Trending

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে পঙ্গপালের বংশ, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

পঙ্গপালকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পরিযায়ী কীটপতঙ্গ’ হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসঙ্ঘ। একটি নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে জলবায়ু পরিবর্তন শিগগিরই মরুভূমির পঙ্গপালের বিশাল ‘মেগাওয়ার্ম’ বাড়িয়ে দেবে।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই পোকামাকড়ের ঝাঁক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই গবেষণায় প্রথম পঙ্গপালের বড় ঝাঁক এবং নির্দিষ্ট আবহাওয়ার নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগসূত্র দেখানো হয়েছে।

পঙ্গপাল ফড়িং পরিবারের অন্তর্গত। সাধারণ ফড়িং ক্ষতিকারক হয় না। তবে পঙ্গপাল আতঙ্কের নাম। বর্ষা এবং ভারী ঘূর্ণিঝড়ের মতো কিছু পরিবেশগত পরিস্থিতি তাদের দ্রুত প্রজনন করতে বাধ্য করে। পঙ্গপালের ঝাঁক অত্যন্ত সচল এবং এক দিনে ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই মেগাওয়ার্মগুলো বিশ্বব্যাপী খাদ্য শৃঙ্খলে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলতে পারে। এক গবেষক জানিয়েছেন, এমনকি নাটকীয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের জন্য, এখনো পঙ্গপালের আবাসস্থলে কমপক্ষে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি হবে এবং আফ্রিকা ও এশিয়ার বিদ্যমান হটস্পটগুলো এর প্রভাব পড়বে।

তিনি আরো জানান, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বৈশ্বিক খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমসাময়িক পঙ্গপালের উপদ্রব ব্যাপক ফসলের ব্যর্থতাকে বাড়িয়ে দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

এই মেগাসওয়ার্মগুলোর স্কেল আশ্চর্যজনক। এই একটি পঙ্গপাল কয়েক মিলিয়ন পোকামাকড়কে ধারণ করতে পারে। তারা ১৩০-১৫০ কিমিজুড়ে অবস্থান করলে দিনে তারা হাজার হাজার মানুষের খাওয়া খাবার খেতে পারে।

জাতিসঙ্ঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একটি বৃহৎ ডাটাবেসের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়েছে। ডাটাবেসে ১৯৮৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৬ টি দেশে পঙ্গপালের প্রাদুর্ভাবের বিবরণ রয়েছে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button