
ভোক্তা অধিকার: ছদ্মবেশের আড়ালে আসল কালপ্রিটকে হাইড করা নয়তো !
ভোক্তা অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মোবাইল কোর্ট ও বাজার অভিযানকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নামে প্রান্তিক দোকানদারকে টার্গেট করা হলেও বড় সিন্ডিকেট বা মূল অপরাধীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা অধিধপ্তরের (BFSA) কার্যক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সাবেক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সচিব সম্প্রতি এক আলোচনায় বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে অবস্থান করায় খাদ্য নিরাপত্তা অধিধপ্তরের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। তার মতে, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে BFSA–কে প্রশাসনিকভাবে আরও স্বাধীন হতে হবে, যাতে কোনো অনুমতির বাধা ছাড়াই তারা আইন প্রয়োগ করতে পারে।
ক্ষমতা আছে, প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা
২০১৩ সালের খাদ্য নিরাপত্তা আইনে BFSA–কে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, নমুনা সংগ্রহ, লাইসেন্স বাতিল, উৎপাদন বন্ধসহ বিভিন্ন ক্ষমতা দেওয়া হলেও বাস্তবতায় অনেক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয় সংস্থাটিকে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি,
- পর্যাপ্ত জনবল নেই,
- নিজস্ব ল্যাবরেটরি সুবিধা সীমিত,
- এবং মন্ত্রণালয়-নির্ভর কাঠামোর কারণে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।
এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP)–এর অভিযানের ধরনও সমালোচনার মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে জরিমানা-কেন্দ্রিক অভিযানে বড় চক্রের পরিবর্তে অনেক সময় ছোট ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মূল অপরাধীরা আড়ালের নেপথ্যে?
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে,
ভেজাল, অনিয়ম ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মূল কারণ হলো প্রকৃত উৎসে নজরদারি না থাকা। অধিকাংশ অভিযানে ফোকাস থাকে খুচরা দোকান বা ছোট ব্যবসায়ীর ওপর; অথচ উৎপাদন, সরবরাহ ও আমদানির বড় অংশেই অনিয়ম ঘটে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ভোক্তা সংগঠন বলেছে, “অভিযানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাজারচক্রের গডফাদারদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা”, যা বর্তমান কাঠামোয় যথেষ্ট জোরালোভাবে হচ্ছে না।
কাঠামো পরিবর্তনের দাবি
সাবেক সচিবসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারক মনে করেন
BFSA–কে কার্যকর করতে হলে সংস্থাটিকে স্বাধীন কমিশন বা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ/প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে আনা প্রয়োজন। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তদারকি এবং আইনপ্রয়োগ সহজ হবে বলে তাদের ধারণা।
নিরাপদ খাদ্য নাগরিকের অধিকার
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিরাপদ খাদ্য শুধুমাত্র বাজার অভিযান বা জরিমানার ওপর নির্ভর করে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন উৎপাদন ও সরবরাহের মূল পর্যায়ে স্বচ্ছতা, সমন্বিত তদারকি, এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা।
ভোক্তাদের প্রশ্ন একটাই খাদ্যের নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে এবং কবে?
এ প্রশ্নের স্পষ্ট ও কার্যকর সমাধান এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে জরুরি হয়ে উঠেছে।








