জার্মানি জুড়ে জৈব চাষের হিড়িক

আর রাসায়নিক নয়, খাদ্য হোক বিষমুক্ত৷ জৈব৷ জার্মানিরও এখন এটাই স্লোগান৷ জার্মানির বিভিন্ন শহর জৈব খাবারের প্রতি নাগরিকের আকর্ষণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে৷

সুকুমার রায় লিখেছিলেন, ‘‘বয়স বাড়তির দিকে না, কমতির দিকে?'' এই সময়ে থাকলে তিনি লিখতেই পারতেন, সভ্যতা বাড়তির দিকে না, কমতির দিকে? এক সময় প্রথম বিশ্বের সভ্যতা মনে করতো, রাসায়নিক সার ব্যবহার করে কম জায়গায় বেশি ফসল উৎপাদনই সভ্যতা৷ সময় বদলে গেছে, ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল এবং জার্মানির বিভিন্ন শহর জৈব ফসল এবং খাবারের দিকে মন দিয়েছে৷ গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে ফসলের দ্রব্যগুণ তো নষ্ট হচ্ছেই, পাশাপাশি বাড়ছে নানারকম রোগের প্রকোপ৷ ফলে গত কয়েক দশক ধরে ইউরোপ ক্রমশ জৈব খাদ্যের দিকে ঝুঁকেছে৷ জার্মানির বেশ কয়েকটি শহর যা অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে৷ এর মধ্যে অন্যতম ন্যুরেমবার্গ৷ প্রত্যেক বছর সেখানে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের হাতে একটি হলুদ রঙের টিফিনবক্স ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ তার মধ্যে থাকে জৈব ফসল থেকে তৈরি খাবার৷ বছরের প্রতিদিনই সেই টিফিন বক্সে শিশুদের জৈব খাবার দেওয়া হয়৷ শিশুদের বাবা-মায়েরা যাতে জৈব খাদ্যের দিকে আকৃষ্ট হন, সে কারণেই এ ব্যবস্থা৷

শুধু স্কুলেই নয়,  হাসপাতাল, সংশোধনাগার এবং কোনো কোনো সরকারি দপ্তরেও একই কাজ করা হচ্ছে৷ শহরের প্রশাসনের বক্তব্য, দ্রুত ন্যুরেমবার্গকে একটি জৈব শহরে পরিণত করাই তাদের লক্ষ্য৷

শুধু ন্যুরেমবার্গ নয়, জার্মানির অন্যান্য শহরেও একই কাজ শুরু হয়েছে৷ অনেকের কাছেই ন্যুরেমবার্গ মডেল৷ মিউনিখ, ব্রেমেনের মতো শহরেও জৈব খাদ্যের দিকে যথেষ্ট নজর দেওয়া হচ্ছে৷ বাতিল হয়ে যাওয়া কারখানার জমিতে জৈব ফসলের চাষ শুরু হয়েছে বহু এলাকায়৷ বাড়িতে বাড়িতেও জৈব পদ্ধতিতে ফল কিংবা সবজি ফলানোয় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে৷

পিছিয়ে নেই বার্লিনও৷ জার্মানির রাজধানী শহরে চাষের জমি নেহাতই অপ্রতুল৷ শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাই ছোট ছোট বাগান তৈরির ব্যবস্থা করছে কোনো কোনো সংস্থা৷ নাগরিকেরা সেখানে গিয়ে জৈব পদ্ধতিতে ফল এবং সবজির গাছ লাগাতে পারবেন৷ বস্তুত, ইতিমধ্যেই বিষয়টি নাগরিকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে বলে সূত্রের খবর৷ এ ধরনের উদ্যোগ আরো বেশি গ্রহণ করার কথাও ভাবা হচ্ছে৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ায়, বিশেষত ভারত, বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলো সুজলা সুফলা৷ বরাবরই সেখানকার গ্রামে জৈব পদ্ধতিতে চাষ হয়ে এসেছে৷ কিন্তু সভ্যতার দাপটে সেখানে এখন রাসায়নিকের ছড়াছড়ি৷ ইউরোপের মতো এসব দেশও কি ফের জৈব চাষে ফিরবে? ভারতে বেশ কিছু অঞ্চলে ছোট ছোট পরিসরে জৈব ফসল উৎপাদন শুরু হয়েছে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে ওই সব ফসলের চাহিদা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে৷

সিরিয়ার পূর্ব ঘুটায় ছয়দিনে ৪২৬ জন নিহত

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের অনতিদূরে অবস্থিত পূর্ব ঘুটায় গত রবিবার রাত থেকে বোমাবর্ষণ করছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও রাশিয়া৷ এতে এখন পর্যন্ত ৪২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে৷

এছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার জন৷ নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন শিশুও রয়েছে৷ শুক্রবার ষষ্ঠদিনের মতো বোমাবর্ষণ চলছে

বোমাবর্ষণ রুখতে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল৷ কিন্তু রাশিয়ার কারণে সেটি পাস করা যায়নি৷ তবে শুক্রবার দিনের শেষে আবারও একটি প্রস্তাবে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে৷ অবশ্য রাশিয়াকে নতুন প্রস্তাবের পক্ষে আনা সম্ভব হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি৷ এই প্রস্তাবে শব্দগত কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ যেমন বলা হয়েছে, জাতিসংধের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির ‘দাবি’ জানাচ্ছে৷ আগের প্রস্তাবে দাবির জায়গায় ‘সিদ্ধান্ত’ শব্দটি ছিল৷ এছাড়া নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইসলামিক স্টেট ও আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ‘ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠন’এর ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য হবে না৷ আগের প্রস্তাবে শুধু ঐ দুই জঙ্গি গোষ্ঠীর নাম বলা হয়েছিল৷

উল্লেখ্য, পূর্ব ঘুটা হচ্ছে রাজধানী দামেস্কের কাছে থাকা সরকারবিরোধীদের শেষ ঘাঁটি৷ সেখান থেকে দামেস্কের সাধারণ নাগরিক অধ্যুষিত এলাকায় রকেট হামলা হচ্ছে বলে জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার প্রতিনিধি বাশার আল-জাফরি৷ এসব হামলায় গত ছয়দিন ১৬ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে সরকারি টেলিভিশনে জানানো হয়েছে৷

পূর্ব ঘুটায় এখন যে অভিযান চলছে তাকে অনেকে ২০১৬ সালে আলেপ্পোতে যে অভিযান চলেছিল তার সঙ্গে তুলনা করছেন৷ পূর্ব ঘুটায় প্রায় চার লক্ষ নাগরিকের বাস৷ জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ঐ অঞ্চলের মানুষদের দুর্দশার কথা বোঝাতে গিয়ে ‘পৃথিবীর নরক’ শব্দযুগল ব্যবহার করেছেন৷

পূর্ব ঘুটার ডুমা শহরের বাসিন্দা আবু মুস্তফা বলেন, ‘‘জাতিসংঘ বলছে তারা উদ্বিগ্ন, ফ্রান্স নিন্দা জানিয়েছে৷ কিন্তু এতে আমাদের কোনো লাভ হচ্ছে না৷’’

জেডএইচ/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স)

মালদ্বীপ সংকট: গভীর উদ্বেগ ভারতের

মালদ্বীপ সংকট:  গভীর উদ্বেগ ভারতের

উপর থেকে তোলা ছবিতে মালদ্বীপের রাজধানী মালে : রয়টার্স

 

সংবিধান লংঘন করে মালদ্বীপের জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আর এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গভীরভাবে শঙ্কিত। মালদ্বীপের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ভারতের  আহবান উপেক্ষা করায় নয়াদিল্লি উদ্বিগ্ন। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, 'মালদ্বীপের সরকার জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানোয় আমরা গভীরভাবে শঙ্কিত। সংবিধান লংঘন করে মজলিস (মালদ্বীপের পার্লামেন্ট) যে প্রক্রিয়ায় জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধি অনুমোদন করেছে তা উদ্বেগের।'

নয়াদিল্লির আশঙ্কা, জরুরি অবস্থার বিস্তৃতি রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনর্বহালের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করবে। এ পদক্ষেপ বিচারবিভাগসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় বাধাও অব্যাহত রাখবে।

সম্প্রতি, চলতি মাসে মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি হলে এ পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে দেশটির অনুরোধ জানায় ভারত। কিন্তু  প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন তা  উপেক্ষা করেন। 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

তিব্বতের মঠে অগ্নিসংযোগ করা হয়নি: চীন

তিব্বতের মঠে অগ্নিসংযোগ করা হয়নি: চীন

 

সম্প্রতি তিব্বতে বৌদ্ধদের সবচেয়ে পবিত্র মঠে অগ্নিকান্ড ঘটেছিল। আর ওই ঘটনায় অগ্নিসংযোগের যে অভিযোগ উঠেছিল তা নাকচ করে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একথা বলা হয়েছে। 

১৩শ’ বছরের বেশি পুরনো জোখাং টেম্পল-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা চালায় কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই প্রথম সংবাদ প্রকাশ করা হলো।

বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ভবনটির তৃতীয় তলায় অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। তবে খুব দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।
অগ্নিকান্ডে ভবনের স্বর্ণখচিত ছাদের ক্ষতি হয়েছে। বুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ একটি মূর্তি অক্ষত রয়েছে। 

তারা জানায়,  অগ্নিকান্ডে কেউ হতাহত হয়নি। মঠটি জনসাধারণের জন্য পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জোখাং মঠটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এটি লাসার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: এএফপি

ভারতের ব্যাংকে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে!‌

তিনি বলেছিলেন, ‘‌না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’‌৷ তাঁর আমলে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্কিং দুর্নীতি!‌ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের মুখে কুলুপ৷ স্বভাবতই বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে আক্রমণ শাণাচ্ছে বিরোধীরা৷

 

 

ভারতে জনগণের টাকা লোপাট করে নিরাপদে গা-‌ঢাকা দিচ্ছেন একের পর এক শিল্পপতি৷ ললিত মোদী, বিজয় মালিয়ার পর এবার নীরব মোদী৷ একে একে বেরিয়ে আসছে আরও জালিয়াতি৷ নীরব মোদী, মেহুল চোকসির পর এবার ‘‌রোটোম্যাক’‌ কলম নির্মাতা বিক্রম কোঠারি৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রোটোম্যাকের জালিয়াতির পরিমাণ প্রায় ৩,৬৯৫ কোটি টাকা৷
 
১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লুট!‌ দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা৷ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন৷ সমাজের উচ্চবিত্ত ও নেতাদের মধ্যে আস্থা অর্জন করে টাকা নিয়ে চম্পট৷ ব্যাংকের নজরে দুর্নীতি আসার আগেই বিদেশে পগারপার নীরব মোদী৷ জারি হয়েছে ‘‌লুক আউট’‌ নোটিস৷

 

 

পিএনবি জালিয়াতি-‌কাণ্ড নিয়ে রুজু হওয়া জনস্বার্থ মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানিতে সম্মত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট৷ সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, এই মামলার শুনানি হবে শুক্রবার৷ মামলার দাবি করা হয়েছে, নীরব মোদীকে দু-‌মাসের মধ্যে দেশ থেকে তাড়ানো হোক৷ পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক এবং রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া-‌র উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক৷
 

 

দেশের বৃহত্তম ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় গোটা দেশ৷ কিন্তু এখনও এ বিষয়ে টুঁ শব্দ করেননি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী৷ নানা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী টুইট করছেন বটে, কিন্তু নীরব প্রসঙ্গে তিনি আশ্চর্যজনকভাবে নীরব৷ তদন্তকারী সংস্থার মতে, নীরব গা-ঢাকা দিয়েছেন দুবাইতেই৷

রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের কথায়, ‘‌‘২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী  নরেন্দ্র মোদী নিজেকে ‘‌চৌকিদার’‌ বলেছিলেন৷ তিনি নাকি দেশের অর্থ‌নীতির পাহারাদার হবেন, যাতে জনগণের সম্পত্তি কেউ তছরুপ না করতে পারে৷ দেশের প্রত্যেক জনগণের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন৷ তারপর তো কালোটাকা, নোট বাতিল, জিএসটি ইত্যাদির সাক্ষী থেকেছে দেশবাসী৷ সম্প্রতি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের যে দুর্নীতি সামনে এসেছে, তার তদন্তে দেখা গেছে নোট বাতিলের পরে নগদ টাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরে কেনা হয়েছিল৷ সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া এটা কি সম্ভব?‌’‌’

 

 

 

দুর্নীতির জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের মুম্বাইয়ে ব্র্যাডি রোডের শাখাটি৷ বিজয় মালিয়া ও নীরব মোদীর নাম করে বিজেপিকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ তিনি মোদীকে পুরোনো কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘‘‌না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা৷’‌’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‌‘‌এই প্রতিশ্রুতি কি তাহলে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়ে ছিলেন ?‌ তাহলে কি এসবের কিছুই দাম নেই?‌ এত বড় কাণ্ড হয়ে যাওয়ার পরেও মোদী নীরব কেন?’’‌‌

 

 

 

‘‌অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার কনফেডারেশন’‌-‌এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক সৌম্য দত্তর মতে, ‘‘‌এটা কোনও দু্র্নীতি নয়৷ তবে, সরকারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদত ছাড়া এতবড় ব্যাংক জালিয়াতি মোটেই সম্ভব ছিল না৷ ছোটখাটো ঋণখেলাপিদের সংবাদপত্রে ছবি ছাপা হয়৷

কিন্তু, রাঘব বোয়ালরা বেমালুম ব্যাংকের টাকা হজম করে বসে থাকেন৷ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ওপর মানুষের বিশ্বাস অটুট রাখতে হলে কর্পোরেট জগতের ‘‌উইলফুল ডিফলটার’‌-‌দের তালিকা প্রকাশ করে হাতেনাতে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এজন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলাও করা হয়েছে৷

 

কিন্তু, সেখানে রিজার্ভ ব্যাংক মুখবন্ধ খামে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, তালিকা প্রকাশ করা যাবে না৷ কারণ, তাতে নাকি দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট হবে! ফলে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে অনাদায়ী ঋণ আদায় করতে হবে৷ অন্যদিকে, নিয়ম থাকলেও ব্যাংক পরিচালনা কমিটির বোর্ডে কোনও কর্মী ও অফিসার ডাইরেক্টর নেই৷ তাহলে কাদের কেন ঋণ দেওয়া হচ্ছে তা বাইরে আসে না৷’‌’

 

 

 

ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং দুর্নীতির পরও ব্যাংকের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখেছেন মোদী৷ লিখেছেন, ‘‌‘‌ব্যাংকের টাকা ফেরত পাওয়ার তাড়াহুড়ো আমার ঋণ মেটানোর সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে৷ যে পরিমাণ বকেয়ার কথা ব্যাংকের তরফে বলা হচ্ছে, তার থেকে কম বকেয়া আছে৷ বকেয়ার পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা৷’‌’‌ প্রশ্ন উঠেছে, কাদের ছত্রছায়ায় বসে মোদী এইসব অসম সাহসী কাজ করছেন?‌

 

 

 

নীরবের যুক্তি, বকেয়ার পরিমাণ অনেক বেশি দেখানোর ফলে সংবাদমাধ্যমে হইচই পড়ে গেছে৷ দেশজুড়ে তার হীরে ব্যবসার শো-‌রুমে তল্লাশি হচ্ছে৷ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বহু সামগ্রী৷ গোটা বিশ্বে রে রে পড়ে গেছে৷ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে ‘‌ফায়ারস্টার ইন্টারন্যাশনাল’‌ এবং ‘‌ফায়ারস্টার ডায়মন্ড ইন্টারন্যাশনাল’‌ কোম্পানি দুটি৷ ভাবমূর্তিও তলানিতে৷ এই কারণেই নাকি তাঁর টাকা ফেরতের ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে৷ প্রসঙ্গত, গত ২৯ জানুয়ারি সিবিআইয়ের কাছে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ৷ অভিযোগে বলা হয়, ১১,৭৩৯ কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার টাকা জালিয়াতি করা হয়েছে৷ ১১টি রাজ্যের ৩৫টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন গোয়েন্দারা৷ উদ্ধার হয়েছে ৫৪৯ কোটি টাকার হীরে ও সোনা৷ নীরব মোদীর ৫,৬৪৯ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি৷ তার ২১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে ইডি৷ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৮টি সম্পত্তি৷ সেই সঙ্গে ৪ সপ্তাহের জন্য বাতিল করা হয়েছে তার পাসপোর্টও৷

 

 

ঋণখেলাপিদের তালিকায় ৭৭ শতাংশ নামই বড় ব্যবসায়ী!‌ হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীকে বিপুল অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দিতে ব্যাংকের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ লেনদেন ব্যবস্থাকেই এড়িয়ে গিয়েছিলেন পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের মুম্বাই শাখার তদানীন্তন ডেপুটি ম্যানেজার গোকুলনাথ শেট্টি৷ নীরব যাতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির বিদেশি শাখা থেকে যথেচ্ছ ঋণ নিতে পারেন, সে জন্য ৭ বছরে প্রায় ১৫০টি গ্যারান্টি ইস্যু করেছিলেন পিএনবি-র মুম্বাই শাখার তৎকালীন ডেপুটি ম্যানেজার গোকুলনাথ শেট্টি৷ সবমিলিয়ে একের পর এক ব্যাংক কেলেঙ্কারি এবং নীরর মোদী এবং মেহুল চোকসির দুর্নীতির ধাক্কা থেকে নিজেদের সামলাতে মোদী সরকার দিশেহারা৷

Make Website

 

Quick Contact