USA

ক্যারিবীয় সাগরে ‘মাদকবাহী নৌযানে’ যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৬

ক্যারিবীয় সাগরে কথিত মাদকবাহী একটি নৌযানে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সন্দেহভাজন ছয় মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন।

ক্যারিবীয় সাগরে কথিত মাদকবাহী একটি নৌযানে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সন্দেহভাজন ছয় মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এটিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, পরমাণু শক্তি চালিত সাবমেরিন ও কয়েক হাজার সেনা।

এক্সে দেয়া এক পোস্টে হেগসেথ বলেছেন, সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই অভিযানের অংশ হিসেবে এটি ছিল প্রথম রাতের হামলা। হামলাটি রাতে চালানো হয় এবং নৌযানটি ভেনেজুয়েলাভিত্তিক অপরাধচক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়ার’ নিয়ন্ত্রণে ছিল বলেও তিনি জানান।

যদিও নৌযানটিতে কী বহন করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ দেননি হেগসেথ। তিনি প্রায় ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা গেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নৌযানটি বিস্ফোরিত হয়ে ডুবে যায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, তার প্রশাসন মাদকচক্রবিরোধী অভিযান নিয়ে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে অবহিত করবে। তিনি আরো জানিয়েছেন, যুদ্ধ ঘোষণার প্রয়োজন না থাকলেও, এবার স্থলভাগে মাদকচক্রবিরোধী অভিযান চালানো হবে।

সর্বশেষ হামলাসহ যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে কথিত মাদকবাহী নৌযানের ওপর মোট ১০টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন। পেন্টাগন এ নিয়ে খুব সামান্য তথ্য দিয়েছে। তবে জানিয়েছে, এর কিছু হামলা ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছাকাছি চালানো হয়েছে।

এই হামলাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু আইন বিশেষজ্ঞ ও ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা। তাদের প্রশ্ন-এসব অভিযান যুদ্ধবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।

গত সপ্তাহে এএফপি প্রথম জানায়, ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা থেকে দুই সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী বেঁচে গেছেন। তাদের উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এক যুদ্ধজাহাজে নেয়া হয়। পরে নিজ নিজ দেশ কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানো হয়।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো বারবার অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। গত আগস্টে ওয়াশিংটন মাদুরোর গ্রেফতারের তথ্য দিতে পারলে পুরস্কার দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাদুরোর সাথে মাদক পাচার ও অপরাধচক্রের যোগসাজশ রয়েছে-যা মাদুরো অস্বীকার করেছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button