USA

টেক্সাসে চীনাসহ চার দেশের নাগরিকদের জমি কেনায় বাধা

টেক্সাসে নতুন একটি আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনটির মাধ্যমে চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার নাগরিক ও কোম্পানিগুলোকে টেক্সাসে সম্পত্তি কেনা বা দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনটি হলো সেনেট বিল ১৭ (SB 17)। এটি গত ২০ জুন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট স্বাক্ষর করেন। অ্যাবট একে বলেছেন আমেরিকার “সবচেয়ে কঠোর আইন” যা বিদেশি “শত্রুদের” সম্পত্তি ক্রয় থেকে বিরত রাখবে।

উদ্বিগ্ন চীনা বংশোদ্ভূতরা

এই আইনে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে চীনা নাগরিকরা। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী টেক্সাসে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার চীনা বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছিলেন।

চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জেসন ইউয়ান বলেন, “আমাদের জন্মভূমি থেকে আসার কারণে যদি জমি কেনা নিষিদ্ধ হয়, তবে সেটি নিছক বৈষম্য।” তিনি এ আইনকে “চাইনিজ এক্সক্লুশন অ্যাক্ট ২০২৫” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

টেক্সাস প্রতিনিধি জিন উ, যিনি আইনটির বিরোধিতা করছেন, বলেন—“এটি এশিয়ান-বিরোধী, অভিবাসী-বিরোধী এবং বিশেষ করে চীনা-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক।”

চায়নিজ আমেরিকান লিগ্যাল ডিফেন্স অ্যালায়েন্স (Calda) তিনজন ভিসাধারী চীনা নাগরিকের পক্ষে মামলা করেছিল। তবে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়ে জানায়, তারা সরাসরি প্রভাবিত নয়। সংগঠনটি আপিল করেছে।

টেক্সাস এন্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কুইনলিন লি, যিনি মামলার এক বাদী, বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগকে কঠিন করে তুলছে। শুধু থাকার জায়গা নিয়েই ভাবতে হচ্ছে।”

আইনের ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী ইউয়ান জানান, তাঁর এক-তৃতীয়াংশ গ্রাহক চীনা অভিবাসী। অনেক চীনা বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যেই টেক্সাসে নতুন প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত করেছেন।

২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে চীনা কোম্পানিগুলো টেক্সাসে ২.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও প্রায় পাঁচ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিল। এখন এসব বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে।

অ্যাবটের কার্যালয় জানায়, “শত্রু বিদেশি শক্তিগুলো টেক্সাসে জমির মালিক হতে পারবে না।” সমর্থকরা বলছেন, সামরিক ঘাঁটি ও কৃষিজমির কাছাকাছি বিদেশি মালিকানা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে।

এ যুক্তি আরও জোরদার হয় চীনা ব্যবসায়ী সান গুয়াংসিনের ঘটনার পর, যিনি ২০১৬-১৮ সালের মধ্যে টেক্সাসে ১ লাখ ৪০ হাজার একর জমি কিনেছিলেন। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়।

মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ চীনা নাগরিকদের সঙ্গে চীনা সরকারের সম্পর্ক টেনে এনে বৈষম্যমূলক আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬টি রাজ্যে ইতিমধ্যেই বিদেশি নাগরিকদের জমি কেনা নিয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়েছে, যার বেশিরভাগই ২০২৩ সালের পর।

চীনা বংশোদ্ভূতদের আশঙ্কা, টেক্সাসের আইনটি যদি রোধ করা না যায়, তবে অন্য রাজ্যগুলোতেও একই ধরনের আইন পাস হতে পারে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button