Hot

ইউনূসের প্রতিষ্ঠান জবর দখল, বিচারের ভার দিলেন দেশবাসীর ওপর

বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা
এ যেন বল্লম-সড়কি নিয়ে চর দখলের মতোই। অপরিচিত কিছু লোক। ঝাড়ু, লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল। পটাপট কক্ষগুলোতে ঝুলিয়ে দেয়া হলো তালা। বলা হলো, ‘আমরাই এই প্রতিষ্ঠানের মালিক ! এখন থেকে এসব আমাদের!’ না। এটি কোনো বলিউড দৃশ্য নয়। বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ, নোবেল বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশি ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত অন্ততঃ ৮টি প্রতিষ্ঠান জবর দখল হয়ে যাওয়ার দৃশ্য। ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস অসহায়ত্বের স্বরে বললেন, ‘গ্রামীণ টেলিকম ভবন’ জবর দখল হয়ে যাচ্ছে! গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ তথ্য জানান তিনি। রাজধানীর মিরপুরে চিড়িয়াখানা সড়কে অবস্থিত ১৪ তলা বিশিষ্ট ‘গ্রামীণ টেলিকম ভবন’। জবর দখল হয়ে যাওয়া ৮টি প্রতিষ্ঠানসহ ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে এতে। ট্রাস্ট আইনে পরিচালিত সবগুলোর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সংবাদ সম্মেলনে দেয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষ্যমতে, গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত ১২ ফেব্রæয়ারি ওই ভবনে থাকা ৮টি অফিস দখল করে তালা মেরে দেয়া হয়। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে আইনি সহায়তা চেয়েও পাইনি। গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে থাকা ৮টি প্রতিষ্ঠান জবরদখল করে নেয়ার অভিযোগ তুলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,‘আমরা বহু রকমের দুর্যোগের ভেতর দিয়ে যাই। এরকম দুর্যোগ আর দেখি নাই। কোনোদিন যে, হঠাৎ করে বাইরে থেকে কিছু লোক এসে বলল, তোমরা সরে যাও!’ অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান জবরদখল করে নিচ্ছে। আমরা কার কাছে যাব ?

ম আইন লঙ্ঘনের একটি মামলায় কারাদন্ড প্রদান এবং অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিট দাখিলের পরপরই এ অভিযোগ তুললেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অস্বাভাবিক গতিতে শ্রম আইনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিচার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র যখন বিদেশি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে- মর্মে হুঁশিয়ারি দিয়েছে- তার পরপরই সামনে এলো ইউনূস প্রতিষ্ঠিত ‘গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট’র ভবন দখলের ঘটনা। গত ১২ ফেব্রæয়ারি সংঘটিত ঘটনার বিবরণ দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংবাদ সম্মেলন করেন।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রামীণ পরিবারের একটি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট’ সাফকবলা দলিলমূলে কেনা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ইউনুস সেন্টার, গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণসহ ১৬টি গ্রামীণ সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়। গত ১২ ফেব্রæয়ারি সাড়ে ৪টায় অফিস ছুটির পর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়ি চলে যান। গ্রামীণ টেলিকম ভবনের ৮তম তলায় ইউনূস সেন্টারে গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ ট্রাস্টসহ আরো ২টি প্রতিষ্ঠানের এম.ডি.গণ আলোচনা করছিলেন। বিকেল পৌনে ৫টার সময় হঠাৎ এক কর্মকর্তা এসে জানান, সাদা পোশাকধারী ৩৫ জন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের যথাযথ পরিচয়পত্র না দেখিয়ে মূল ভবনের ভেতর প্রবেশ করেন। তখন তাদের মধ্য থেকে একজন নিজেকে ‘কর্ণেল রাশেদ’ বলে পরিচয় দেন। তিনি জানান, তারা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এসেছেন এবং গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের অফিসে যাবেন। পরে তারা গ্রামীণ টেলিকম ভবনে গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের উপস্থিত কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড চেক করা শুরু করেন।

অফিস সময়ের পরও তাদের অফিস ত্যাগে বাধা দেয়া শুরু করেন। তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্নভাবে তাদেরকে ভয়-ভীতি দেখান। পরবর্তীতে তারা গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকদ্বয়ের সঙ্গে পৃথক মিটিং করে জানান যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান ও নতুন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণ’র এমডিদের সঙ্গে মিটিং শেষে তারা সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ২ জন প্রতিনিধিকে অফিসে রেখে যান। উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন যে, তাদের একজন প্রতিনিধি অফিস অর্ডার নিয়ে পথে আছেন। অর্ডার আসার পর তারা গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণের অফিস তালাবদ্ধ করবেন। পরদিন সকাল ১০টার সময় অফিস খুলে তারা পরবর্তী করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সবশেষে ওইদিন রাত ৯টা ১০ মিনিটে গ্রামীণ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক ব্যক্তি গত ১২ ফেব্রæয়ারি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.একেএম সাইফুল মজিদ স্বাক্ষরিত ৭টি অফিস আদেশ নিয়ে হাজির হন। আদেশগুলো বিলি করে গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণ’র অফিস তালাবদ্ধ করে একটি তালার চাবি দিয়ে আরেকটি তালার চাবি নিয়ে চলে যান।

এর মধ্যে ৪টি অফিস আদেশ গ্রামীণ টেলিকমের কাছে দেয়া হয়। যাতে গ্রামীণ টেলিকমের আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন’র ৩৫(ওওও) ধারা মোতাবেক ৩ জন ব্যক্তি যথাক্রমে : মাসুদ আখতার এন্ড অ্যাসোসিয়েট’র কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ জীম জোবায়ের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড.একেএম গোলাম রাব্বানী এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. গোলাম জাকারিয়া রহমানকে ‘গ্রামীণ টেলিকম’র পরিচালক মনোনীত করেন।

একইভাবে সাইফুল মজিদ স্বাক্ষরিত ৩টি আদেশ গ্রামীণ কল্যাণকে দেয়া হয়। এ ৩টি আদেশের ২টিতে যথাক্রমে : মোহাম্মদ জীম জোবায়ের এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদকে গ্রামীণ কল্যাণের আর্টিকেল অব এসোসিয়েশনের ৩২(ওওও) ধারা মোতাবেক গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালকমÐলীর ১৫৫তম সভায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১২ ফেব্রæয়ারি/২০২৪ তারিখ থেকে গ্রামীণ কল্যাণ’র পরিচালক মনোনীত করেন। অপর ২টি আদেশ দ্বারা ড. একেএম সাইফুল মজিদ তা নিজ স্বাক্ষরে গ্রামীণ টেলিকমের আর্টিকেল অব এসোসিয়েশনের ৫১ ধারা এবং গ্রামীণ কল্যাণের আর্টিকেল এসোসিয়েশনের ৪৮ ধারা মোতাবেক নিজেই নিজেকে ‘গ্রামীণ কল্যাণ’র পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করেন। অফিস আদেশগুলোর মধ্যে কোনো স্মারক নম্বর ছিলো না। পরের দিন ১৩ ফেব্রæয়ারি ৭টি অফিস আদেশ পুনরায় পাঠানো হলে তাতে হাতে লেখা স্মারক নম্বর উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরো বলেন, আমরা একটি ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা এই সুন্দর বিল্ডিংটা বানিয়েছিলাম অতি স¤প্রতি। আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংকে ছিলাম, তখন আমাদের অফিস ওখানে ছিল। যখন আমাদের যাওয়ার পালা আসল, তখন আমরা ভাবলাম আমরা সবাই মিলে একটা বিল্ডিং করি যেখানে আমরা শান্তিতে কাজকর্ম করতে পারব। এটাই সেই জিনিস; আমাদের স্বপ্নের বীজতলা। এটা তার একটা নমুনা।
ড. ইউনূস বলেন, হঠাৎ (১২ ফেব্রুয়ারি) দেখলাম বাইরের লোক এসে এটা জবরদখল করে নিচ্ছে। আমরা বাইরের লোক হয়ে গেলাম তাদের কাছে। তারা এটা তাদের নিয়মে চালানোর চেষ্টা করছে। আমি বুঝতে পারলাম না এটা কীভাবে হয়!

ঘটনাটি পুলিশকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। আমরা পুলিশকে বললাম যে এরকম কান্ড হচ্ছে। আপনারা এসে দেখেন। ঠিক করে দেন। পুলিশ প্রথমে (অভিযোগ) গ্রহণই করল না। তারপর একবার এসে ঘুরে গেল। কোনো অসুবিধা দেখল না। আমরা তাদের বললাম, দেখেন আমাদের দরজায় তালা দিয়ে যাচ্ছে তারা। সকাল বেলা এসে তালা খুলে দিচ্ছে। এখনো সেই পরিস্থিতি বিরাজমান।

‘দেশের আইন-আদালত কোথায় গেল?’ প্রশ্ন রেখে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে শুনছি এখানে ঝাড়ু নিয়ে মিছিল হচ্ছে। কেন হচ্ছে তাও বুঝছি না। আমরা ঝাড়ুর যোগ্য হয়ে গেলাম হঠাৎ করে? আমরা তো নিজের বাড়িতেই আছি। নিজের ঘরে আছি। আর কারও ঝামেলার মধ্যে তো আমরা যাই না। আমাদের যত প্রতিষ্ঠান আমরা গড়ে তুলেছি তার প্রধান কার্যালয় এখানে। আমার পেছনে আমার পাশে যারা দাঁড়িয়ে আছে সারাজীবন ধরে তারা কাজ করে গেছে এগুলোকে সফল করার জন্য। দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য।’

এই ভবনে থাকা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসার মুনাফার টাকায় গড়ে উঠেছে। এখানে হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার গ্রামীণ ব্যাংকের নেই। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে নাই। এর প্রতিকারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হবেন কি না- জানতে চাইলে জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আর কোথায় যাব?

তালা লাগানো প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ সামগ্রী, গ্রামীণ ফান্ড, গ্রামীণ শক্তি ও গ্রামীণ কমিউনিকেশন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মঈনুদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট বিভিন্ন মিডিয়ায় বলে বেড়াচ্ছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস পরিচালক গ্রামীণ ট্রাস্টের ৭টি প্রতিষ্ঠানেই নাকি তাদের মালিকানা আছে। আপনি চিন্তা করুন, গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়েছে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে। ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্ট চলছে ট্রাস্টের আইনে। অর্ডিন্যান্স বলে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো ট্রাস্টের অংশীদারিত্ব দাবি করতে পারে না। এটি সম্পূর্ণ গায়ের জোর। বিষয়টি নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না-জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, কেন আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলবো ? আমরাতো গ্রামীণ ব্যাংকের কেউ না। তিনি বলেন, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই যে তাদের মালিকানা আছে, সেটি তাহলে ৩৫ জনের দলবল দিয়ে চিঠি পাঠাতে হবে কেন ? একজনের সম্পত্তির ওপর অন্যজন আসে কিভাবে? তারা (গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা) মালিকানা দাবি করে মামলা করবে। করুক মামলা!

এর আগে গত ১৩ ফেব্রæয়ারি রাজস্ব সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিপক্ষে আদেশ দেন। আইনজীবীরা জানান, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ করবর্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২৫০ কোটি টাকা আয়কর দাবি করে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টকে নোটিশ দেয়। নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে কর কমিশনারের কাছে আপিল করেন ড. ইউনূস। কর কমিশনার সেটি খারিজ করে দিলে আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হয়। ট্রাইব্যুনালও ড. ইউনূসের আপিল খারিজ করে দেয়। পরে তিনি এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করেন হাইকোর্টে।

বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ২০১১ সালে নিজ প্রতিষ্ঠিত ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ থেকে সরানো হয়। সরকারের শেয়ার (২৫ শতাংশ) এবং ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বয়স-বিতর্ক তুলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় যে, তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছাড়েন। পরে একের পর এক তাকে পড়তে হয় নানাবিধ ঝামেলা। দায়ের হয় ১৬৮টি মামলা। সারা বিশ্বে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যাপক সমাদৃত হলেও নিজ দেশে তিনি হচ্ছেন ধারাবাহিক নিপীড়নের শিকার। এরই সর্বশেষটি ৮ প্রতিষ্ঠান জবরদখল হয়ে যাওয়া। কেন দখল হয়েছে? কারা দখল করেছে? এর সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসবের বিচারের ভার দিয়েছেন দেশবাসীর ওপর।

এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রতিষ্ঠানগুলো জবরদখল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশে-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রচার করছে তার প্রতিষ্ঠান জবরদখল হয়ে যাওয়ার খবর। ড. ইউনূসকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যেই ঘটলো এমন ঘটনা। এ যেন আন্তর্জাতিক মহলকে নগদ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেয়া। আন্তর্জাতিকমহল ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাঝখানেই ঘটছে একের পর এক এসব ঘটনা। মাত্রই ‘অস্বাভাবিক গতিতে’ বিচার প্রক্রিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
গত ১৩ ফেব্রæয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন, শ্রম এবং দুর্নীতি দমন আইনের অপব্যবহারের যে ধারণা তৈরি হচ্ছে, সেটা আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং ভবিষ্যতের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারি সত্তে¡ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান জবর দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্তকে ত্বরান্বিতই করবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

শ্রম আইনের একটি মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কারাদন্ড প্রদান এবং পরপরই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় চার্জশিট দাখিলের প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপরোক্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় ৩ বছর আগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের মামলায় গত ১ জানুয়ারি গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ইউনূসসহ ৪ জনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ঢাকার একটি শ্রম আদালত।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button