International

ম্যাক্রনকে সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন অথবা পদত্যাগের চাপ

তীব্র রাজনৈতিক চাপে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের পাশাপাশি সাবেক মিত্রদের কাছ থেকেও বাড়ছে এই চাপ। তারা দাবি তুলেছেন পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। না হয় ম্যাক্রনকে পদত্যাগ করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে এই রাজনৈতিক সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

মঙ্গলবার ম্যাক্রনের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি ১৯৫৮ সালে পঞ্চম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফ্রান্সের অন্যতম সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা। ফিলিপ ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং বর্তমানে ম্যাক্রন-সমর্থিত একটি দলের নেতা। তিনি জানান, ২০২৬ সালের বাজেট পাসের পরই ম্যাক্রনের উচিত হবে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘোষণা করা। ম্যাক্রন ২০২২ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০২৪ সালের আগাম সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তার নিযুক্ত কোনো প্রধানমন্ত্রীই সংসদে বাজেট পাসের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। ফিলিপ বলেন, সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা আমরা গত ছয় মাস ধরে দেখছি, তা আর টানা যাবে না। আরও ১৮ মাস এভাবে চলা ফ্রান্সের জন্য ক্ষতিকর। এখনকার রাজনৈতিক খেলা একেবারেই হতাশাজনক।

মতামত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্যপন্থী রাজনীতির নেতৃত্বে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী তিনিই। কিন্তু তিনি একা নন- ম্যাক্রনের আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতালও প্রেসিডেন্টের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। আতাল ২০২৪ সালে ম্যাক্রনের ডাকা আগাম নির্বাচনের পর স্বল্প সময়ের জন্য ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে তরুণ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি বলেন, তিনি আর প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তগুলো বুঝতে পারছেন না। বর্তমানে আতাল ম্যাক্রনের প্রধান দল ‘রেনেসাঁ’র নেতৃত্বে আছেন। তিনি বলেন, দুই বছরের কম সময়ে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পর এখন সময় এসেছে নতুন কিছু চেষ্টা করার। তিনি ম্যাক্রনের সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করেন।

এই আহ্বান আসে সোমবার যখন সদ্য নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু মাত্র ২৮ দিন দায়িত্বে থাকার পর নিজের ১৪ ঘণ্টা বয়সী মন্ত্রিসভাসহ পদত্যাগ করেন। তবে ম্যাক্রন তাকে অনুরোধ করেন, শেষবারের মতো দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদে সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করতে। ম্যাক্রন লেকর্নুকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন স্থিতিশীলতা ও কার্যক্রমের একটি রূপরেখা তৈরি করার জন্য। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল, অতিদক্ষিণপন্থী ন্যাশনাল র‌্যালি এই বৈঠকে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ফরাসি সংবাদপত্র লা মন্ডে তার সম্পাদকীয়তে লিখেছে, এই সংকট ‘একটি ট্র্যাজিক প্রহসন’ এবং ২০২২ সালে ম্যাক্রনের পুনঃনির্বাচনের পর থেকে তার দ্বিতীয় মেয়াদের ‘অবক্ষয়ের প্রতীক’। তারা লিখেছে, ‘প্রেসিডেন্ট এখন গভীর সংকটে।’ পত্রিকাটি পুরো ফরাসি রাজনৈতিক শ্রেণিকে অভিযুক্ত করেছে যে, তারা ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থ’ এবং ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কিন্তু আগামী মাসগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতা গড়তে অনিচ্ছুক।

ফ্রান্সে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুরু হয় ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকে, যখন সংসদে তিনটি প্রায় সমান শক্তির জোট গঠিত হয়- বামপন্থী, অতিদক্ষিণপন্থী এবং ম্যাক্রনের মধ্য-ডানপন্থী জোট- যার কোনোটিই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এখন ম্যাক্রনের সামনে কয়েকটি বিকল্প আছে। তা হলো- লেকর্নুকে পুনরায় নিয়োগ দেয়া। নতুন কোনো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া- সম্ভবত কোনো দলনিরপেক্ষ প্রযুক্তিবিদ, যিনি তার অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হবেন অথবা সংসদ ভেঙে আবারও আগাম নির্বাচন ডাকা। তিনি আগে বলেছেন, নতুন নির্বাচন ডাকতে তিনি অনিচ্ছুক। কারণ তা আবারও বিভক্ত সংসদ তৈরি করতে পারে। তবে সোমবার তিনি ইঙ্গিত দেন, লেকর্নু ব্যর্থ হলে তিনি এই পথ বেছে নিতে পারেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button