Hot

নির্বাচনেই মিলবে অর্থনৈতিক মুক্তি

ভোটে অংশ না নেয়ার হুমকি কার এজেন্ডা? পিআর দাবি ধোপে টিকবে না, জামায়াত কখনোই নির্বাচন বর্জন করবে না : ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী ড. ইউনূস আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ভুল করে বললেন নাকি পরিকল্পিভাবেÑ প্রশ্ন উঠেছে : জাহেদ উর রহমান

দেশের রাজনীতি চরিত্র যেন সাগরের ঘূর্ণিঝড়ের রূপ ধারণ করেছে। সাগর-মহাসাগরের ঝড় কোন দিকে ধাবিত হবে তা যেমন বোঝা যায় না; তেমিন দেশের রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কখন কোন কথা বলে বিতর্কের ঝড় তোলেন, বোঝা দুষ্কর। উপদেষ্টা, রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য নিয়ে নেট দুনিয়ায় বিতর্কের ঝড় থামছেই না। মানুষ যখন নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে তখন নির্বাচন বিলম্ব করা, ফ্যাসিস্ট হাসিনার ফিরে আসা, সংবিধান বহির্ভূত পিআরের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীর ব্যক্তিরা থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় না থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করছেন না। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিহীন হওয়ায় খাদের কিনারে এখন অর্থনীতির চাকা। ব্যাংকিং সেক্টর আইসিইউতে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সাড়ে ১৩ মাসে একদিকে কমেছে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, অন্যদিকে তলানিতে কর্মসংস্থান। এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। এ বাস্তবতা বুঝতে পেরে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে নির্বাচনের টাইমফ্রেম বেঁধে দেয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও ব্যক্তিদের রমজানের আগে নির্বাচন দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করার বার্তা দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেড় লাখ সদস্যকে ট্রেনিং দেয়া হবে এবং অর্ধ লাখ সেনা সদস্য স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেÑ এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এমনকি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের লক্ষে ডিসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো কেউ প্রার্থী ঘোষণা করেছে, কেউ প্রার্থী বাছাই করছে। ১২ কোটি ভোটার ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে। এমনি পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার একটি বক্তব্য সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের মতো নির্বাচনী আবহাওয়ায় ডিজাস্টারের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের রাজনীতিতে ডান-বাম-মধ্যপন্থি বিভিন্ন চেতনার রাজনৈতিক দলের চিন্তা-চেতনায় নানা মত ও নানা পথ থাকলেও দিল্লিতে পলাতক হাসিনার বিচার, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, মাফিয়া কার্যক্রম চালানোর অপরাধে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী মাঠে না রাখার ব্যাপারে সবাই একাট্টা। আওয়ামী লীগকে আগামী সংসদে পুনর্বাসনে হিন্দুত্ববাদী ভারতের নীলনকশা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) নির্বাচনের টোপ জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনসহ কিছু দল গিললেও প্রকাশ্যে সবাই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার জিটিওর ব্রিটিশ-মার্কিন সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে দেয়া সাক্ষাৎকার ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশের পর সাগরের ঘূর্ণিঝড়ের মতোই হঠাৎ রাজনীতির দিক পরিবর্তনের উপক্রম হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘দেশের রাজনীতি কি গতিপথ পরিবর্তন করছে’ এমন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা যেকোনো সময় তুলে নেয়া হতে পারে।’ আবার তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা হয়নি তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলটি কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে না।’ দেশ যখন নির্বাচনের পথে এগিয়ে চলছে; তখন প্রধান উপদেষ্টার এমন বক্তব্য কি ইঙ্গিত দিচ্ছে? অনেকেই বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার চলছে এবং এই অপরাধে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি উঠেছে; তখন হঠাৎ ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা যেকোনো সময় তুলে নেয়া হতে পারে’-এমন বক্তব্যের মাজেজা কী? তাছাড়া দিল্লিতে বসে হাসিনা একের পর এক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন। কলকাতায় বসে আওয়ামী লীগের পা-ারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং সে খবর ভারতীয় গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচার করছে। এমন প্রেক্ষাপটে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ দাবি নিয়ে আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার হেতু কী? এ দাবিতে রাজনৈতিক পরিবেশ বিঘœ সৃষ্টির নেপথ্যে কারা? জামায়াত নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড; স্বৈরাচার সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান; স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। এ পাঁচ দফা দাবি না মানলে জামায়াত নির্বাচনে যাবে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে জাতীয় পার্টিকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে নিষিদ্ধের দাবি জামায়াত করলেও সে ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়ে এ দাবি জানাচ্ছেন, সে দলের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের দোসর তকমা রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছেÑ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সময় জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি তোলা হয়নি, এখন এ দাবি তোলা হচ্ছে কেন? আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ভোট জামায়াতের বদলে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বাক্সে পড়বে সেই ভয়ে কি জাপাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এমন আন্দোলন?

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী ইনকিলাবকে বলেন, আন্তর্জাতিক ফিগার হওয়ায় নোবেলবিজয়ী ড. ইউনূস হয়তো বিদেশিদের বোঝানোর জন্যই বলেছেনÑ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান উপদেষ্টার কৌশলগত এ বক্তব্য দেয়ার পর দেশে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে বলেছেন, নির্বাচন দূরের কথাÑ নির্বাচনের পরও আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরেছেন, তিনি হয়তো তার বক্তব্য নিয়ে ফের কথা বলবেন। আর জামায়াত পিআরসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি ধোপে টিকবে না। জনগণ এটি চায় না এবং সংবিধানে এটি নেই। আর ইসলামি স্কলাররা বলছেন, পিআর পদ্ধতি কার্যত ইসলামবিরোধী। আর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোট নিষিদ্ধের দাবি জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল। তবে সরকার নিষিদ্ধ না করলেও প্রশাসনে যেহেতু জামায়াতের আধিক্য, আদালতের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করা হতে পারে। নির্বাচন বর্জনÑ ওগুলো জামায়াতের ফাঁকা বুলি এবং ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঠেকানো ক্ষমতা কারো নেই। যারা নির্বাচন ঠেকানোর কথা বলবে, তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও ভারতের দালাল হিসেবে দেশবাসীর কাছে চিহ্নিত হবে। তবে সরকারের দায়িত্বশীলদের উচিত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের বাধার সৃষ্টি করে এমন বক্তব্য-মন্তব্য ও কর্মতৎপরতা থেকে বিরত থাকা। কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। নির্বাচিত সরকার ছাড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা সম্ভব নয়। মানুষকে বাঁচাতে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হবে।

‘অন্তর্বর্তী সরকার কতদিন ক্ষমতায় থাকবে’-মেয়াদের এ নিশ্চয়তা না থাকায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভারতে পালানোর আগে শেখ হাসিনা বিদেশি ঋণ নিয়ে উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে গেছেন। মাফিয়া নেত্রী হাসিনা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ব্যাংকিং ও ব্যবসায়ী সোসাইটিকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। দলীয় বিবেচনায় ব্যাংকের লাইন্সেস দিয়েছেন এবং অর্থনৈতিক সেক্টরকে ব্যবসায়ী নামের দলীয় মাফিয়াচক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। ফলে দেশে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা এখন বিপাকে। খাদের কিনার থেকে অর্থনীতিতে টেনে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আট মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ঢাকায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ঢাকঢোল পিটিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২৫’ শীর্ষক ওই সম্মেলনে ৫০ দেশের ৫৫০ জন বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করেন। ওই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিলÑ বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা। চার দিনের সম্মেলনের পর বিডা থেকে জানানো হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাৎক্ষণিক ৩১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নিশ্চয়তা না থাকায় কেউ বিনিয়োগ করছেন না। প্রধান উপদেষ্টা যে একের পর এক বিদেশ সফর করছেন এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আদায় করছেন; কিন্তু বিনিয়োগকারীরা অনির্বাচিত সরকারের সময় বিনিয়োগ করছেন না। তারা জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচিত সরকার এলেই বিনিয়োগ করবেন।

এ নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল জাহিদ টকসে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা দেশের গণতন্ত্রকে আন্ডারমাইন্ড করেছেন। তিনি ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলেন, সেটি খুবই সাহসী উচ্চারণ; কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা যেকোনো সময় তুলে নেয়া হতে পারেÑ এমন বক্তব্য দেন কী করে? তার এমন বক্তব্যে মানুষের মধ্যে সন্দেহ হচ্ছেÑ নির্বাচন পেছানোর কোনো ষড়যন্ত্র কি পেছনের দরজায় হচ্ছে? ড. ইউনূস এসব কি ভুল করে বললেন, নাকি পরিকল্পিভাবে সব বলছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দেশে বিনিয়োগ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে; তারপরও অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীলরা রাজনৈতিক সঙ্কটকে জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছেন? ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাসিনার শাসনামলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নানাভাবে বিড়ম্বনা মোকাবিলা করেছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা পালানোর পর ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ স্বাভাবিক হবেÑ এটিই ছিল সবার প্রত্যাশা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সন্ত্রাস-উগ্রতা যেন বেড়ে গেছে। এনসিপিকে সরকার প্রকাশ্যে এবং জামায়াতকে পর্দার আড়াল থেকে পৃষ্ঠপোষকা করছে। যার কারণ মব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, বট বাহিনী তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচনবিরোধী প্রচারণা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং বিদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা। কিন্তু কারা স্বৈরাচার ছিল, কোন দল স্বৈরাচার হতে পারেÑ এসব দেখার দায়িত্ব সরকারের নয়। প্রধান উপদেষ্টা এসব নিয়ে কথা বলে বিতর্ক বাড়াচ্ছেন। তাছাড়া এনজিওর কর্মকর্তা যাদের জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ ছিল না এবং হায়ার করে বিদেশ থেকে এনে যাদের সরকারের উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, ‘তারা ক্ষমতার মধু’ পেয়ে বসেছেন। নির্বাচন যত বিলম্ব হবে, ততই তাদের লাভ। তারা নির্বাচনে পেছানোর লক্ষে নির্বাচনী পরিবেশ নেই, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব সৃষ্টি করে মানুষ হত্যা ইত্যাদি আইনশৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকা-কারীদের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় গত এক বছরে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সংসার চালাতে পারছেন না অনেকেই। জমানো পুঁজি ভেঙে খাচ্ছেন অনেকেই। আবার ব্যাংকে টাকা রেখে জমানো সে টাকা তুলতে পারছেন না। অর্থনৈতিকভাবে ভেঙেপড়া ব্যাংকগুলোতে অহেতুক টেনে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৩ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসতে পারে; যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। নির্বাচন না হলে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে কমবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সব সঙ্কট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। ফলে নির্বাচন বিঘœ সৃষ্টি হতে পারেÑ তেমন কথাবার্তা থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরত থাকা উচিত।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button