এ স্থাপনাটি আজ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর৷ এমনকি এর প্রধান তোরণটিও দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি৷

মোস্তাফিজুর রহমান

মোস্তাফিজুর রহমান, ডয়চে ভেলে

বড় কাটরার ছবি তোলা শেষ করে হাঁটতে থাকি ছোট কাটরার দিকে৷ সামান্য পথ৷ মিনিট পাঁচেকের মধ্যে পৌঁছে যাই৷ এ জায়গাটিও নাম পেয়েছে স্থাপনাটির নামে৷ কিন্তু সামনে গিয়েই আবারো মন খারাপ হয়ে যায়৷ এটার অবস্থাও বড় কাটরার মতোই৷ দখলের ভারে যেন নুয়ে পড়েছে স্থাপনাটি৷ বড় কাটরা নির্মাণের প্রায় ২০ বছর পর সুবাদার সায়েস্তা খান বড় কাটরার পূর্ব পাশে নির্মাণ করেছিলেন এই ছোট কাটরা৷ অনেকটা বড় কাটরার আদলে তৈরি, তবে আকারে ছোট এ স্থাপনাটিও বাংলাদেশের জন্য একটি মূল্যবান প্রত্ন সম্পদ৷ আজ অবশ্য এ স্থাপনাও পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে৷ আর এটাও উদ্ধার করে সংস্কার করার বড় কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি কখনোই৷

বড় কাটরার প্রায় দক্ষিণ বরাবর বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনা জিনজিরা প্রাসাদ৷ কালের পরিবর্তনে এটাও দখল হয়ে গেছে৷ বহু বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রাসাদ দখল করে রেখেছে৷ আগের তিনটি স্থাপনার অন্তত ছবি তুলতে পেরেছিলাম৷ কিন্তু জিনজিরা প্রাসাদেরতো ছবিই তুলতে পারিনি৷ আমার হাতে ক্যামেরা দেখে এগিয়ে এসেছিলেন কয়েকজন বখাটে যুবক৷ অনেকটা ধমকের সুরেই তারা বলে, ‘কী অইব এইসব ভাঙাচোরা দালানের ছবি তুইল্যা, ভাগেন তাড়াতাড়ি৷' ছবি না তুলেই শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে আমাকে পালাতে হয়েছিল৷

ছোট কাটরা

ছোট কাটরা

অথচ জিঞ্জিরা প্রাসাদের ইতিহাসও অনেক সমৃদ্ধ৷ জানা যায়, বাংলার মুঘল সুবাহদার দ্বিতীয় ইব্রাহিম খান (১৬৮৯-১৬৯৭) তাঁর প্রমোদকেন্দ্র হিসেবে প্রাসাদটি নির্মাণ করেন৷ এ প্রাসাদটি নিয়ে নানান কাহিনি প্রচলিত আছে লোকমুখে৷ নবাব সরফরাজ খানের (১৭৩৯-১৭৪০) পতনের পর তাঁর মাতা, স্ত্রী, বোন, পুত্র, কন্যাসহ হারেমের কিছু নারীকে নাকি এখানে বন্দি করা হয়৷ বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর আলীবর্দী খানের প্রধান রানি শরীফুন্নেসা, সিরাজের মা আমেনা বেগম, খালা ঘসেটি বেগম, সিরাজের স্ত্রী লুৎফুন্নেসা বেগম ও কন্যা কুদসিয়া বেগম ওরফে উম্মে জোহরাকে জিঞ্জিরা প্রাসাদে এনে কড়া পাহারায় রাখা হয়৷ জনশ্রুতি আছে, নবাব মীর জাফর আলী খানের পুত্র মীর সাদেক আলী খান ওরফে মীরনের নির্দেশে ঘসেটি বেগম ও আমেনা বেগমকে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে প্রাসাদ থেকে নৌকায় তুলে ধলেশ্বরী নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়৷

ঐতিহাসিকভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ এ সব স্থাপনা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে সরকার৷ কিন্তু ব্যর্থ কি আমরাও হইনি? এ তো আমাদেরই ইতিহাস, আমাদেরই ঐতিহ্য৷ এগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব কি আমাদেরও নয়? যারা এগুলো দখল করে রেখেছে, তাদের হাত থেকে ইতিহাসের এই স্মারকগুলোকে বাঁচানো কি আমাদেরও কর্তব্য নয়? আমরা কি সত্যিই পারি না এর জন্য জনমত গড়ে তুলতে?

পারি৷ আর তাই তো ক্যামেরাবন্দি করেছি এদের৷ এবার শুধু সরকারের সামনে আর্জি করার পালা৷ আপনারা আমার সঙ্গে আছেন তো? তা না হলে, স্থাপনাগুলো উদ্ধার করা না গেলে, অচিরেই যে এগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে৷

১৮৬০ সালেও ব্যবহৃত হত স্মার্টফোন!

১৮৬০ সালেও ব্যবহৃত হত স্মার্টফোন!

 

হাতে স্মার্টফোন। আর তাতেই মুখ গুঁজে আট থেকে আশি।

বাসে হোক কিংবা ট্রেনে সব জায়গায় দেখা যায় এই একই দৃশ্য। কিন্তু সেটাই যদি ১৮৬০ সালে দেখা যেত! শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই দাবি গ্লাসগোর বাসিন্দা পিটার রাসেলের।  

পিটার রাসেলের মতে, ওই সময় আঁকা একটি তৈলচিত্র দেখলে এমনটাই বোঝা যাচ্ছে যে, তখনকার দিনেও ব্যবহৃত হত স্মার্টফোন। তবে পরবর্তীকালে তার ভুল ভাঙে। ওই নারীর হাতে যে বই রয়েছে, সেটা বুঝতে পারেন। স্বীকার করে নেন নিজের ভুল।

সম্প্রতি মিউনিখের পিনাকোথেক মিউজিয়ামে রাখা একটি তৈলচিত্রে নজরে আসে অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তার। সেখানেই তিনি বিষয়টি আবিষ্কার করেন। পরে ছবিটি টুইটও করে জানান সে কথা।

আর তারপরই সোশ্যাল মিডিয়াতে মুহূর্তে ভাইরালও হয় তা।  

জানা গেছে, ১৮৬০ সালে তৈলচিত্রটি এঁকেছেন অস্ট্রিয়ান শিল্পী ফার্দিনান্দ জর্জ ওয়াল্ডমুলার। যেখানে দেখা যাচ্ছে, হাতে মোবাইলের মতো কিছু একটা ধরেই রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছেন এক নারী। কিন্তু এই বিষয়টি এতদিন ধরে কারও নজরে পড়েনি। শেষ পর্যন্ত ১৫৭ বছর পর সেটি নজরে আসে পিটারের। তার মতে, নারীর হাতে কোনও বই নয়, রয়েছে ফোন। যদিও পরে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন। জানান, না ফোন নয়, ওই মহিলার হাতে রয়েছে কোনও ধর্মগ্রন্থ।

এরপরই এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আজকের দিনে আমরা এতটাই প্রযুক্তির মধ্যে বাস করছি, যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দেয়। আমার জায়গায় ১৮৬০ কিংবা সম-সাময়িক কেউ থাকত, তাহলে সে বুঝত নারীর হাতে কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ রয়েছে। কিন্তু এখনকার দিনের কেউ সেটা ভাবতে পারবে না। তাদের কাছে মনে হবে কোনও যুবতী হাতে স্মার্টফোন নিয়ে হাঁটছেন। -সংবাদ প্রতিদিন।

‘রামপালে ক্ষতির বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নই'

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে তাতে ঠিক কী ধরনের ক্ষতি হবে সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি৷

default

মুকিত মজুমদার বাবু, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান

জার্মানির বন শহরে জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও এসেছেন সরকার, এনজিও এবং গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি৷ তাদের একজন মুকিত মজুমদার বাবু৷ বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি টেলিভিশন কেন্দ্র ‘চ্যানেল আইতে' ‘প্রকৃতি ও জীবন' নামের একটি পরিবেশ বিষয়ক অনুষ্ঠানের পরিচালক তিনি৷

জলবায়ু সম্মেলন কপ২৩-তে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিচ্ছেন তিনি৷ বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তিনি৷ এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘মারাকাস এবং বনে উৎসাহ উদ্দীপনা কম মনে হচ্ছে৷ প্যারিস এগ্রিমেন্টের পর ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে সম্মেলনটা হয়ত একটু নিষ্প্রভ হয়েছে৷''

মজুমদার অবশ্য আশাবাদী৷ তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র হিসেবে অ্যামেরিকা কপে না থাকলেও আমেরিকার জনগণ যে আছে সেটা ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে উঠছে৷ বনেও জলবায়ু সম্মেলনেও দেশটির একটি অনানুষ্ঠানিক প্যাভেলিয়ন রয়েছে৷

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পর উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইংল্যান্ডে কয়েকবছর কাটিয়েছেন মুকিত মজুমদার বাবু৷ বাংলাদেশি এবং পশ্চিমাদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতার মধ্যে ব্যবধানটা পরিষ্কারভাবেই বোঝেন তিনি৷ এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমা বিশ্বের আমাদের চেয়ে সচেতনতা বেশি৷ আমাদের দেশে আসলে দরিদ্রতার কারণে বিষয়টি ভিন্ন৷ মানুষ জীবনধারনের জন্য অনেক কিছু করছে৷ পুকুর ভরে ফেলছে, গাছ কেটে ফেলছে৷ আমরা যদি দরিদ্রতার হার কমিয়ে আনতে পারি তাহলে হয়ত সমস্যা কম হবে৷''

প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে পরিচিত মুকিত মজুমদারের কাছে বাংলাদেশের রামপালে ভারতের সহায়তায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়৷ পরিবেশবিদরা মনে করেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে যা পরিবেশের জন্য হবে বিপর্যয়কর৷ তবে মজুমদার এই বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘রামপালের বিষয়টি এখনো আমরা নিশ্চিত নই যে কী ধরনের ক্ষতি হবে কিংবা ক্ষতি হতে পারে৷ এটা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোন সিদ্ধান্তে আসা যায়নি এবং ইউনেস্কো আমি বলবো যে আগে যেধরনের সোচ্চার ছিল, এখন সেই ধরনের সোচ্চার নেই এ ব্যাপারে৷ সুতরাং আমাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে এটা জানতে যে আসলে কী হবে৷'' 

‘‘তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি যে, যেটা নিয়ে সন্দেহ থাকে, সেটা থেকে দূরে থাকাটাই ভালো,'' যোগ করেন তিনি৷ পাশাপাশি রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলেও মনে করেন এই টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব৷

'অক্টোবর বিপ্লব বৈষম্য-শোষণের অবসান ঘটিয়েছিল'

'অক্টোবর বিপ্লব বৈষম্য-শোষণের অবসান ঘটিয়েছিল'

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমেরিটার্স সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব মানুষে মানুষে যে বৈষম্য, যে শোষণমূলক সমাজব্যবস্থা ছিল তার অবসান ঘটিয়েছিল। এই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব মানুষকে দেখিয়েছে মুক্তির পথ।


চট্টগ্রামে অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রামের উদ্যোগে লাল পতাকা মিছিল, সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেল চারটায় লালদীঘি মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে মিছিল লাল পতাকা নিয়ে কোতোয়ালি-নিউমার্কেট প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভার। এরপর মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক আবুল মোমেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, বাংলাদেশ গণমুক্তি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন নাসু।  

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এই চট্টগ্রামে একদিন যুব উত্থান হয়েছিল। এই চট্টগ্রাম ৭১ এর বিপ্লবী সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এখানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আমরা এখানে আজ আরেকটি বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন করতে সমবেত হয়েছি। এই বিপ্লবের নাম অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। ’

দাঁড়িয়ে পানি পান করছেন, যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন আপনি?

দাঁড়িয়ে পানি পান করছেন, যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন আপনি?

 

পানির আরেক নাম জীবন। তবে এই জীবনকে গ্রহণ করার একটা নিয়ম রয়েছে।

অনিয়ম হলে এই জীবনের এই মূল উপাদানই মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে। বেশি করে পানি পান করার পরামর্শ চিকিৎসকরা দিয়েই থাকেন। কিন্তু কখন তা পান করা উচিত? আর কোন অবস্থায় পান করা উচিত? তা অনেকেই জানেন না। যেমন ধরুন তেষ্টা পেল আর দাঁড়িয়ে ঢকঢক করে পানি খেলেন, কিন্তু জানেন কী দাঁড়িয়ে পানি পান করে আপনি নিজের শরীরের কতটা ক্ষতি করছেন?
আমাদের শরীরে এমন অনেক ছাঁকনি রয়েছে যা পানির ক্ষতিকর উপাদানগুলিকে শুষে নেয়। দাঁড়িয়ে থাকলে এই ছাঁকনিগুলি সংকুচিত হয়ে থাকে। ফলে তা কাজ করতে পারে না। তাই দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করলে পানির ক্ষতিকারক উপাদানগুলি সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে।
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা তীব্র বেগে খাদ্যনালীর মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়ে সোজা নিম্ন পাকস্থলীতে ধাক্কা মারে। এর ফলে পাকস্থলী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে হজমের সমস্যা তৈরি হয়। ভবিষ্যতে যা বেশ বড় আকার নিতে পারে।
পানি কিডনিকে সচল রাখতে সাহায্য করে। একথা ঠিক। তবে একথাও ঠিক যে দাঁড়িয়ে পানি পান করা কিডনির পক্ষেও ক্ষতিকর। প্রবল বেগে যাওয়া জলের মধ্যে যে দূষিত পদার্থগুলি থাকে তা কিডনি পরিশ্রুত করতে পারে না। ফলে তা রক্তের সঙ্গে মিশে শরীরের ক্ষতি করে।
তাই সুস্থ থাকতে আগে বসে একটু বিশ্রাম নিন। একটু সময় নিয়ে বেশি করে পানি পান করুন। শরীর সুস্থ থাকলে মন ও সুস্থ থাকবে।

জিরা ভেজানো পানির অসাধারণ ৬ উপকারিতা

জিরা ভেজানো পানির অসাধারণ ৬ উপকারিতা

 

রান্না করা খাবারে জিরার ব্যবহার হয়েই থাকে। মূলত রান্নায় স্বাদ আনতেই ব্যবহার করা হয় জিরা।

কিন্তু এই জিরারও আরও বহু গুণ রয়েছে। তবে রান্নায় নয়, জিরা ভেজানো পানি খেলে আরও ৬ রকমের উপকারিতা পাওয়া যায়। জেনে নিন জিরা ভেজানো পানির অসাধারণ ৬ উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত-


১। জিরা পানির মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, এবং মিনারেল থাকে, যার ফলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়। এই পানি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়েরিয়া, বমি বমি ভাব দূর হয়।  

 

২। শরীরের থেকে টক্সিক উপাদান পরিষ্কার করতে এই জিরা পানির জুড়ি মেলা ভার। সারা রাত পানি ভিজিয়ে রাখুন জিরা। সকালে খালি পেটে খান।

এতে সারা দিন শরীর ঝরঝরে থাকে।  

৩। অম্বলের সমস্যা থাকলে জিরা ভেজানো পানি খান। এতে লিভার সুস্থ থাকে।  

 

৪। অনেকেই আছেন, যারা একটুতেই বিভিন্ন রোগের শিকার হন। তাদের জন্য জিরা পানি একদম যথাযথ টোটকা। কারণ, এতে ভিটামিন এ এবং সি থাকে।  

 

৫। এই পানি নিয়মিত খেলে অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাবেন।  

৬। নিয়মিত জিরা পানি খেলে অতিরিক্ত ওজন এবং মেদ কমবে।

Make Website

 

Quick Contact