Science & Tech

সমুদ্রের অগভীর পানিতে বিরল ব্ল্যাক সিডেভিল মাছের দেখা

সমুদ্রের কয়েক হাজার ফুট গভীরে বসবাসকারী এক বিরল প্রজাতির ব্ল্যাক সিডেভিল অ্যাংলারফিশকে এবার প্রথমবারের মতো সমুদ্রের অগভীর পানিতে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। আফ্রিকার উপকূলবর্তী ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে এই মাছটি ক্যামেরায় ধারণ করেছেন স্প্যানিশ এনজিও কনড্রিক টেনেরিফ এবং সামুদ্রিক জীবন বিষয়ক আলোকচিত্রী ডেভিড জারা বোগুনা। 

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশাল মুখভর্তি ধারালো দাঁতবিশিষ্ট এই মাছকে চলতি মাসের শুরুতে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ উপকূলে দেখা যায়। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক ভিডিওতে মাছটিকে সূর্যের আলোয় সমুদ্রের স্বচ্ছ পানির মধ্যে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এটি সম্ভবত বিশ্বের প্রথম জীবিত ব্ল্যাক সিডেভিল অ্যাংলারফিশের ক্যামেরায় ধরা পড়ার ঘটনা, তাও দিনের আলোয় এবং সমুদ্রের অগভীর পানিতে!’

কেন গভীর সমুদ্র ছেড়ে উপরে উঠে এল এই ভয়ংকর মাছ?
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন, কেন এই গভীর সমুদ্রের মাছ অগভীর পানিতে উঠে এসেছিল। তবে গবেষক দলের ধারণা, হয়তো এটি অসুস্থ ছিল বা কোনো শিকারির হাত থেকে বাঁচতে ওপরে উঠে এসেছিল। ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পরই মাছটি মারা যায়। সাধারণত এই মাছ ৬৫০ থেকে ৬,৫০০ ফুট গভীর পানিতে বসবাস করে। এর আগে এই প্রজাতির মাছ সম্পর্কে যত তথ্য পাওয়া গেছে, তার বেশিরভাগই ছিল মৃত নমুনা, লার্ভা বা গভীর সমুদ্রে সাবমেরিনের মাধ্যমে পাওয়া ছবি। 

কনড্রিক টেনেরিফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অধিকাংশ তথ্য মৃত বা সাবমেরিনে দেখা নমুনার ভিত্তিতে এসেছে। ফলে এই দর্শনটি অত্যন্ত বিরল এবং গুরুত্বপূর্ণ।

সমুদ্রের কালো দানব মাছের ভয়ংকর বৈশিষ্ট্য

ব্ল্যাক সিডেভিল অ্যাংলারফিশের দেহ সম্পূর্ণ কালো, যা গভীর সমুদ্রের আবাসস্থলের সঙ্গে মিশে যায়। এর দাঁত রেজারের মতো ধারালো। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, স্ত্রী অ্যাংলারফিশের মাথায় একটি ‘ফিশিং রড’-এর মতো আলোকিত অঙ্গ থাকে, যা শিকার আকৃষ্ট করতে সাহায্য করে। ডিজনির জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ফাইন্ডিং নেমো’-তেও এই কৌশল দেখানো হয়েছিল, যেখানে ছোট মাছ আলো আকৃষ্ট হয়ে এলে অ্যাংলারফিশ মুহূর্তের মধ্যে তাকে গিলে ফেলে।

স্ত্রী মাছেরা বেশি শক্তিশালী, পুরুষরা রয়ে যায় ক্ষুদ্র আকৃতির
অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী ব্ল্যাক সিডেভিল মাছ পুরুষের তুলনায় অনেক বড় এবং শক্তিশালী হয়ে থাকে। স্ত্রী মাছের দৈর্ঘ্য ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে পুরুষ মাছের দৈর্ঘ্য মাত্র ১ ইঞ্চির কাছাকাছি হয়। পুরুষদের দেহে শিকারের জন্য আলোকিত অঙ্গ থাকে না।

বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের নতুন দিগন্ত
এই বিরল দর্শনের কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে কনড্রিক টেনেরিফ দলের সদস্য সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী লায়া ভালোরকে। গবেষকরা কয়েক ঘণ্টা মাছটিকে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে এটি ইতোমধ্যে আঘাতপ্রাপ্ত ছিল এবং বাঁচতে পারেনি। এত গভীর সমুদ্রের প্রাণীকে জীবিত অবস্থায় দিনের আলোয় দেখা বিজ্ঞানীদের জন্য এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়তা করবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button