Trending

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার পরিস্থিতির নিবিড় পর্যবেক্ষণের তাগিদ

বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে: জিইডি

বাংলাদেশ অর্থনীতি স্থিতিশীলতার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী ডিজিটাল লেনদেন, বৈদেশিক খাতে ভারসাম্যের উন্নতি ও রপ্তানি বৃদ্ধি। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু সূচকে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি উপকরণের সময়মতো সরবরাহ এবং বাজার পরিস্থিতির নিবিড় পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে জিইডি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগের বছরের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে ব্যবসায়ী লেনদেন ও বেতন প্রদানের মতো খাতে লেনদেন বেড়েছে।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। উৎসব-সংক্রান্ত ব্যয়ের কারণে এ সময় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৫৩৭৫৭ কোটি টাকা থেকে ১৭৮১২৭ কোটি টাকার মধ্যে। একইভাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ই-কমার্স লেনদেন আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে কৃষিঋণ বিতরণ সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৫৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় পৌঁছায়, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়েও বেশি। শিল্পোৎপাদনে অস্থিরতা সত্ত্বেও স্থিতিশীলতা দেখা গেছে, যেখানে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি ২০২৪ সালের আগস্টের নিম্নগতি কাটিয়ে ঐ বছরের অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ১১.৩৯ শতাংশে পৌঁছায়।

জিইডি জানায়, বৈদেশিক খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরে প্রথম ইতিবাচক অঙ্ক। সামগ্রিক ভারসাম্যেও ৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে চলমান ঘাটতির বিপরীত প্রবণতা। বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীল আয়ের ফলে এ পরিবর্তন এসেছে।

রপ্তানিও নতুন গতি পেয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। আমদানি খাতেও ইতিবাচক পুনরুদ্ধার হয়েছে। রেমিট্যান্সপ্রবাহ অর্থনীতিতে আরেকটি বড় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মাসিক রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২৪৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালের একই মাসের তুলনায় ২৯.৫ শতাংশ বেশি।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, চালের দাম খাদ্য ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর এখনও উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। মে মাসে যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে চালের অবদান ছিল ৪০ শতাংশ, জুলাই মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১.৫৫ শতাংশে। চিকন, মাঝারি ও মোটা সব ধরনের চালেই জুলাই মাসে প্রায় ১৫ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে।

জিইডি সতর্ক করেছে, আগামী মাসগুলোতে অনিয়মিত আবহাওয়ার ধরন দেখা দিতে পারে, যা চালের দাম বাড়িয়ে তুলতে পারে। এজন্য স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে আমদানি ত্বরান্বিত করা, সংগ্রহ কার্যক্রম বাড়ানো এবং ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ বিস্তৃত করার পরামর্শ দিয়েছে জিইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সামষ্টিক অর্থনীতির বহুমুখী চ্যালেঞ্জগুলো ‘ভারসম্যাপূর্ণ উপায়ে’ মোকাবিলা করা হয়েছে। এটি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর টানা দ্বিতীয় মাস সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে ছিল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Bangladesh

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ম‌নিটারি পলিসি কমিটি পুনর্গঠন

নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গভর্নর সহ চারজন ও বাইরের তিনজন নিয়ে মোট সাত সদস্যের কমিটি হবে।

কার্যকরীভাবে দেশের মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএএফ) পরামর্শ অনুযায়ী এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ সদস্য বিশিষ্ট ম‌নিটারি পলিসি কমিটি পুনর্গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন এই ফরম্যাট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গভর্নরসহ চারজন ও বাইরের তিনজন নিয়ে মোট সাত সদস্যের কমিটি হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এই কমিটির সভাপতি থাকবেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বাকি তিনজন সদস্য হবেন- চিফ ইকোনমিস্ট, ম‌নিটারি পলিসি বিভাগের ডেপুটি গভর্নর ও ম‌নিটারি পলিসি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরে বাকি তিনজন হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ও দেশের একজন সুপরিচিত অর্থনীতিবিদ।

যদিও আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ম‌নিটারি পলিসি 8 সদস্য বিশিষ্ট হতো, যা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারাই হতেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সভাপতি, চারজন ডেপুটি গভর্নর- চিফ ইকোনমিস্ট, ম‌নিটারি পলিসি বিভাগের পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালক সদস্য হতেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, “এতদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ম‌নিটারি পলিসি কমিটি ছিল ইনফরমাল। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ম‌নিটারি পলিসি গঠনে একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হলো ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতিকে ৮%-এ নামিয়ে আনা।”

গত মার্চ থেকে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে ৯% এর উপরে রয়েছে, নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য যা জীবনযাত্রার ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে আসছে। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯.৬৩% হয়েছে, যা আগস্টে ৯.৯২% ছিল। 

খাদ্য মূল্যস্ফীতিও সেপ্টেম্বরে ১২.৩৭% এ নেমে আসে, যা আগস্টে ১২.৫৪% ছিল, গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, “এই ম‌নিটারি পলিসির ফরম্যাটের কারণে আমাদের কাজ আরও সহজ হয়ে যাবে। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় সহজ হবে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন এ কমিটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য মুদ্রানীতি প্রণয়ন করবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button