Bangladesh

গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধ: ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের দুই মামলা ও জুলাই আগস্টে রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। এদিকে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালের মূল ফটক দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। আসামিদের (সেনা কর্মকর্তা) গ্রেপ্তার করে আদালতে (ট্রাইব্যুনালে) হাজির করার ব্যাপারে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ। 

অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধে  শেখ হাসিনার মামলায় রায়ের দিন ধার্য হতে পারে আজ বৃহস্পতিবার। বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১  এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন। 

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের দুই মামলা ও জুলাই আগস্টে রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গুমের মামলা দুটি হলো টিএফআই সেলে নির্যাতন এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে নির্যাতন। এদিকে এই তিন মামলার পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গুমের দুই মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর ও রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। 

ট্রাইব্যনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানি করেন। আসামি পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। এর আগে বুধবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ জেলের একটি বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে সাধারণ পোশাকে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনার প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয়  তৈরি করা হয়। 

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গত ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক  অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। 

এছাড়া ওই দিন ট্রাইব্যুনাল জুলাই-আগস্টে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলাম ও মো. রাফাত বিন আলম মুনসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। সেই সঙ্গে এই তিন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ১১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে ১৫ জন কর্মরত সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় সেনাবাহিনী। 

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজনভ্যানেই

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-খুন ও জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের কোথায় রাখা হবে তা সিদ্ধান্ত নেবে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার  সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল ফটক দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে সকাল সোয়া ৭টায় বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যান লেখা সবুজ রঙের গাড়িতে করে এই ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আনা হয়। গাড়িটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছিল। এদিন সকাল ৮টার পর তিন মামলার ওপর শুনানি হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে আদালতে হাজির হওয়া ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। 

১৫ সেনা কর্মকর্তা হলেন- র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে

গুম ও জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামিদের (সেনা কর্মকর্তা) গ্রেপ্তার করে আদালতে (ট্রাইব্যুনালে) হাজির করার ব্যাপারে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে নিয়ে অপপ্রচার না করারও আহ্বানও জানান তিনি। বুধবার আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের দুই মামলা ও জুলাই-আগস্টে রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে। এর পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এসময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আজকে যাদের উপস্থিত করা হয়েছিল তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে ও বিচারের সোপর্দ করার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন কাজ করেছে, তেমনিভাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে আমরা যাদের মনে করি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, তারা এই আদালতের (ট্রাইব্যুনালের) বিচারিক প্রক্রিয়াকে সাহায্য করেছেন। তারা (সেনাবাহিনী) ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ল’ অফ দ্য ল্যান্ডের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল থাকবেন, বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সব সমর্থন থাকবে। তারা সেই সমর্থন আমাদের দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছেন।

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

আওয়ামী লীগ আমলে গুম করে নির্যাতন ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রামপুরা এলাকায় হত্যাকাণ্ডের পৃথক তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ব্যক্তিদের হাজির হতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই নির্দেশ দেন।

এর আগে এই তিন মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে বুধবার সকাল ৭টার দিকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁদের প্রথমে রাখা হয় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়। সকাল ৮টার দিকে তোলা হয় এজলাসে। সকাল ৮টার একটু পর এজলাসে আসেন তিন বিচারপতি। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের নাম ধরে ডাকলে তাঁরা এক এক করে দাঁড়ান। শুনানি শেষে তাঁদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৭ জন পলাতক থাকায় তাঁদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে তিন মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন পলাতক। মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিন মামলায় সাবেক-বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন আসামি। তাঁদের মধ্যে ১৫ সেনা কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে ছিলেন। এদের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত । একজন এখন অবসরকালীন ছুটিতে রয়েছেন।

গুমের একটি অভিযোগের (টিএফআই) ঘটনায় আসামি শেখ হাসিনা ও তারেক সিদ্দিকীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। অন্যটিতে গুমের (জেআইসি) ঘটনায় আসামি শেখ হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। এই ৩০ জনের মধ্যে হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকী দুটি মামলায়ই আসামি। ফলে আসামি সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮।

এ ছাড়া, গত ১৮ ও ১৯ জুলাই রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে হওয়া মামলায় চারজন আসামি। এই ৩২ জনের মধ্যে ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়, বাকি ১৭ জনকে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। আসামিরা হলেন শখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন ও ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, ডিজিএফআইর সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদিন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক; সাবেক পরিচালক, সিটিআইবি-ডিজিএফআই মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসনাম, সাবেক পরিচালক সিটিআইবি-ডিজিএফআই এবং জাতীয় চা বোর্ড চট্টগ্রামের বর্তমান চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন।

এসআইএন্ডটি, সিলেট-এ কর্মরত কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, ১০১ পদাতিক ব্রিগেড, কুমিল্লায় কর্মরত  কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ১০৫ পদাতিক ব্রিগেড, যশোরে কর্মরত কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখছুরুল হক (অব.)। অপস র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অপস র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপস, র‌্যাব), কর্নেল কে এম আজাদ (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপস, র‌্যাব)।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপস, র‌্যাব), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপস, র‌্যাব), কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপস, র‌্যাব), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম (সাবেক পরিচালক ইন্টেলিজেন্স উইং, র‌্যাব), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম (সাবেক পরিচালক ইন্টেলিজেন্স উইং, র‌্যাব), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল (সাবেক পরিচালক ইন্টেলিজেন্স উইং, র‌্যাব) এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন (সাবেক পরিচালক ইন্টেলিজেন্স উইং, র‌্যাব)। রামপুরায় হত্যার চার আসামি হলেন বিজিবির সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবি কর্মকর্তা রাফাত বিন আলম মুন, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান।

কড়া নিরাপত্তা

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিনটি মামলায় হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। বুধবার সকাল ৭টার পর কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা। মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিন মামলায় সাবেক-বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন আসামি। তাদের মধ্যে ১৫ সেনা কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে আছেন। দেখা যায়, সকাল ৭টার পর বাংলাদেশ জেল প্রিজনভ্যানের গাড়িতে সেনা কর্মকর্তাদের আনা হয়েছে। তারা সবাই সাধারণ পোশাকে।

রায়ের দিন ধার্য হতে পারে আজ

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন আজ  বৃহস্পতিবার ধার্য হতে পারে।
বুধবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।  তিনি বলেন, বুধবার এ মামলায় পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) এবং উপস্থিত রাজসাক্ষী (আসামি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে আমরা জবাব দেব। তবে কিছু অংশ আমরা উপস্থাপন করে জবাব দিয়েছি। আজ বৃহস্পতিবার  চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল সমাপনী বক্তব্য রাখবেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এ মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হবে।

আন্তর্জাতিক  অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন বলেছেন, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই এসব সিনিয়র ও অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে এসেছেন। তারা আশা করেন, এই আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাবেন। বুধবার সকালে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যনালে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তিনি এ কথা বলেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button