এক মাসে কতটা বদলালো বাংলাদেশ? বিএনপি সরকারের হিসাব-নিকাশ
ঢাকা: তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। স্বল্প এই সময়ের মধ্যেই সরকারের নানা পদক্ষেপ, ঘোষণা ও বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরে সরকার গঠন, এই ঘটনাই ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা।
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা
সরকারের প্রথম এক মাসে “ফ্যামিলি কার্ড” চালু এবং খাল খনন কর্মসূচি শুরুর মতো উদ্যোগগুলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা ও গ্রামীণ উন্নয়নে এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা সরকারের প্রথম ২৮ দিনের ২৮টি পদক্ষেপ তুলে ধরে একে “অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিতর্ক ও সমালোচনাও রয়েছে
তবে এই এক মাস পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দলীয় ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে সিটি কর্পোরেশন ও ৪২ জেলায় দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় সমর্থক শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও নতুন নয়, তবে তা আবার সামনে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপির বিরুদ্ধে থাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, সরকারকে এই জায়গায় দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
এছাড়া লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রেক্ষাপট: বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন
এর আগে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনূস। সেই প্রেক্ষাপটেই এই নির্বাচন ও নতুন সরকারের যাত্রা শুরু।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
সব মিলিয়ে, বিএনপি সরকারের প্রথম এক মাসে দুটি স্পষ্ট বার্তা উঠে এসেছে। একদিকে দ্রুত কাজ শুরুর চেষ্টা, অন্যদিকে বিতর্ক ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সরকার এখন “ঘোষণা” থেকে “বাস্তব ফলাফল”-এ যেতে পারলে তবেই জনআস্থা দৃঢ় হবে। জনগণের প্রত্যাশা, পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়।








