Trending

বাংলাদেশের নিকট সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চায় যুক্তরাষ্ট্র

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য–ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ কী কী পদক্ষেপ নেবে এবং কীভাবে কাজগুলো করবে, তা জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চায় ওয়াশিংটন, যেখানে শ্রম পরিস্থিতি, শ্রম আইন ও মেধাস্বত্ব আইনের পরিবর্তনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উল্লেখ থাকা জরুরি।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের আলোচনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে। দুই পক্ষের আলোচনায় লুৎফে সিদ্দিকী বাংলাদেশের এবং ব্রেন্ডন লিঞ্চ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেন।

ওয়াশিংটন থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই দিনই বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা শুল্ক তিন মাস স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেন।

চিঠি পাঠানোর অল্প দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনে প্রতিনিধি পাঠিয়ে বাংলাদেশ বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে নিজেদের উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় বাণিজ্য–ঘাটতি কমাতে আরও বেশি তুলা আমদানির পাশাপাশি সয়াবিন ও এলএনজি আমদানির কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পণ্য আমদানির প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই মুহূর্তে পদক্ষেপ নিলে বাণিজ্য–ঘাটতি একেবারে কমে যাবে, সেটা কেউ আশা করে না। তবে বিষয়টি সুরাহার জন্য বাংলাদেশ দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে, এটা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য বাংলাদেশ কী কী পদক্ষেপ নেবে এবং কীভাবে নেবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটনের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক কমানো, আমদানি করা পণ্যের বিষয়ে পরিকল্পনার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, তাদের কাজের পরিবেশের উন্নতিসহ শ্রম পরিস্থিতি, শ্রম আইন ও মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়গুলো কর্মপরিকল্পনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button