আফগানিস্তানে দুটি গণকবরের ৩৬টি মৃতদেহ উদ্ধার

আফগানিস্তানে দুটি গণকবরের ৩৬টি মৃতদেহ উদ্ধার

 

আফগানিস্তানের সার-ই পুলের মির্জা ওলাং গ্রামে দুইটি গণকবরে থেকে অন্তত ৩৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলের প্রদেশ সার-ই পুলের মির্জা ওলাং গ্রামে জঙ্গি হামলায় অন্তত ৬২ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সেখানে একটি গণকবরে ২৮টি এবং আরেকটিতে আটটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ আমানি। তিনি বলেন, নিহত সবাই পুরুষ এবং তাদের অধিকাংশকেই শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে।

তালেবানের পক্ষ থেকে যৌথ ভাবে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, তারা কোনও বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেনি। তবে সোমবার আইএস এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ৫৪ শিয়া মুসলিমকে হত্যা করার কথা স্বীকার করা হয়েছে।

মির্জা ওলাং গ্রাম থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান কয়েকজন সাংবাদিকদের বলেন, তারা হামলাকারীদের হাতে তালেবানের সাদা এবং আইএস এর কালো উভয় পতাকাই দেখেছে।

সীমান্তে চীনা ফাইটার জেটের দাপটে চিন্তিত ভারত

সীমান্তে চীনা ফাইটার জেটের দাপটে চিন্তিত ভারত

 

ভারত-চীন সীমান্তে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে। এরই জের ধরে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে বাড়ল চীনা ফাইটার জেটের দাপট।

জানা যায়, তিব্বতের লাসায় কয়েকটি চীনা ফাইটার জেট মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবারই দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পাথর ছোঁড়াছুড়ি হয়েছে। লাদাখে নিজেদের সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করলে চীনা সেনাকে বাধা দেয় ভারতীয় সেনারা। এরপর ভারতীয় সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে চীনের সেনাবাহীনী। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। এরপরে বেশ কিছুক্ষণ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন বলেও জানা যায়। এরপরেই তিব্বতে চীনা এয়ারফোর্স মোতায়েন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েকদিন ধরেই ডোকলাম ইস্যু আর চরম আকার নিতে শুরু করেছে। এরপর ভারত কী পথ বেছে নেবে, সেটাই প্রশ্ন।  প্রায় গত দু’মাস ধরে সিকিম সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনী প্রায় মুখোমুখি অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। কারও এক পা’ও সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সংবাদ সূত্রে বলা হয়, ভারতের ৭১তম স্বাধীনতা দিবসে মঙ্গলবার সকাল ৬টা-৯টার মধ্যে লাদাখের ফিঙ্গার ফোর ও ফিঙ্গার ফাইভ এলাকা দিয়ে দুইবার সীমান্ত ডিঙানোর চেষ্টা করে পিএলএর সেনারা। কিন্তু ভারতের সতর্ক সেনাদের প্রতিরোধে তাদের চেষ্টা উভয়বারই ভণ্ডুল হয়ে যায়।
মানববন্ধন তৈরি করে চীনা সেনাদের সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করে ভারতীয় সেনারা। বাধার মুখে ভারতীয় সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে তারা। জবাবে ভারতীয় বাহিনীও পাথর ছোঁড়ে। এসময় উভয় বাহিনীর কয়েকজন আহত হন। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় উভয় দেশের কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে দুই দেশের বাহিনী পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ডোকালাম সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর টানা অবস্থানের মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটল। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি নয়াদিল্লিতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র।

প্রসঙ্গত, ডোকালাম এলাকার মালিকানা দাবি করে আসছে ভারত ও চীন উভয়েই। ফিঙ্গার ফোরে চীন একটি সড়ক নির্মাণ করেছে, যা দুই দেশের সীমারেখা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। পানগং হৃদের উত্তর ও দক্ষিণ পাড় টহলের জন্য ব্যবহার করে থাকে চীন। এই হৃদের ৪৫ কিলোমিটার পাড় ভারতের এবং ৯০ কিলোমিটার পাড় চীনের মধ্যে পড়েছে। এই হৃদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যা এখনও বিদ্যমান।

পাকিস্তানের প্রকৃত রোগীদের মেডিকেল ভিসা দেবে ভারত

পাকিস্তানের প্রকৃত রোগীদের মেডিকেল ভিসা দেবে ভারত

 

পাকিস্তানের প্রকৃত রোগীদের মেডিকেল ভিসা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনে যাদের আবেদন জমা পড়ে আছে তাদের এ ভিসা দেয়া হবে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা দিবসের শুভ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমরা পাকিস্তানের
প্রকৃত রোগীদের মেডিকেল ভিসার আবেদন অনুমোদন করবো।  

ভারতের ৭০তম স্বাধীনতা দিবসে এক টুইট বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

সুষমার এ ঘোষণা পাকিস্তানের রোগীদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

পরমাণু চুক্তি পরিত্যাগ করার হুমকি দিল ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি মঙ্গলবার সংসদে বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তরোত্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করলে, ইরান ‘কয়েক ঘণ্টার মধ্যে' পরমাণু চুক্তি পরিত্যাগ করতে পারে৷

ইরানি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ঐ ভাষণে রুহানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বলেন, ‘‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও জোরজবরদস্তি ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা ওদের আগের প্রশাসনগুলিকে আলাপ-আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে৷ ওরা যদি (আগের) সেই অভিজ্ঞতায় ফেরৎ যেতে চায়, তাহলে খুব স্বল্প সময়ে – কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস নয়, বরং কয়েক ঘণ্টা কি দিনের মধ্যে আমরা আরো জোরালো ভাবে আমাদের পূর্বতন অবস্থানে প্রত্যাবর্তন করব৷''

ট্রাম্প আসা যাবৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের জন্যই নয়, বরং ওয়াশিংটনের মিত্রদেশগুলির পক্ষেও এক অনির্ভরযোগ্য সহযোগী বলে প্রমাণিত হয়েছে, বলেন রুহানি৷ ‘‘সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বিশ্ব দেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে জিসিপিওএ (পরমাণু চুক্তি)-র আঙ্গিকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহ একটানা ও বারংবার ভঙ্গ করা ছাড়াও, একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি উপেক্ষা করেছে ও (যুক্তরাষ্ট্রের) মিত্রদের দেখিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভালো সহযোগী কিংবা আপোশের জন্য নির্ভরযোগ্য অংশীদার নয়,'' রুহানি মন্তব্য করেন৷ 

পরমাণু চুক্তি পরিত্যাগ করার পর ইরান কী ধরনের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কার্যকরি করার ক্ষমতা রাখে, রুহানি তাঁর ভাষণে সে কথার কোনো উল্লেখ করেননি৷ অপরদিকে রুহানি তাঁর হুমকিকে কিছুটা নরম করেন এই বলে যে, ইরান পরমাণু চুক্তিতে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে আগ্রহী৷

মার্কিন কংগ্রেসের বিল ও জাতিসংঘের প্রস্তাব

আগস্ট মাসের গোড়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে উত্তরোত্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত মার্কিন কংগ্রেসের বিলটিতে স্বাক্ষর করেন৷ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল এই বিলের লক্ষ্য৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটিকে ভঙ্গ করেছে৷ ২০১৫ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য ও জার্মানি, এবং ইরানের মধ্যে যে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, জাতিসংঘের প্রস্তাবটিতে তা অনুমোদন করা হয়েছে৷ প্রস্তাবে ইরানের প্রতি আণবিক বোমা বহণে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত পরীক্ষানিরীক্ষা বা কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হলেও, সে ধরনের গতিবিধি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি৷ইরানের

US-Präsident Donald Trump

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, ইরান পরমাণু চুক্তির আদর্শ অনুসরণ করে চলছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না৷

ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘণ করেছে, এই কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে  ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করে – যার ফলশ্রুতি স্বরূপ মার্কিন ট্রেজারি জুলাই মাসের শেষে ছ'টি ইরানি শিল্পসংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করে, কেননা এই সংস্থাগুলি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বিকাশে সাহায্য করেছে৷ বস্তুত ইরান এমন একটি রকেট পরীক্ষা করেছিল, যা একটি কৃত্রিম উপগ্রহকে কক্ষপথে স্থাপন করতে সক্ষম৷

ইরানের মতে তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জাতিসংঘের প্রস্তাব ভঙ্গ করে না – অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে সব নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করেছে, তা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির বিরোধী৷

ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন যে, ইরান পরমাণু চুক্তির আদর্শ অনুসরণ করে চলছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না৷ অপরদিকে ইরান সংসদে রুহানির মন্তব্য সম্ভবত শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং সেই সঙ্গে স্বদেশে কট্টরপন্থিদের ঠান্ডা করার একটা প্রচেষ্টাও বটে – বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা৷

এসি/ডিজি (রয়টার্স, এপি, এএফপি)

কেনিয়ায় ভোটের পর ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা

কেনিয়ায় ভোটের পর ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা

 

কেনিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পরপরই এর পক্ষে-বিপক্ষে জনগণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও সহিংসতা করেছে। খবর এএফপি’র।

একদিকে ভুভূজেলা বাঁশি বাজিয়ে এবং পতাকা উড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে বিরোধী সমর্থকরা ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতা শুরু করে।  

পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে এ নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
বিরোধী প্রবীণ নেতা রাইলা ওডিঙ্গার বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করে।

কেনিয়ায় ২০০৭ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার এক দশকের পর আবার একটি নির্বাচনকে কেন্দ্রকরে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে। ওই নির্বাচনের পর জাতিগতভাবে বিভক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দুই মাস ধরে রক্তক্ষয়ী সহিংসতা হয়। এসব সহিংসতায় ১ হাজার ১শ’ লোকের প্রাণহানি ও ছয় লাখ লোক গৃহহীন হয়ে পড়ে।  

কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কিসুমু নগরীতে একজন বিক্ষোভকারী বলেন, ‘তারা কেন নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি করছে। এসব নিরীহ মানুষ তাদের মনভাব প্রকাশ করছে মাত্র?’

তিনি আরো বলেন, ‘কেন তারা উহুরুকে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে?’ 

ওডিঙ্গা দাবি করেছেন যে নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে জোর করে তাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। এর পরপরই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।  

টেলিভিশনে ভোটের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পরপরই কিসুমুর কোন্ডেলে এলাকার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

কিসুমুর বিক্ষোভ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিসহ অন্যান্য নগরীগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।

Make Website

 

Quick Contact