USA

বছরে ১৫ হাজার কোটি ডলার কর ফাঁকি দেন মার্কিন ধনীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ধনী মানুষেরা বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকি দেন বলে অভিযোগ করেছে দেশটির রাজস্ব বিভাগ। মার্কিন ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের (আইআরএস) তথ্যানুসারে, সে দেশের ধনী মানুষেরা প্রতিবছর ১৫০ বিলিয়ন বা ১৫ হাজার কোটি ডলার কর ফাঁকি দিচ্ছেন।

সিএনবিসির সংবাদে বলা হয়েছে, আইআরএস এবার কর ফাঁকি ধরতে ধনী ব্যক্তি, কোম্পানি ও অংশীদারদের ওপর চাড়াও হচ্ছে। যেসব করদাতার রিটার্ন অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির, তাঁদের ধরতে আইআরএস বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কমিশনার ড্যানি ওয়েরফেল। সব করদাতা যেন যৌক্তিক হারে কর দেন, তা নিশ্চিত করতে কর ফাঁকির প্রবণতা রোধ করতে চায় আইআরএস।

ড্যানি ওয়েরফেল আরও বলেন, কর ফাঁকি বা করের ব্যবধান বলতে যা বোঝায় তা হলো, মানুষের যে পরিমাণ কর দেওয়ার কথা এবং তাঁরা প্রকৃত অর্থে যে পরিমাণ কর দিচ্ছেন, তার ব্যবধান। সেই হিসাব করে দেখা গেছে, কর ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫০ বিলিয়ন বা ১৫ হাজার কোটি ডলার।

সাক্ষাৎকারে আইআরএস কমিশনার আরও বলেন, অনেক দিন ধরে তহবিলের অভাবে সংস্থায় কর্মী, প্রযুক্তি ও সম্পদের স্বল্পতা ছিল। জটিল প্রকৃতির রিটার্নগুলো নিরীক্ষা করতে যে পরিমাণ অর্থ, লোকবল ও প্রযুক্তি দরকার, তার অভাব ছিল। আইআরএসের পরিসংখ্যানে জানা যায়, যেসব করদাতার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ডলারের বেশি, গত এক দশকে তাঁদের নিয়ে নিরীক্ষা কমেছে ৮০ শতাংশ। তবে যাঁদের বার্ষিক আয় ১০ লাখ ডলারের কম, তাঁদের জমা দেওয়া রিটার্নের নিরীক্ষা ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

জটিল প্রকৃতির ফাইলের নিরীক্ষা করা আইআরএসের জন্য ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠছিল বলে মনে করেন ড্যানি ওয়েরফেল। তিনি বলেন, ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে বোঝা যায় ফাইলকারী জটিল হিসাব রিটার্ন দাখিল করেছেন, না সরল রিটার্ন। জটিল রিটার্ন যাঁরা দাখিল করেন, তাঁদের আইনজীবীসহ হিসাববিদ নিয়োগ দেওয়ার সক্ষমতা আছে। একই সঙ্গে আইআরএস এটাও নির্ধারণ করতে পারে যে কত টাকা পাওনা আছে। ওয়েরফেল বলেন, ‘আমাদের কাছে এটাই ন্যায্যতা।’

রিপাবলিকান পার্টির অনেক কংগ্রেস সদস্য আইআরএসের ক্ষমতায়ন ভালো চোখে দেখছেন না। তাঁরা বলছেন, নিরীক্ষার আওতা বাড়ানো হলে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হবে। তাঁরা মনে করেন, এতে বছরের পর বছর ধরে নিষ্ফলা তদন্ত হবে, এর বেশি কিছু নয়। এর মাধ্যমে যে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আছে, তা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলেই তাঁরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের কল্যাণে আইআরএস আট হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরা গত বছর দুই হাজার কোটি ডলার সহায়তা ফিরিয়ে নেওয়ার আরজিতে জিতেছেন। এখন তাঁরা আরও তহবিল হ্রাস করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

আইআরএস অবশ্য প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছে বলে মনে করছে। মিলিয়নিয়ারদের কাছ থেকে অপরিশোধিত কর আদায়ের কর্মসূচি থেকে এই সফলতা এসেছে বলে তাঁরা দাবি করছেন। আইআরএস এমন ১ হাজার ৬০০ কোটিপতির তালিকা করেছে, যাঁরা অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার কর দেননি। এখন পর্যন্ত আইআরএস তাঁদের কাছ থেকে ৪৮ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। ওয়েরফেল বলেছেন, এই প্রক্রিয়া এখনো চলছে।

আইআরএস কমিশনার আরও বলেন, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁর সংস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কর ফাঁকি দেওয়া মানুষদের ধরতে এসব প্রযুক্তি কাজে আসবে। এআই দিয়ে কেবল যে কর ফাঁকি বের করা যায় তা নয়, যাঁরা নিয়মকানুন অনুসরণ করে কর দিচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করতেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

ড্যানি ওয়েরফেল বলেন, ‘ধরা যাক, নিরীক্ষার সব কাগজপত্র আমাদের সামনে টেবিলের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, এ ক্ষেত্রে এআই নাইট ভিশন গগলসের মতো কাজ করে। কারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন বা কাদের বেলায় কর ফাঁকি দেওয়ার ঝুঁকি কম, তা চিহ্নিত করতে এই নাইটভিশন গগলস কাজে লাগে। এই প্রযুক্তির জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন।’

Show More

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button