
ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল : সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন বলেছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা অন্য কোনো সংস্থার দ্বারা আমরা প্রভাবিত হয়ে কাজ করব না। নির্বাচন কমিশন নিজস্ব আইন-কানুন ও নিয়ম-নীতি মেনে নিজস্ব সিদ্ধান্তে নির্বাচন পরিচালনা করবে। এখানে কারো কোনো প্রভাব বা নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, এবং আমরা তা শুনবও না।
গতকাল শনিবার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বরিশালে বিভাগীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, সকলের কাছেই আমাদের মুল ম্যাসেজটাই হচ্ছে জাতিকে একটি সুন্দর নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য আইন অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করবে। তারা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আগে যে দুই তিনটা নির্বাচন হয়েছে সেই ধরনের নির্বাচন হওয়ার কেন সম্ভাবনা নাই।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, চ্যালেঞ্জ আসবে, আমরা হাসিমুখে মোকাবেলা করবো। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে যত ধরনের সমস্যাই আসুক আমরা হাসিমুখে এটাকে মোকাবেলা করবো। তিনি আগামী নির্বাচনে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। নির্বাচনের সময় সত্য মিথ্যা যাচাই না করে কেউ যদি গুজব ছড়ায় তা থেকে বড় ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও চান সিইসি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আইন করেছে বলেও জানান তিনি। আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। অপতথ্য রোধে নির্বাচন কমিশন অফিসের কার্যালয়ে একটি সেল খোলা হয়েছে।
সিইসি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে রমজানের আগে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছি। প্রথমবারের মতো বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। যত চ্যালেঞ্জই আসুক, আইন মেনেই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
এনসিপি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, একটি দলের প্রতীক নিতে গেলে আইনানুগ বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত যে প্রতীক আছে, সেখান থেকেই নিতে হয়-এটাই আইনের বিধান। তারা যেটি চেয়েছেন, সেটি আমাদের তালিকাভুক্ত নয়, তাই সেটা দেয়া সম্ভব নয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে। নিষিদ্ধ দল ততদিন পর্যন্ত নির্বাচনে আসতে পারবে না, যতদিন না পর্যন্ত তাদের বিচার সম্পন্ন হয়। তবে তাদের সমর্থকরা ভোট দিতে পারবে।
এর আগে সকাল ১০টায় বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।






