BangladeshHotTrending

ফসল ডুবছে পানিতে, ধান তোলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

ফসলের এই ভরা মৌসুমে হঠাৎ বৃষ্টি যেন কৃষকের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে এসেছে। অকাল ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিচু জমি ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যে সময়টাতে কৃষকের ঘরে হাসি ফোটার কথা, ঠিক সেই সময়েই দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে এসেছে মাঠজুড়ে।

“সব পানির নিচে যাইতেছে। আর দুইদিন সময় পাইলে সব ধান তুলতে পারতাম,” হতাশ কণ্ঠে বলছিলেন কিশোরগঞ্জের এক কৃষক আব্দুল করিম।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে। অনেক কৃষকই ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কেউ কেউ কাটাও শুরু করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় সেই ধান কাটাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। যেসব জমিতে ধান কাটা হয়েছে, সেগুলোরও অনেক অংশ পানিতে ডুবে গিয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক জায়গায় ধান পেকে গেলেও পানি জমে থাকায় কাটতে পারছেন না তারা। আবার কোথাও কোথাও তড়িঘড়ি করে ধান কাটা হলেও রোদ না থাকায় সেই ধান শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

“ধান কাটছি, কিন্তু শুকাবো কই? রোদ নাই। ভিজা ধান রাখলে তো পচে যাবে,” বলেন নেত্রকোনার এক কৃষক।

গ্রামাঞ্চলে একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কৃষকদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। অনেকেই বলছেন, আর কয়েকটা দিন সময় পেলেই ধান ঘরে তুলতে পারতেন, কিন্তু এই বৃষ্টি সেই সম্ভাবনাও নষ্ট করে দিয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে পাকা ধানের গুণগত মান কমে যেতে পারে, এমনকি সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এতে শুধু কৃষকই নয়, সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও দেশের অনেক এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। যদিও অনেক জায়গায় এখনো তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নতুন করে প্লাবিত হতে পারে আরও এলাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “যেখানে সম্ভব, দ্রুত ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ পরিস্থিতি কখন খারাপ হয়ে যাবে বলা যাচ্ছে না।”

সব মিলিয়ে, একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে সময়ের চাপ—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের সারা বছরের পরিশ্রম এখন নির্ভর করছে আকাশের ওপর- বৃষ্টি থামবে, নাকি আরও বাড়বে সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button