নতুন করে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নতুন করে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

 

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া। চলছে পারমাণবিক যুদ্ধের পাল্টাপাল্টি হুমকি আর ভয়ঙ্করসব মহড়া। তারই অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কিমের দেশের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই ধারাবাহিকতায় উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

নতুন এ নিষেধাজ্ঞাকে 'উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা' অ্যাখ্যা দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসনের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কনজারভেটিভ পলিটিকাল কনফারেন্সেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কথা বলতে পারেন বলে জানা গেছে।

এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় কী থাকবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি। তবে শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত জানাবে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

নিউ ইয়র্কে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলা


যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক একটি সদা জাগ্রত নগর। এখানে বসবাস করছেন বহু ভাষাভাষী মানুষ। এ তালিকায় আছে পাঁচ লাখের মতো বাংলাদেশিও। বহু ভাষাভাষীর এ নগরে ইংরেজির পর সরকারি-বেসরকারিভাবে দাফতরিক ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে স্প্যানিশ। তবে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলা ভাষাও। নিউ ইয়র্কের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ব্যালটে ব্যবহার হয়েছে বাংলা। ভাষার মাসে স্বীকৃতি মিলেছে নিউ ইয়র্কের স্কুলগুলোতে বাংলা ভাষা অন্তর্ভুক্তিকরণের। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিলবোর্ডে দেখা মেলে বাংলার। ডিপার্টমেন্ট অব মটর ভেহিক্যালের (ডিএমভি) লার্নার পরীক্ষায় দেওয়া যাচ্ছে বাংলায়। এছাড়া কিছু দিন আগে ট্যাক্সি ও লিমোজিন কমিশনও (টিএলসি) বাংলা ভাষায় পরীক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেছে।

নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসীরা বলছেন, এধারা অব্যাহত থাকলে একদিন বাংলা নিউ ইয়র্কের দাফতরিক ভাষার জায়গা করে নেবে।

নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী বলেন, ‘গত ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি নির্বাচন। এতে বাংলাদেশি ভোটারদের সম্পৃক্ততা বাড়ার কারণে কর্তৃপক্ষ বাংলায় ভোটার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল। কারণ, দিন দিন মূল ধারার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশিরা।’

নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক পরিচয়’-এর সম্পাদক নাজমুল আহসান বলেন, ‘নিউ ইয়র্কের দফতরগুলোতে বাংলা ভাষার প্রচলন বাড়ছে। দেড় দশকের বেশি আগে বাংলা প্রচলন শুরু হয়েছিল শিক্ষা বিভাগে। ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়েছে নিউ ইয়র্কের অন্যান্য সরকারি দফতরে। সবখানেই গুরুত্বের সঙ্গে স্থান করে নিয়েছে ভাষা বাংলা। অনেক দিন ধরেই সিটির বেশকিছু হাসপাতালে, বিশেষ করে বাংলাভাষী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাংলার ব্যবহার চালু হয়েছে। প্রবেশপথে লেখা হয়েছে “স্বাগতম”। রিসেপশন কাউন্টারে লেখা হয়েছে “অভ্যর্থনা”। অন্যান্য নির্দেশনাও বাংলায় লেখা আছে।’

শুধু দৃশ্যমানভাবেই নয়, বিভিন্ন অফিস ও নিউ ইয়র্ক সিটির বিভিন্ন দফতরে বাংলাভাষীদের সুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ‘ইন্টারপ্রিটেশন’ ব্যবস্থায়। এই ব্যবস্থায় অন্যান্য ভাষার পাশাপাশি এখন পাওয়া যাচ্ছে বাংলা দোভাষী। ইংরেজি বলতে অক্ষম বা ইংরেজিতে স্বল্পজ্ঞানসম্পন্ন বাংলাভাষীদের জন্য কাজ করছেন এই দোভাষীরা। তারা বাংলা থেকে ইংরেজিতে এবং ইংরেজি থেকে বাংলায় ভাষান্তর করে দিচ্ছেন।

কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মাজেদা উদ্দিন বলেন, ‘আরও কিছু ভাষার পাশাপাশি দাফতরিক কাজে সরকারিভাবে বাংলার প্রথম প্রচলন করেছিল সিটির শিক্ষা বিভাগ। তাদের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন স্কুলে বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের সংখ্যার দিকে লক্ষ্য রেখে গৃহীত হয়েছিল তাদের এই উদ্যোগ। ২০০১ সালে তাদের তৈরি সিটির স্কুল শিক্ষাব্যবস্থার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্রে প্রথম সংযোজিত হয়েছিল বাংলা ভাষা। প্রামাণ্যচিত্রের প্রারম্ভেই অন্য ভাষার সঙ্গে সঙ্গে একজন বাংলাদেশি শিক্ষিকাকে দিয়ে বলানো হয়েছিল “স্বাগতম”।’

শিক্ষা বিভাগের পথ ধরে সিটির অন্যান্য দফতরও এগিয়ে এসেছে এই উদোগে। প্রথম প্রথম কিছু ভুল শব্দ, ভুল বানান বা ভুল প্রয়োগের ঘটনা ঘটলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভুল দূর হয়ে যাচ্ছে। এখন নির্ভুল ও চমৎকার ভাষায় এবং সুন্দর হরফে বাংলা বিজ্ঞপ্তি, ঘোষণা ইত্যাদি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসের বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তিতে শুদ্ধ ভাষায় বাংলার প্রয়োগ হচ্ছে। তাদের বিজ্ঞপ্তির ১১টি ভাষার মধ্যে বাংলা একটি। তাদের একটি বিজ্ঞপ্তির বাংলা এরকম, ‘আপনি কি বাংলায় কথা বলেন? অনুগ্রহ করে বসুন। আমি আপনার জন্য একজন দোভাষী ডাকবো।’ শুদ্ধ বানানে সুন্দর ভাষায় লেখা বিজ্ঞপ্তিটি প্রশংসনীয় হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব মোটরভেহিক্যালস (ডিএমভি) ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পরীক্ষা বাংলায় দেওয়ার সুবিধা চালু করেছে।
আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি দর্পণ কবীর বলেন, ‘অতি সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলে বাংলাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মহান ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারির শুরুতে নিউ ইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য শিক্ষা বিভাগের এই ঘোষণা একটি বড় সুসংবাদ হিসেবে এসেছে। এ ঘোষণার ফলে বাংলাভাষী শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে।’

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক সিটির স্কুল চ্যান্সেলর কারমেন ফারিনা এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশি অভিভাবক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্ক স্কুল সিটির চ্যান্সেলর কারমেন ফারিনা বাংলাকে নিউ ইয়র্কের এক হাজার ৮০০ স্কুলে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘দ্বিভাষিক ক্লাসে শিশুরা নিজেদের ভাষার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।’

নির্দেশিকায় অন্য ভাষার পাশাপাশি রয়েছে বাংলাওনিউ ইয়র্কের স্কুল চ্যান্সেলরের ঘোষণাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা নিদিয়া ভ্যালেসকুয়েজ। তিনি বলেছেন, ‘নিউ ইয়র্ক সিটির বাসায় মা-বাবা যে ভাষায় কথা বলেন, সেই ভাষাকে ক্লাসে গুরুত্ব দেওয়ায় শিশুরা আমেরিকান ভাষার প্রতি আরও উৎসাহিত হবে। বহুজাতিক এই সিটি তথা আমেরিকার ঐতিহ্যকে মহিমান্বিত করতে শিশুরাও অপরিসীম ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’
নিউ ইয়র্ক সিটি এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের অধীনে পাবলিক স্কুলের শিক্ষক শাহেনা বেগম বলেন, ‘নিউ ইয়র্কের এক হাজার ৮০০ স্কুলে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলার অন্তর্ভুক্তি এক বিরাট অর্জন। এর ফলে প্রবাসী শিশুরা মাতৃভাষায় কথা বলা ও লেখার সক্ষমতা অর্জন করবে। এটি বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।’

পাবলিক স্কুলের অ্যাসিসট্যান্ট টিচার সাদিয়া খন্দকার বলেন, ‘বাংলাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা ঐতিহাসিক।’

এদিকে বাংলা ভাষার গুরুত্ব অনুধাবন করছে নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে বড় বোরো কুইন্স। এ কারণে কুইন্স বোরো প্রেসিডেন্ট ম্যালিন্ডা কাটজ জ্যামাইকার ক্যাপটেন টিলি পার্কে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।

নিউ ইয়র্কে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য জ্যামাইকা-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল। সংগঠনটি পাঁচ বছর আগে কুইন্স বোরো প্রেসিডেন্টের কাছে এ দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করে। তখন মেলিন্ডা কাটস কুইন্সে একটি স্থায়ী শহীদ নির্মাণে বাংলাদেশিদের প্রতিশ্রুতি দেন।

ম্যালিন্ডা সেই সময় বলেছিলেন, তিনি বোরো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে শহীদ মিনার স্থাপনের ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। এর পর থেকে ধীর গতিতে হলেও শহীদ মিনার নির্মাণের প্রক্রিয়া এগোতে থাকে।

জ্যামাইকার হাইল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ে ১৬৫ ও ১৬৭ স্ট্রিটের মাঝখানে ক্যাপটেন টিলি পার্কে স্থায়ী শহীদ মিনারটি নির্মিত হবে।
এবিষয়ে জ্যামাইকা-বাংলাদেশে ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এনিয়ে আমরা দাবি জানিয়ে আসছিলাম। স্থায়ী শহীদ মিনারটি হলে বাংলাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে ভাষার জন্য যে বাঙালি জীবন দিতে পারে, সেটি প্রবাসের নতুন প্রজন্মসহ অন্য কমিউনিটিকেও জানানো সম্ভব হবে। এতে করে প্রবাসে বাংলা ভাষার কদর বাড়বে বহু গুণ।’ বাংলাট্রিবিউন

শিক্ষকদের হাতে অস্ত্র দিতে চান ট্রাম্প

শিক্ষকদের হাতে অস্ত্র দিতে চান ট্রাম্প

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এক স্কুলে গুলি চালিয়ে ১৭ জনকে হত্যা করেছে নিকোলাস ক্রুজ (১৯) নামে এক যুবক। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে গুলি চালানোর ১৮তম ঘটনা এটি। ফলে স্কুলে ঢুকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা বন্ধে শিক্ষকদের হাতে অস্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

অথচ স্কুলে গুলির ঘটনায় ১৭ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে যখন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে, তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন প্রস্তাব এল। খবর-বিবিসির।

 

ট্রাম্প বলেছেন, শিক্ষকের হাতে বন্দুক থাকলে খুব দ্রুতই তিনি যে কোনো হামলা ঠেকিয়ে দিতে পারবেন।

 

হোয়াইট হাউজে মার্জরি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলের এক দল শিক্ষার্থীর সাথে সাক্ষাৎকালে বুধবার তিনি বলেন, 'অস্ত্রের ক্রেতাদের ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা খুব কঠোরভাবে পরীক্ষা করে দেখব। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেব।'

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক হাই স্কুলে গুলি চালিয়ে ১৭ জনকে হত্যা নিকোলাস ক্রুজ নামে এক যুবক। ওইদিন স্কুল ছুটির কিছু সময় আগে মার্জরি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১৪ শিক্ষার্থী ও আরও তিনজনকে হত্যা করে। ঘটনার কিছু সময় পরই ক্রুজ আটক হন; ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হলে সেখানেই পুলিশ তার স্বীকারোক্তির কথা জানায়।

অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে লাগাতার আন্দোলন

এক সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে, এখনো অস্ত্রের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চলছে অ্যামেরিকায়৷ নেতৃত্বে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা৷ আন্দোলনের সামনে সামান্য হলেও মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন প্রশাসন৷

এতদিন ধরে রাজনীতিকরা যা করে উঠতে পারেননি, ফ্লোরিডার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা তা করে দেখাতে পারছে৷ ফ্লোরিডার স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার এক সপ্তাহ পরও অ্যামেরিকার রাস্তায় লাগাতার অস্ত্রবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা৷ তাদের বক্তব্য, রাজনীতিকরা তাদের বক্তব্যে সাড়া না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন বন্ধ হবে না৷

মার্কিন মুলুকে বন্দুকধারীর হামলা নতুন কিছু নয়৷ প্রতিবছরই  স্কুল-কলেজে এমন হামলার ঘটনা ঘটে৷ গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় যে ঘটনা ঘটেছে, তা তেমনই এক বিষয়৷ এর জেরে ১৭ জনের প্রাণ গিয়েছে৷ নিহতদের অধিকাংশই ছাত্র৷ সাধারণত এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের তরফ থেকে দু'টি কাজ করা হয়৷ এক, রাজনীতিকরা ঘটনার নিন্দা করেন এবং ছাত্ররা যাতে সুরক্ষিত থাকেন, সে বিষয়ে আইন তৈরির আশ্বাস দেন৷ দুই, ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ৷ অর্থাৎ, অস্ত্রের খোলা বাজার ঘটনার জন্য দায়ী নয়, দায়ী অভিযুক্তের মানসিক অস্থিতিশীলতা৷ প্রতিবারই ঘটনার পর সামান্য কিছু প্রতিবাদ হলেও সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই সকলে তা ভুলে যান৷

কিন্তু এবারের পরিস্থিতি খানিক অন্যরকম৷ ফ্লোরিডায় যেদিন ঘটনাটি ঘটে, সেদিন বিকেল থেকেই ছাত্র-ছাত্রীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকে এবং প্রতিবাদ শুরু হয়৷ একদিনের মধ্যে সেই প্রতিবাদ বড় আকার ধারণ করে৷ অ্যামেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীরাও প্রতিবাদে শামিল হয়৷ যোগ দেয় বেশ কিছু মানবাধিকার সংগঠন৷ তাদের প্রত্যেকেরই দাবি, সুরক্ষার অধিকার রয়েছে সমস্ত নাগরিকের৷ ফলে, অবিলম্বে অস্ত্রের খোলা বাজার বন্ধ করতে হবে৷

এদিকে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক দলগুলির যোগাযোগ আর গোপন নেই৷ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন অস্ত্র উৎপাদনকারী সংস্থা রাজনৈতিক দলগুলিকে অর্থ সাহায্য করে বলেও অভিযোগ৷ ফলে কোনো রাজনৈতিক দলই সরাসরি অস্ত্র নিষিদ্ধের পক্ষে কথা বলে না৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অস্ত্রের খোলা বাজারের পক্ষে সওয়াল করেছেন অতীতে৷ তিনি বিশ্বাস করেন, নিরাপত্তার জন্য নাগরিক অস্ত্র কিনতেই পারেন৷

USA Präsident Trump - Florida Shooting (Reuters/L. Millis)

ফ্লোরিডার স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের সামনে খানিক মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প৷

কিন্তু ফ্লোরিডার স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের সামনে খানিক মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্টও৷ সম্প্রতি তিনি একটি আইন কার্যকর হওয়ার জন্য সই করেছেন৷ সে আইনে বলা হয়েছে, অটোমেটিক অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম আর খোলা বাজারে পাওয়া যাবে না৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত গোটা বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা৷ নাগরিকদের দাবি, সমস্ত অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে হবে৷ সেখানে কোনো বাছাই চলবে না৷ এখন দেখার, অদূর ভবিষ্যতে ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে মার্কিন প্রশাসন আরো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না৷

মিশায়েল ক্নিগে/এসজি

'ফলাফল দেখে রাশিয়ানরা হাসছে'

'ফলাফল দেখে রাশিয়ানরা হাসছে'

 

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে আবারও উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তদন্তের এই ফলাফল দেখে রাশিয়ানরা হাসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ব্যাপারে রবিবার টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার লক্ষ্য যদি হয় যুক্তরাষ্ট্রে বিরোধ বা গোলামাল সৃষ্টি করা তাহলে তো তারা সফলতা পেয়েছে। তারা সেটা করতে সক্ষম হয়েছে। তদন্তে এমন প্রমানই পাওয়া গেল। এতে বোঝা যায়, যতো শুনানি আর তদন্ত সবই বৃথা। পাশাপাশি, হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার কোনো যোগসাজস ঘটেনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপে ১৩ জন রাশিয়ানের বিরুদ্ধে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) তদন্তে অভিযোগ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে- তিন রাশিয়ান কোম্পানির বিরুদ্ধেও। যারা ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচন প্রভাবান্বিত করতে কাজ করেছে। 

সূত্র: সিএনএন

Make Website

 

Quick Contact