Trending

শর্ত পূরণের অগ্রগতি দেখতে আসছে আইএমএফ টিম অর্থনীতির ১৮ বিষয় পর্যালোচনা করা হবে

রাজস্ব আদায়ের ল্যমাত্রা অর্জিত না হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

শর্ত পূরণের অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাত খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছেন। চলতি মাসের ২৯ তারিখে আইএমএফের এই দলটি আসার কথা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত আইএমএফের মোট ঋণের ৫৫০ কোটি ডলারের মধ্যে ৩৬০ কোটি ডলার বাংলাদেশ পেয়েছে। এখন ঋণের ষষ্ঠ কিস্তির আওতায় ৪৫ কোটি ডলার ছাড় করবে আইএমএফ। সফরকালে জুন পর্যন্ত প্রায় ১৮টি বিষয় পর্যালোচনা করবে সংস্থাটি। এর মধ্যে ছয়টি আবশ্যক মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।

জানা গেছে, রাজস্ব আদায়ের ল্যমাত্রা অর্জিত না হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জুনে আইএমএফের এক হাজার ৭৪০ কোটি ডলারের ল্যমাত্রার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুই হাজার ৭৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের ল্যমাত্রা এক হাজার ৮৬৫ কোটি ডলারের বিপরীতে দুই হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্জিত হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও আমদানি কমে যাওয়ায় রিজার্ভ বেড়েছে মনে করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।

শুধু রিজার্ভ ভালো রয়েছে তাই নয়, জুনের মধ্যে বৈদেশিক পাওনা ৮৭ কোটি ডলারের নিচে এবং দেশীয় পাওনা ২৮ হাজার ৭০ কোটি টাকার নিচে রাখার শর্ত দিয়ে রেখেছিল আইএমএফ। এটিও পূরণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। জুনে বৈদেশিক পাওনা ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং স্থানীয় পাওনা ১৮ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

তবে শর্তের অংশ হিসেবে রাজস্ব আদায়ের ল্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। গত জুন পর্যন্ত চার লাখ ৪৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকার ল্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে তিন লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। আইএমএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। কারণ রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হলে বিদেশী ঋণের আর প্রয়োজন পড়বে না বাংলাদেশের।

এ দিকে গত জুনে বাংলাদেশের জন্য প্রথমবারের মতো বিদেশী ঋণ গ্রহণের সীমা বেঁধে দিয়েছে আইএমএফ, যা ইতঃপূর্বে চলমান ঋণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। শর্ত অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮৪৪ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে বাংলাদেশ। গত জুনে ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির ১৩৪ কোটি ডলার ছাড়ের পর আইএমএফ ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপোর্ট’ প্রকাশ করে। সেখানে পরবর্তী কিস্তি পেতে যেসব শর্ত মানতে হবে, তার মধ্যে নতুন এ সীমা অন্যতম।

শর্ত অনুযায়ী, ত্রৈমাসিকভিত্তিক ঋণের পরিমাণও নির্ধারণ করে দিয়েছে সংস্থাটি। প্রথম তিন মাসে সর্বোচ্চ ১৯১ কোটি, ছয় মাস শেষে ৩৩৪ কোটি, ৯ মাসে ৪৩৪ কোটি এবং পুরো অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮৪৪ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে। প্রতি তিন মাস অন্তর বিদেশী ঋণের অগ্রগতি পর্যবেণ করবে আইএমএফ।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের যে টিমটি এ মাসের শেষে আসছে তা মূলত এখন পর্যন্ত তাদের দেয়া শর্ত কতখানি আমরা পূরণ করতে পেরেছি তা খতিয়ে দেখবে। আমরা রাজস্ব টার্গেট পূরণ, জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ানো ছাড়া অন্যান্য সব শর্তই পূরণ করতে পেরেছি। এ বিষয়গুলো আমরা আলোচনায় তুলে ধরব। আশা করছি, তারা সহযোগিতার মনোভাব দেখাবে। তিনি আরো বলেন, চলতি মাসে ওয়াশিংটনে বিশ^ব্যাংক-আইএমএফ পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি টিম যাচ্ছে। আমরা করছি, সে সময় ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড় করণের বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

প্রসঙ্গত, আইএমএফের চলমান ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তিটি ২০২৩ সালে অনুমোদন দেয়া হয়। চলতি বছরের জুনে ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি ছাড় করা হয়েছে। একই সাথে ঋণের মেয়াদ ছয় মাস ও ঋণের পরিমাণ ৮০ কোটি ডলার বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫০ কোটি ডলার।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button