Science & Tech

এআই দিয়ে উইন্ডোজ ও ম্যাকওএস ব্যবহারকারীদের ব্লু-নরফের হামলা

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে  ল্যাজারাস গ্রুপের উপশাখা ব্লু-নরফ, ‘ঘোস্টকল’ ও ‘ঘোস্টহায়ার’ এর মাধ্যমে ওয়েব-৩ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সাইবার হামলা করা হচ্ছে। ভারত, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে ক্যাসপারস্কির গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, থাইল্যান্ডে সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট সামিটে ক্যাসপারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম ব্লু-নরফ নামের অ্যাডভান্সড পারসিস্টেন্ট থ্রেট গ্রুপের সাম্প্রতিক কার্যক্রম প্রকাশ করেছে। ঘোস্টকল ও ঘোস্টহায়ার নামে দুটি ‘হাইলি টার্গেটেড ম্যালিশিয়াস ক্যাম্পেইন’এর মাধ্যমে পরিচালিত এই হামলা চালানো হচ্ছে।

ল্যাজারাস গ্রুপের উপশাখা ব্লু-নরফ, ‘ঘোস্টকল’ ও ‘ঘোস্টহায়ার’-এর মাধ্যমে তাদের আড়ের স্ন্যাসক্রিপ্টো ক্যাম্পেইন আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনে মূলত ম্যাকওএস ও উইন্ডোজ ব্যবহারকারী ব্লকচেইন ডেভেলপার এবং প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তাদের টার্গেট করছে। 

‘ঘোস্টকল’ ক্যাম্পেইনে উন্নত সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে হ্যাকাররা টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট পরিচয়ে উপস্থাপন করে। এরপর ভিকটিমদের ফিশিং সাইটে ভুয়া মিটিংয়ে আমন্ত্রণ করে। সেখানে দেখানো ‘আপডেট’ ইনস্টল করতে উৎসাহিত করে, যা আসলে ম্যালওয়্যার ইনস্টল করে হ্যাকারদের সিস্টেমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।  

 ক্যাসপারস্কি জিআরইএটি-এর সিকিউরিটি রিসার্চার সোজুন রিউ বলেন, এই অভিযানে ছিল পরিকল্পিত ও নিখুঁত প্রতারণার কৌশল। আক্রমণকারীরা আগের ভুক্তভোগীদের ভিডিও ব্যবহার করে সাজানো মিটিংয়ে সেটি রিপ্লে করে দেখাতো, যেন কলটি বাস্তব মনে হয়। 

এই ক্যাম্পেইনে হ্যাকাররা সাত ধাপে কার্যকরী একাধিক এক্সিকিউশন চেইন ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ নতুন কৌশল রয়েছে।

ক্যাসপারস্কি জিআরইএটি-এর সিনিয়র সিকিউরিটি রিসার্চার ওমর আমিন বলেন, আগের অভিযানের পর থেকে হামলার কৌশল কেবল ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ব্রাউজারের ক্রেডেনশিয়াল চুরিতে সীমাবদ্ধ নেই। জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এই প্রক্রিয়া খুব দ্রুত হচ্ছে, আর ম্যালওয়্যার তৈরি করা সহজ হচ্ছে।

ঘোস্টকল ও ঘোস্টহায়ার সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য এবং ইন্ডিকেটর অব কমপ্রোমাইজ পাওয়া যাবে ক্যাসপারস্কির গবেষণা প্ল্যাটফর্ম Securelist.com-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে।

গবেষকরা এই ধরনের আক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন যোগাযোগ বা পার্টনার যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অপরিচিত বা যাচাইবিহীন স্ক্রিপ্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে ও সবসময় নিরাপদ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button