USA

‘দুই বিশ্বযুদ্ধেই আমরা জিতেছি’, জাতীয় দিবসের নাম পাল্টানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্য সব দেশের চেয়ে ‘অনেক বেশি অবদান রেখেছে’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তাই এসব যুদ্ধে বিজয়ের স্মরণে তিনি দুটি জাতীয় ছুটির নতুন নামকরণ করতে চান।

‘ট্রুথ সোশ্যাল’ মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, আমি এখন থেকে ৮ মে দিনটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের জন্য ‘ভিক্টরি ডে’ এবং ১১ নভেম্বরকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ‘ভিক্টরি ডে’ হিসেবে পুনঃনামকরণ করছি।

সোভিয়েত সৈন্যরা বার্লিন দখল করার পরপরই ১৯৪৫ সালের ৮ মে নাৎসি জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। মধ্যরাতের পর রাশিয়ার মস্কোতে এই আত্মসমর্পণ কার্যকর হয়। এরপর থেকে ঐতিহ্যগতভাবে ৮ মে ইউরোপে বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়। আর রাশিয়া ৯ মে দিনটি উদযাপন করে।

যুক্তরাষ্ট্রেও এ দিনটি কিছু মানুষের মধ্যে পালিত হয়, তবে এটি সরকারি ছুটি নয়। ইউরোপের মতো ব্যাপকভাবে এটি উদ্যাপিত হয় না।

এই আবহে ট্রাম্প আরও বলেন, আমাদের অনেক মিত্র ও বন্ধু দেশ ৮ মে দিনটিকে ভিক্টরি ডে হিসেবে উদ্যাপন করছে, অথচ আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি অবদান রেখেছিলাম বিজয় অর্জনে।

১১ নভেম্বর তারিখটি মূলত ‘আর্মিস্টিস ডে’ নামে পরিচিত ছিল, যা ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্রবিরতির স্মরণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন চালু করেন। পরবর্তীতে এটি ‘ভেটেরান্স ডে’ নামে পরিচিত হয়—যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীতে যারা সেবা দিয়েছেন, তাদের সম্মান জানিয়ে এটি একটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।

ট্রাম্প বলেন, আমরা উভয় যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি—কোনো দেশ আমাদের ধারে কাছেও ছিল না শক্তি, সাহসিকতা বা সামরিক কৌশলে। তবুও আমরা কিছুই উদযাপন করি না। কারণ আমাদের এখন এমন কোনো নেতৃত্ব নেই, যারা কীভাবে উদযাপন করতে হয়, তা জানে! আমরা আবার আমাদের বিজয় উদযাপন শুরু করব!’

তবে হোয়াইট হাউস থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছুটির নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো নির্বাহী আদেশ বা ঘোষণা জারি হয়নি।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বিষয়ে পুনঃনামকরণের জন্য একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘ইনডিজেনাস পিপলস ডে’কে পুনরায় ‘কলম্বাস ডে’ হিসেবে ফিরিয়ে আনা এবং ‘গালফ অব মেক্সিকো’কে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে পুনঃনামকরণ করার প্রস্তাব।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button