USA

যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমাতে প্রজেক্ট এসথার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রক্ষণশীল থিংক ট্যাঙ্ক দ্য হেরিটেজ ফাউন্ডেশন গত বছর একটি নীতিমালা প্রকাশ করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলন ভন্ডুল করা। সেই নীতিমালাটির নাম ‘প্রজেক্ট এসথার’।

প্রথমে এটি খুব বেশি নজর কাড়েনি, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুপারিশ অনুসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এটি বর্তমানে মিডিয়া ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই প্রকল্পে ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠী ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে ‘হামাস সমর্থক নেটওয়ার্ক’ নামে অভিহিত করে বলা হয়েছে, তারা সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছে—যা মানবাধিকার কর্মীদের মতে ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার।

প্রজেক্ট এসথার কী?

এটি ২৪ মাসের মধ্যে তথাকথিত ‘হামাস সমর্থক নেটওয়ার্ক’কে ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি কৌশলগত নথি। এতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন আসলে সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করছে, যদিও এমন কোনও নেটওয়ার্ক বাস্তবে বিদ্যমান নেই।

কীভাবে এই প্রকল্প কার্যকর হচ্ছে?

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া কোয়েটস নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, তারা এখন প্রকল্পটির বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করছেন, যেমন—বিদেশি ছাত্রদের ভিসা বাতিল, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অনুমতি না দেওয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে ‘বিরোধী কনটেন্ট’ নিয়ন্ত্রণ।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন টার্গেট?

যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমছে, আর ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বাড়ছে—এই বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন মিডল ইস্ট স্টাডিজ বিভাগগুলোকে ‘ইসরায়েলবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করে রদবদলের চাপ দিচ্ছে।

কী প্রভাব পড়ছে আন্দোলনে?

এই দমননীতি সাময়িকভাবে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও একই সঙ্গে এটি নতুন করে মানুষকে সচেতন ও প্রতিরোধী করে তুলছে। আন্দোলনের নেতারা বলছেন, ভয় দেখিয়ে তাদের থামানো যাবে না।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button