Science & Tech

তেল ও গ্যাসদূষণ জনস্বাস্থ্য সংকট বাড়াচ্ছে

তেল ও গ্যাস গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে লাগে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীদের পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিবছর তেল ও গ্যাস থেকে বায়ুদূষণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বে হাজার হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু ও ব্যাপক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তেল ও গ্যাসের কারণে হাঁপানি, শিশুর অকাল জন্মসহ ক্যানসারের বিস্তৃতি ঘটছে। গবেষণায় মাটিতে তেল ও গ্যাস ড্রিল থেকে শুরু করে গাড়ি বা গ্যাসের চুলা থেকে নিষ্কাশনের শেষ ধাপ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতিটি পর্যায়ে তেল ও গ্যাসের দূষণ কতটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি করে, তা পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বিশেষ একটি কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেছেন। এই মডেল দূষণ কোথা থেকে আসে আর কীভাবে তা স্থানান্তরিত হয়, তার ম্যাপ তৈরি করেছে। তেল ও গ্যাস ব্যবহারের শেষ পর্যায়ে যখন আমরা জিনিসপত্র পুড়িয়ে ফেলি, তখনই সবচেয়ে ক্ষতিকর অবস্থা তৈরি হয়।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানী কর্ন ভোহরা বলেন, ‘তেল ও গ্যাসের জীবনচক্রের প্রতিটি প্রধান পর্যায়ের কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ অন্য সব বায়ুদূষণের থেকে আলাদা। গবেষণার জন্য অত্যাধুনিক বায়ুনির্ভর একটি মডেল ব্যবহার করেছি আমরা। গবেষণায় দেখা যায়, তেল ও গ্যাসের দূষণ পাঁচটি অকাল জন্ম ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মৃত্যুর মধ্যে প্রধানতম কারণ।’

তেল ও গ্যাসের বিভিন্ন খনি এলাকা বেশি দূষণের শিকার হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব টেক্সাস ও দক্ষিণ লুইসিয়ানার মতো জায়গাগুলো ক্যানসার অ্যালে বা গলি নামেও পরিচিত। এসব এলাকায় তেল ও গ্যাসের কারখানা ও শোধনাগার অবস্থিত। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতি আলোচনা করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও নিউ জার্সি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে আছে। এটি অবশ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা নয়। গবেষণায় যে তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তা ২০১৭ সালের। সাম্প্রতিক হিসেবে এ সংখ্যা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বের অবস্থা একই রকমের বলা যায়। গবেষণা ফলাফলটি সম্প্রতি সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button