USA

যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল সরকারে শাটডাউনের যত ইতিহাস

ওয়াশিংটনের জন্য এ ধরনের অচলাবস্থা নতুন নয়। ১৯৭৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি মার্কিন সরকার বন্ধের সময়কাল এবং কোন প্রশাসনের অধীনে তা ঘটেছিল, তার একটি রেকর্ড রয়েছে।

কংগ্রেস নতুন ব্যয় বিল পাসে ব্যর্থ হওয়ার পর বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে (০৪:০১ জিএমটি) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার আংশিকভাবে শাটডাউন হয়ে যায়। এর ফলে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বিবেচিত সরকারি কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাজেটের অচলাবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ফেডারেল কর্মীদের ব্যাপক ছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক কর্মসূচি ও বিদেশী সাহায্য রক্ষায় চাপ দিচ্ছেন। আর রিপাবলিকানরা ব্যয় কমানোর দাবি তুলেছেন। ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে দুই দলের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

ওয়াশিংটনের জন্য এ ধরনের অচলাবস্থা নতুন নয়। ১৯৭৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি মার্কিন সরকার বন্ধের সময়কাল এবং কোন প্রশাসনের অধীনে তা ঘটেছিল, তার একটি রেকর্ড রয়েছে।

সরকারি বন্ধ কী?

যখন কংগ্রেস বাজেট অনুমোদনে একমত হতে ব্যর্থ হয়, তখন সরকার আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ ব্যয় পরিকল্পনা অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত ফেডারেল সরকারের কিছু কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। সাধারণত অক্টোবর মাসেই এ ধরনের শাটডাউন ঘটে। কারণ মার্কিন অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর এবং শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর।

কতবার সরকার বন্ধ হয়েছে?

বর্তমান বাজেট প্রক্রিয়া ১৯৭৬ সালে চালু হয়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বার তহবিল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে ১০ বার শাটডাউন ঘটেছে। কংগ্রেস যখন বাজেট বা অন্তর্বর্তী ব্যয় বিল (যাকে ধারাবাহিক রেজোলিউশন বলা হয়) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস করতে ব্যর্থ হয়, তখন সরকার অর্থ ব্যয় করার আইনি ক্ষমতা হারায়। এর ফলে কার্যক্রম আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।

১৯৮০ সালের আগে তহবিল ঘাটতি সত্ত্বেও সরকারি সংস্থাগুলো কাজ চালিয়ে যেত। কারণ তারা ধরে নিতো তহবিল শিগগিরই পাওয়া যাবে। তবে ১৯৮০ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল বেঞ্জামিন সিভিলেটি আইনি মতামত দেন যে কংগ্রেস অনুমোদন ছাড়া সরকারি অর্থ ব্যয় করা যাবে না। কেবল জাতীয় নিরাপত্তা, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মতো জরুরি সেবাগুলো চালু থাকতে পারবে। ১৯৮২ সাল থেকে এই আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে তহবিল সঙ্কটে পড়লেই সরকারি শাটডাউন ঘটতে থাকে।

সর্বশেষ শাটডাউন

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণে ৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের দাবিকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ শাটডাউন শুরু হয়। ডেমোক্র্যাটরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করায় অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়।

দীর্ঘতম শাটডাউন

মার্কিন ইতিহাসে দীর্ঘতম শাটডাউনও এটিই ছিল, যা ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৩৫ দিন স্থায়ী হয়। পরে ট্রাম্প কংগ্রেসের নেতাদের সাথে সীমান্ত প্রাচীর নিয়ে আলোচনার শর্তে তিন সপ্তাহের জন্য সরকার পুনরায় চালুর অস্থায়ী চুক্তি করেন।

শাটডাউনের প্রভাব

শাটডাউনের সময় অপ্রয়োজনীয় ফেডারেল সেবা বন্ধ থাকে এবং বহু সরকারি কর্মচারী ছুটিতে চলে যান অথবা অবৈতনিকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। জরুরি কর্মীরা -যেমন সামরিক বাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকরা- তহবিল ফেরত আসা পর্যন্ত প্রায়ই বেতন ছাড়া কাজ চালিয়ে যান।

সমাধানের উপায়

শাটডাউন সাধারণত কংগ্রেসে একটি অব্যাহত প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে শেষ হয়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি বাজেট আলোচনার সময় স্বল্পমেয়াদি তহবিল জোগাড় হয়। ১৯৯০ সালের পর থেকে প্রতিটি শাটডাউনই এভাবে সমাধান হয়েছে।

কোন কোন সেবা বন্ধ থাকে?

মূলত অপ্রয়োজনীয় সরকারি কার্যক্রম ও কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফেডারেল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নিয়োগকর্তা। পিউ রিসার্চ সেন্টার অনুযায়ী, নভেম্বর পর্যন্ত এতে ৩০ লাখেরও বেশি কর্মী ছিল, যা দেশের মোট বেসামরিক কর্মীর প্রায় ১.৯ শতাংশ।

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাজেট বিলম্বিত হলে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ফেডারেল কর্মচারী ছুটিতে যেতে পারেন। তাদের হারানো মজুরি দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার হবে। শাটডাউন যত দীর্ঘায়িত হবে, কিছু সংস্থা ছাঁটাই বাড়াতে পারে। আবার অন্যরা জরুরি প্রয়োজনে কিছু কর্মী ফিরিয়ে আনতে পারে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button