Trending

বিশ্বের অধিকাংশ ঐতিহাসিক স্থান খরা অথবা বন্যার ঝুঁকিতে : জাতিসঙ্ঘ

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে হারিকেন ঝড়, খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহসহ চরম আবহাওয়া এখন আরো তীব্র হয়ে উঠেছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।

জাতিসঙ্ঘের সংস্কৃতি সংস্থা-ইউনেস্কো মঙ্গলবার জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান (হেরিটেজ) বর্তমানে খরা অথবা বন্যার ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে হারিকেন ঝড়, খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহসহ চরম আবহাওয়া এখন আরো তীব্র হয়ে উঠেছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।

এএফপি জানায়, ইউনেস্কোর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা সমুদ্র থেকে দূরবর্তী স্থলভাগে মোট ১ হাজার ১৭২টি হেরিটেজের মধ্যে ৭৩ শতাংশই অন্তত একটি গুরুতর জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন — যেমন পানির চাপ, খরা, নদী বা উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইউনেস্কোর প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশ এবং চীনের উত্তরাঞ্চলের মতো অঞ্চলে পানির সঙ্কট আরো তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পরিবেশ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং পর্যটন নির্ভর অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

গবেষণায় দেখা যায়, পানির ঘাটতির কারণে সাংস্কৃতিক স্থানগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে। আর প্রাকৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নদী প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ভারতের আগ্রার তাজমহল বর্তমানে এমন পানির সংকটে ভুগছে। এতে দূষণ বাড়িয়ে তুলছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস করছে। এর ফলে সমাধিটির ক্ষতি হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, ২০২২ সালে এক বিশাল বন্যার কারণে ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং তা পুনরায় চালু করতে ২ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়।

আরো কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। বাইবেলের ‘গার্ডেন অব ইডেন’ নামে উল্লেখিত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের জলাভূমির পানির ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ ব্যবহার করছে। ফলে চাপের মুখে পড়েছে এ জলাভূমি। এখানকার গরম জলবায়ুর কারণে পানির জন্য ছোটাছুটি আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমান্তে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া ফলস খরার কারণে বারবার শুকিয়ে যাচ্ছে। পেরুর প্রাচীন শহর চান চান, যার এক হাজার বছরের পুরনো মাটির তৈরি দেয়াল রয়েছে, সেটিও নদী প্লাবনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা সৃষ্টি করছে। এতে জলাভূমিগুলো ধ্বংস হচ্ছে। এসব জলাভূমিতে পানকৌড়ি খাবার সংগ্রহ করে থাকে।

ইউনেস্কো জানায়, জলবায়ু ঝুঁকির কারণে বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষা করা আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button