Science & Tech

দূর মহাকাশে জন্ম নিল নতুন তারা

মহাবিশ্বের অন্যতম উজ্জ্বলতম এবং ভয়ংকর বিস্ফোরণের খোঁজ পেলেন গবেষকরা। গামা-রশ্মি বিস্ফোরণের উৎস নিয়ে এবার দীর্ঘদিনের রহস্যের কিনারা হতে চলেছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত শক্তিশালী জিআরবির মধ্যে লুকিয়ে থাকা একটি পুনরাবৃত্তিমূলক সংকেত বা ‘হৃদস্পন্দন’ আবিষ্কার করেছেন। যা ইঙ্গিত দেয় যে এই ধরনের কিছু বিস্ফোরণের পেছনের শক্তি ব্ল্যাক হোল নয় বরং একটি সদ্যোজাত অতি-চুম্বকীয় নিউট্রন তারা। যার নাম মিলিসেকেন্ড ম্যাগনেটার।

২০২৩ সালের ৭ই মার্চ উপগ্রহগুলিতে GRB 230307A নামে একটি গামা-রশ্মি বিস্ফোরণ ধরা পড়ে। এটি ছিল এযাবৎকালের রেকর্ড করা দ্বিতীয় উজ্জ্বলতম বিস্ফোরণ। বিজ্ঞানীদের মতে, দুটি ঘন নক্ষত্রের—সম্ভবত নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষ এবং একত্রিত হওয়ার ফলে এই ঘটনা ঘটে।

তবে এই বিস্ফোরণের একটি বিশেষ দিক ছিল এর অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময়কাল। যা ছিল প্রায় এক মিনিট ধরে চলে। সাধারণত, এই ধরনের নক্ষত্র একত্রীকরণ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণগুলির দুই সেকেন্ডেরও কম সময় ধরে চলার কথা। এই দীর্ঘস্থায়ী বিস্ফোরণই বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

হংকং ইউনিভার্সিটি, নানজিং ইউনিভার্সিটি এবং চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল চিনের GECAM এবং নাসার Fermi উপগ্রহের ৬ লাখেরও বেশি ডেটা সেট ঘেঁটে দেখেন। সেখানেই তারা একটি নিয়মিত, ছন্দবদ্ধ সংকেত খুঁজে পান। এই সংকেতটি প্রতি সেকেন্ডে ৯০৯ বার পুনরাবৃত্ত হচ্ছিল। যা থেকে বোঝা যায় যে উৎসের নক্ষত্রটি অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে ঘুরছে।
এই দ্রুত স্পন্দনটিই হল গামা-রশ্মি বিস্ফোরণের ভেতরে মিলিসেকেন্ড ম্যাগনেটারের অস্তিত্বের প্রথম সরাসরি প্রমাণ।

গবেষণার সহলেখক হংকং ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যা বিভাগের চেয়ার প্রফেসর বিং ঝাং বলেন, এই ঘটনাটি আমাদের একটি বিরল সুযোগ দিয়েছে। এর লুকানো ‘হৃদস্পন্দন’ উন্মোচন করে আমরা এখন আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি যে কিছু GRB ব্ল্যাক হোল দ্বারা নয়, বরং নবজাতক ম্যাগনেটার দ্বারা চালিত হয়।

আশ্চর্যজনকভাবে, এই অত্যন্ত দ্রুত ঘূর্ণনের সংকেতটি মাত্র ১৬০ মিলিসেকেন্ডের জন্য দৃশ্যমান ছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ম্যাগনেটারের তীব্র ঘূর্ণন তার চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে গামা-রশ্মির জেটের উপর একটি পর্যায়ক্রমিক ছাপ ফেলে। কিন্তু জেটটি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় নির্গমন যখন ক্ষণিকের জন্য অ-প্রতিসম হয়, তখনই কেবল এই ‘হৃদস্পন্দন’টি ধরা পড়ে। খুব দ্রুতই জেটের প্রতিসাম্য আবার ফিরে আসে এবং সংকেতটি হারিয়ে যায়।

এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের সবচেয়ে চরম বিস্ফোরণগুলির সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে দুটি ঘন নক্ষত্রের ভয়ংকর মিলনের পরেও নবজাতক ম্যাগনেটারগুলি টিকে থাকতে পারে। এই গবেষণা গামা-রশ্মি, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ এবং ঘন নক্ষত্রের পদার্থবিদ্যার মধ্যে নতুন যোগসূত্র তৈরি করেছে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button