বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় কমাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বিদেশি শিক্ষাথী ও সাংবাদিকদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রস্তাবিত এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অবস্থানের সময় কমছে। আজ বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভিসায় বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না। আর বিদেশি সংবাদিকেরা ভিসা নিয়ে দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন মাত্র ২৪০ দিন। যদিও তাঁরা বাড়তি আরও ২৪০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আবেদন করতে পারবেন। তবে চীনের সাংবাদিকেরা ব্যতিক্রম। তাঁরা শুধু ৯০ দিনের ভিসা পাবেন।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাঁদের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং বিদেশি সাংবাদিকেরা তাঁদের নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্ব না শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন। যদিও অভিবাসী নন, এমন কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের বেশি অবস্থানের জন্য ভিসা দেয় না মার্কিন সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, তারা অনির্দিষ্টসংখ্যক এমন বিদেশি শনাক্ত করতে পেরেছে, যাঁরা নিজেদের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে চলেছেন। এর উদ্দেশ্য, তাঁরা যেন শিক্ষার্থী হিসেবে ‘চিরদিন’ যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যেতে পারেন। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রশাসনগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছে দপ্তরটি।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছেন এবং মার্কিন করদাতাদের দেওয়া অর্থে ভাগ বসাচ্ছেন। যদিও তাঁরা কীভাবে ভাগ বসাচ্ছেন, তার ব্যাখ্যা দেয়নি মার্কিন দপ্তরটি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মার্কিন অর্থনীতিতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ এসেছিল বিদেশি শিক্ষার্থীদের থেকে।
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১১ লাখের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে স্বাগত জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এটি ছিল বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে দেশটির কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিত্বকারী জোট অ্যালায়েন্স অব হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন। তারা বলেছে, এটি শিক্ষাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর একটি বাধা।