প্রতিশ্রুতি বাড়লেও জুলাইয়ে দাতাদের অর্থছাড়ে বেশ ভাটা

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রতিশ্রুতি ও ছাড় কম থাকে। অন্তর্বর্তী সরকার উন্নয়ন প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা ধীরে চলো নীতি মেনে চলা হচ্ছে। তাই বিদেশী অর্থায়নে কিছুটা ভাটা থাকবেই।
- প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৪০৮ শতাংশের বেশি
- অর্থছাড় কমেছে ৪৩.৩২ শতাংশ
- দায় পরিশোধের চাপ ১৫.৯২ শতাংশ বেড়েছে
ইউরোপের ওপর ভর করেই চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের জুলাই মাসে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বেশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছয় কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার ডলার। প্রতিশ্রুতি বাড়লেও দাতাদের অর্থছাড়ে উন্নতি ঘটেনি। বরং ভাটাতেই রয়েছে। জুলাই মাসে আগের সময়ের তুলনায় ছাড় কমেছে ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা ৪৩.৩২ শতাংশ বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য থেকে জানা গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রতিশ্রুতি ও ছাড় কম থাকে। তবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও গ্রহণের ওপর উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধি এবং অর্থছাড়করণ নির্ভর করে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা ধীরে চলো নীতি মেনে চলা হচ্ছে। তাই বিদেশী অর্থায়নে কিছুটা ভাটা থাকবেই।
ইআরডির হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে চারটি চুক্তিতে মোট আট কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রতিশ্রুতি এসেছে। এর মধ্যে একটি ঋণ চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপ থেকে সাত কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
প্রতিশ্রুতি : এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এআইআইবি, জাপান, ভারত, চীন, রাশিয়া কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অন্যান্য খাত থেকে সাত কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রতিশ্রুতি গত জুলাই মাসে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের আইডিএ বা আন্তর্জাতিক উন্নয়নসহায়তা খাত থেকে ৬০ লাখ ডলার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। যেখানে গত অর্থবছর জুলাই মাসে মাত্র এক কোটি ৬৪ লাখ ডলার প্রতিশ্রুতি এসেছিল। সেখানেও ইউরোপ থেকে সর্বোচ্চ এক কোটি পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাওয়াতে সম্মান রক্ষা পেয়েছে। এবার তিনটি অনুদানে আট লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং একটি ঋণ চুক্তিতে আট কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার এসেছে।
অর্থছাড় : বিদায়ী অর্থবছর থেকেই উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ে বেশ ভাটায় ধরেছে। যার রেশ গত জুলাই মাসেও অব্যাহত ছিল। এডিবি প্রতিশ্রুতি না দিলেও পাইপলাইনে থাকা প্রতিশ্রুতি থেকে বেশ পরিমাণে অর্থছাড় দিয়েছে। জুলাই মাসে সংস্থাটি একাই পৌনে আট কোটি ডলার ছাড় করেছে। তবে ছাড় কমেছে ৪৩.৩২ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাইয়ের ৩৫ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ডলার যেখানে ছাড় হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের জুলাইয়ে হয়েছে মাত্র ২০ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার কম। অনুদান তিন লাখ ১০ হাজার ডলার আর ঋণ ২০ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
কে কত ছাড় করল : এডিবি সর্বোচ্চ ছাড় করার পর দ্বিতীয়তে রয়েছে বিশ্বব্যাংকে আইডিএ। তারা দিয়েছে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। জাপান এক কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, ভারত এক কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার ডলার, অন্যান্য থেকে তিন কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার ছাড় হয়েছে। চীন, রাশিয়া ও এআইআইবি কোনো অর্থ প্রতিশ্রুতি ও ছাড়ও করেনি।
দায় পরিশোধ : উন্নয়ন সহযোগীদের দেয়া দায় পরিশোধের চাপ আগের তুলনায় গত জুলাই মাসে ১৫.৯২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে যেখানে বাংলাদেশকে সুদাসলে ৩৮ কোটি ৫৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হয়েছিল, সেখানে এই বছর জুলাইয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ছয় কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। চলতি অর্থবছর জুলাই মাসে সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর আসল দিতে হয়েছে ৩২ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ডলার।