ক্ষুদে বার্তা যায়নি, তবুও সেটা মানছে আদালত!

আত্মহত্যার আগে নিজের সহায় সম্পত্তির কী হবে তা মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তায় লিখে ভাইয়ের কাছে পাঠাতে চেয়েছিলেন এক ব্যক্তি৷ কিন্তু কোন কারণে সেই বার্তা ‘সেন্ট’ হয়নি৷ তবুও আদালত সেই ব্যক্তির বার্তাকেই গ্রহণ করেছে ‘উইল’ হিসেবে৷

নিজের সহায় সম্পদ স্ত্রী কিংবা সন্তানকে নয় বরং নিজের ভাইকে দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন আত্মহত্যা করা ব্যক্তি৷ মুঠোফোনে লেখা বার্তায় সেটাই উল্লেখ করেছিলেন তিনি৷ কিন্তু তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী তা মানতে চাননি, কেননা মুঠোফোনে লেখা বার্তাটি কাঙ্খিত গ্রাহকের কাছে যায়নি, অর্থাৎ ‘সেন্ট' হয়নি৷ কিন্তু ব্রিসবনের আদালত জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ীই তাঁর সম্পদের মালিক হবেন তাঁর ভাই এবং ভাইপো৷

৫৫-বছর-বয়সি ব্যক্তির নাম জানায়নি সংবাদমাধ্যম৷ তবে চলতি মাসেই আত্মহত্যা করেন তিনি৷ আর আত্মহত্যার আগে টাইপ করা ক্ষুদে বার্তাকে ‘উইল' হিসেবে গ্রহণ করা প্রসঙ্গে ব্রিসবনের সুপ্রিমকোর্টের বিচারক সুশান ব্রাউন বলেন, ‘‘অনানুষ্ঠানিক ধরনের লেখা হলেও তাতে মৃতব্যক্তি তাঁর ইচ্ছার কথা জানাতে পেরেছেন৷'' 

মুঠোফোনে বার্তাটি নিজের ভাই এবং ভাইপোকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন মৃত ব্যক্তি৷ ‘‘আমার যা কিছু আছে, বাড়ি এবং অবসর ভাতা, তোমরা নিয়ে যেও৷ আর আমার ছাই বাড়ির পেছনের বাগানে পুতে রেখ,'' লেখা হয়েছিল ক্ষুদে বার্তায়৷ পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী যাতে বাড়িতে থাকা নিজের জিনিসপত্র নিয়ে যায় সেটাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি৷ আরো জানিয়েছিলেন, বসার ঘরের টিভির পেছনে এবং ব্যাংকে কিছু টাকা রেখে যাওয়ার কথা৷

ক্ষুদে বার্তাটির শেষে ‘মাই উইল' লিখে হাসির ইমোজি দিয়ে শেষ করেন আত্মহত্যা করা ব্যক্তি৷ তবে বার্তাটি শেষ অবধি কাঙ্খিত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায়নি৷ বরং ফোনেই খসড়া আকারে থেকে যায়৷ এমন ‘উইল' তাই আদালতে বিবেচনা করা উচিত হবে না বলে দাবি করেন মৃতের সন্তান এবং প্রাক্তন স্ত্রী৷ তাঁরা দাবি করেন, যেহেতু বার্তাটি কারো কাছে পাঠানো হয়নি, তার অর্থ হচ্ছে মৃত ব্যক্তি এই বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না৷ আদালত অবশ্য এই দাবি গ্রহণ করেনি৷

আদালত জানিয়েছে, সন্তানের সঙ্গে সেই ব্যক্তির কোন প্রকৃত সম্পর্ক ছিল না৷ আর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো ছিল না, যদিও একসময় তারা চমৎকার সময় কাটিয়েছিলেন৷ তবে সেই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানের জন্য কোন কিছু রেখে না গেলেও পারিবারিক আইনের আওতায় তারা সম্পদের কিছু অংশ দাবি করতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত৷

এআই/জেডএইচ (এএফপি)

Make Website

 

Quick Contact