প্রস্তুত বিএনপি, স্পষ্ট করেনি জামায়াত, শর্ত দিলো এনসিপি, সই করবে না ৫ দল

জুলাই সনদ নিয়ে ভিন্নমত আরও স্পষ্ট হলো
জুলাই জাতীয় সনদ ও এর বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মতভিন্নতা আরও স্পষ্ট হলো। গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠকে নেতারা প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশন সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সামনেই রাজনৈতিক দলের নেতারা সনদ নিয়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। যদিও ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে হওয়া বৈঠকটি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য ডাকার কথা বলা হয় কমিশনের তরফে। ওই বৈঠকের পর দলগুলোর নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তাদের আগের অবস্থানই তুলে ধরেন। জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের দুইদিন আগে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকে কমিশন। বৈঠকে কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টাও অংশ নেন। বৈঠকের পর পাঁচটি বাম ধারার দল ঘোষণা দেয় তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না। স্বাক্ষরের আগে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট করার শর্ত দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি জানিয়েছে, অন্যথায় আলোচনা করে স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেছে দলটি। স্বাক্ষরের বিষয়ে হ্যাঁ-না স্পষ্ট কিছু বলে জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, সনদ স্বাক্ষরের বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা তারা দেখছেন না। তবে আগের মতো দলটির নেতারা আসছে নভেম্বরে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্তে গণভোট দাবি করেন। একই দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বৈঠক ও বৈঠকের পরে বিএনপি’র পক্ষ থেকে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে সনদে সবার সব মতামতই থাকছে। তাই এটিতে সই করতে বিএনপি প্রস্তত। বিএনপি’র রাজনৈতিক মিত্র ও সমমনা দলগুলোও একই কথা বলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসছে ১৭ই অক্টোবর (শুক্রবার) জুলাই জাতীয় সনদ সইয়ের দিন ধার্য করে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে অনুষ্ঠান। এতে সব দল অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জুলাই জাতীয় সনদ বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবেই উল্লেখ করে বলেছেন, আগামী নির্বাচন জুলাই জাতীয় সনদেরই অংশ।
জুলাই সনদ নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকেই নানা আলোচনা ছিল। বলা হচ্ছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হলে সই করবে না বলে কমিশন সংশ্লিষ্টদের বার্তা দেয়। এছাড়া আরও দু’-একটি দলের পক্ষ থেকেও এমন বার্তা দেয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকে। এদিন সকালে ইতালি সফর শেষে দেশে ফিরেন প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দেশে ফিরেই তিনি কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
কমিশনের সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি পাঠানো হলেও সেখানে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বা উপায় নিয়ে কোনো সুপারিশ রাখা হয়নি। এ কারণে জামায়াত-এনসিপিসহ কয়েকটি দল সই করা নিয়ে দলীয়ভাবে নতুন করে আলোচনা শুরু করে।
এনসিপি’র সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সেখানে এনসিপি জানায় ‘সংবিধান আদেশ’ জারি করে সংস্কার প্রক্রিয়া না এগোলে তারা সনদে সই করবে না। দলটির এক নেতা বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে ছাড় দিয়েছিলাম, এবার ছাড়ের সুযোগ নেই। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার নিয়ে নতুন করে আলোচনা জরুরি।’
বাম ও ইসলামপন্থি দলের পাশাপাশি বিএনপিও সনদের অঙ্গীকার অংশে একটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা কমিশন গ্রহণ করেনি।
৩১শে জুলাই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মূল আলোচনা শেষ হয়। পরে কমিশন দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে। সেখানে গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নে ঐকমত্য হলেও ভোটের সময়, প্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র অবস্থান এক হয়নি।
বৈঠক শেষে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করতে বিএনপি প্রস্তুত। আমরা আগামী ১৭ তারিখ বিকাল ৪টায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত আছি। আশা করি, যেভাবে নোট অব ডিসেন্ট-এর বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছি সেভাবে আমরা স্বাক্ষর করি। তাহলে আমরা বিশ্বের কাছে নজির স্থাপন করতে পারবো।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে ঐকমত্য কমিশনে কেন ডাকা হয়েছে এনসিপি নেতা আখতার হোসেন বক্তব্য দেয়ার আগ পর্যন্ত আমি বুঝতে পারিনি। এখন বুঝতে পারলাম জুলাই সনদ নিয়ে একটা সমস্যা হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ সফরে আখতারকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে হয়তো তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন। এখন বুঝতে পারছি- আমরা সারারাত যা করলাম এখন সকালে তার রিপিটেশন। সেটা করা মনে হয় উচিত হবে না। আমাদের অবশ্যই আপনার প্রতিশ্রুত সময় ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করতে হবে। যার কোনো বিকল্প নেই এই জাতির সামনে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় হলো- দেশে এমন একটি পরিবেশ বজায় রাখতে হবে যেন পতিত স্বৈরাচার আর কখনো সুযোগ নিতে না পারে। দীর্ঘদিন অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলে যে ধরনের সমস্যার উৎপত্তি হয় এখন সে ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেজন্য আমরা বারবার বলে আসছিলাম- একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার। তা না হলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অভ্যুত্থান পরবর্তীতে সেসব সমস্যার উৎপত্তি হয় সেগুলো আমাদের দেশে হবে। আরও বিলম্ব হলে আরও বেশি সমস্যা তৈরি হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নোট অব ডিসেন্ট যেগুলো দেয়া হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে স্বাধীনতা তো দিয়েছেন আপনারাই। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হতে পারবে সেগুলো সংকলিত হয়ে একটা জাতীয় সনদ হবে। এবং সেই জাতীয় সনদটা পরবর্তী পার্লামেন্টে বাস্তবায়িত হবে। আর যেগুলো এর সরকারের হাতে থাকবে সেগুলো অর্ডিন্যান্স জারির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, ইতিমধ্যে হচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে হয়েছে সেভাবে আমরা স্বাক্ষর করি। গণভোট আগে না পরে সেটা তো জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বিষয় নয়। এটা আলাদাভাবে কথা বলতে পারেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা ১৭ তারিখের জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আয়োজনে আমরা দাওয়াত পেয়েছি। যে সমস্ত বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, এবং এনসিসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সে সমস্ত বিষয়গুলোকে এক করে একটা প্যাকেজের উপরে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি শুরুতে গণভোটের বিষয়ে দ্বিমত করেছিল। এখন তারাও গণভোটে একমত হয়েছে। এখন গণভোট কখন হবে এ নিয়ে আমাদের মধ্যে আবার দ্বিমত হয়েছে। আমরা বলেছি, গণভোট একটি আলাদা বিষয়।
তিনি বলেন, গণভোটে এমন কিছু দিক আছে, যেগুলো যদি হ্যাঁ-না ভোটে হ্যাঁ হয়, তাহলে তার ভিত্তিতে নির্বাচনের ক্যারেক্টারে কিছু পরিবর্তন হবে। নির্বাচনের আগেই এই সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে, এবং সেই সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় নির্বাচনে উচ্চ কক্ষে ভোট হবে। যদি এটা নির্বাচনের দিনেই হয়, তাহলে উচ্চ কক্ষ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আর পাশ হলো না। হ্যাঁ না-এর জন্য অপেক্ষা থেকে গেল।
তাহের বলেন, হ্যাঁ-না-এর ক্ষেত্রে তাহলে যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে তাহলে কী উচ্চ কক্ষের জন্য আবার নির্বাচন হবে? কেউ কেউ বলছেন, নিম্ন কক্ষে আমরা যে ভোট পাবো, যদি হ্যাঁ না তে জয় হয় সেই অনুপাতে আমরা উচ্চ কক্ষকে গ্রহণ করে নেবো, এবং সেভাবে ডিস্ট্রিবিউশন করে নেবো। যেদিন ভোট হবে সেদিন পর্যন্ত উচ্চ কক্ষ নেই। কিন্তু আপনি উচ্চ কক্ষের ভোট দিচ্ছেন। নাই যেটা, সেটা নিয়ে ভোট হয় কীভাবে? সাংবিধানিকভাবে এখানে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া, একইদিন যদি ভোট হয়, তাহলে বিএনপি’র লোকজন মরিয়া হয়ে যাবেন ভোট বাড়ানোর জন্য। জামায়াতে ইসলামী বা অন্য দলের লোকরা তাদের স্ব স্ব মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য মরিয়া হবেন। ঐকমত্য কমিশনের ব্যালট আছে কি নাই তা আর কারও মাথায় থাকবে না। ভোট কাস্টিং হ্যাঁ না ভোটে একেবারেই অপ্রতুল থাকবে। সেজন্য আমরা বলেছি, গণভোট আগে হতে হবে। নভেম্বরে হওয়ার কথা আমরা বলেছি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কীভাবে এবং নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় এতে স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনাধীন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ গঠনে এনসিপি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে। আমরা ঐকমত্য তৈরিতে কাজ করেছি। আমরা সনদের আইনি ভিত্তি এবং তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন চেয়েছিলাম।
তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো পরিষ্কার ধারণা দেয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদেশ, গণভোট এবং সংসদকে সাংবিধানিক ক্ষমতা দিতে হবে। কিন্তু সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। নোট অব ডিসেন্ট বাস্তবায়ন কীভাবে তাও খোলাসা করা হয়নি। আদেশটা কেমন হবে, তাও খোলাসা নয়। এটি প্রধান উপদেষ্টার জারিকৃত আদেশ হতে হবে। গণভোটের প্রশ্নেও অস্পষ্টতা রয়েছে।
জুলাই সনদকে টেকসই করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে শঙ্কা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া খোলাসা না করে জুলাই সনদ টেকসই করা সম্ভব কিনা। অস্পষ্টতা থাকলে অর্জন অনিশ্চিত থেকে যাবে। জনগণকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করে দেখাতে হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নিবো স্বাক্ষর করবো কিনা।
জুলাই সনদে সই করবে না পাঁচ দল: পাঁচটি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ স্বাক্ষর করবে না বলে জানিয়েছে। বাম এই রাজনৈতিক দলগুলো জানায়, সংবিধানের ১৫০-এর (২) ধারা মোতাবেক মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র সংযুক্ত না করলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে এই তথ্য জানান তারা।
সনদে স্বাক্ষর করায় শর্ত জুড়ে দেয়া দলগুলো হলো- বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ মার্কসবাদী, বাংলাদেশ বাসদ এবং গণফোরাম।
শুক্রবার জুলাই সনদে স্বাক্ষর, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন: আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন হবেই বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবেই। এটা এই যে ঐকমত্য কমিশনের সনদ, এটা সনদেরই অংশ এখন। এটার সঙ্গে এটা জড়িত। এই যে ঘোষণা আমরা করলাম, এটা আমাদের রক্ষা করতে হবে। এটা এমন না যে, কথার কথা বলে ফেলেছি। ওই রকম না। এটা ফেব্রুয়ারিতে হবে এবং ওই যে বারবার বলেছি, এটা উৎসবমুখর নির্বাচন হবে।
রাজনৈতিক দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আপনারা যেমন সবাই মিলে সনদ তৈরি করেছেন, আমাদের সরকারের দায়িত্ব হলো সবাই মিলে উৎসবমুখর নির্বাচনটা করে দেয়া। তাহলেই আমাদের কাজ পরিণত হলো।
রাজনৈতিক দল ও ঐকমত্য কমিশনকে একান্তভাবে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য তিনি এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে, কঠিন কঠিন বিষয়ে আলোচনা করা এবং সন্তোষজনকভাবে রাজনৈতিক দল ও ঐকমত্য কমিশন মিলে এর সমাপ্তি আনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ধন্যবাদ জানান। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যে অসম্ভবকে আপনারা সম্ভব করেছেন, এটা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর পলিটিক্যাল সিস্টেমের (রাজনৈতিক ব্যবস্থার) ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।
জুলাই সনদ রচনাকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ছাত্র-জনতার যে অভ্যুত্থান, এই অভ্যুত্থানের এটাই আমার মনে হয় পরবর্তী অধ্যায় সঠিকভাবে রচিত হলো। যে সংস্কারের কথা আমরা মুখে বলে যাচ্ছিলাম, আপনারা সেই সংস্কার, প্রকৃতপক্ষে যে সংস্কার হবে, তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন। কাজেই আমরা এই জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সারা জাতি বড় রকমের উৎসবের মধ্যে আমরা শরিক হবো।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যে কলম দিয়ে স্বাক্ষর করা হবে, সেগুলো জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। মানুষ তাদের ভুলতে পারবে না। এটা এমন একটা ঘটনা যে ঘটনার ভেতরে থেকে এর বিশালত্ব বোঝা যাচ্ছে না। মাসের পর মাস বৈঠক করে হতাশা এসেছে, মনে হয়েছে, এটা হয়তো অসমাপ্ত থেকে যাবে। তবে এটা অসমাপ্ত থেকে যায়নি। তিনি বলেন, জুলাই সনদ জাতির জন্য একটা মস্ত বড় সম্পদ হয়ে রইলো।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, যেসব দলিল তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো হারিয়ে যাবে না। এগুলো জনসাধারণের মধ্যে সহজ ভাষায় প্রচার করা হবে। যাতে করে সবার মনের মধ্যে থাকে, কেন একমত হয়েছি। সরকার হিসেবে জুলাই সনদ ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব তাদের।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যেসব বিতর্ক হয়েছে, সেগুলোকে বিষয়ভিত্তিকভাবে ভিডিও করে ও বই করে রাখা হবে, যেন এগুলো সম্পদ হিসেবে থাকে, হারিয়ে না যায়। যাতে করে সবাই জানতে পারে, কেমন জাতি গড়ার জন্য এগুলো করা হয়েছে।
১৭ই অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা উৎসবমুখরভাবে সেখানে যাবো এবং এই দলিলে সই করবো এবং উৎসব করবো। সবাই, সারা জাতি এটায় শরিক হবে। আপনারা তাদের সামনের সারির মানুষ, যারা প্রকৃত সই করছেন। সারা দেশের মানুষ চিন্তার মধ্যে, তাদের ভাবনার মধ্যে আপনাদের সঙ্গে সই করছে। জাতির জন্য এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের উপস্থাপনায় বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন।






