International

ন্যাশনাল টাইম সেন্টারে সাইবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ চীনের

বেইজিংয়ের ন্যাশনাল টাইম সেন্টারে সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

বেইজিংয়ের ন্যাশনাল টাইম সেন্টারে সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। এই হামলায় চীনের ব্যাংকিং ও টেলিযোগাযোগ খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারতো বলে জানিয়েছে দেশটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় বেইজিং গুপ্তচরবৃত্তির সতর্কতা বাড়িয়েছে।

রোববার চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্টের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি) ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ন্যাশনাল টাইম সার্ভিস সেন্টার হ্যাক করার চেষ্টা করে। এ নিয়ে তাদের কাছে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এনএসএ একটি অনির্দিষ্ট বিদেশী মোবাইল ফোন ব্র্যান্ডের মেসেজিং পরিষেবার দুর্বলতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে টাইম সেন্টারের কর্মীদের লগইন তথ্য চুরি করেছে। এই হামলার ফলে বিদ্যুৎ গ্রিড, পরিবহন, এমনকি মহাকাশ উৎক্ষেপণও বিপন্ন হতে পারতো।

এই কেন্দ্রটি সারাদেশের ঘড়ির সময় সমন্বয় করে, যেটি কম্পিউটার সার্ভার থেকে শুরু করে ট্রেন স্টেশন এবং পাওয়ার গ্রিডসহ সবখানে বিস্তৃত।

এদিকে হামলার শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল পদক্ষেপ ভণ্ডুল করেছে বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। একইসাথে নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সকল হুমকি দূর করেছে দেশটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে সাইবার জগতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এদিকে, বহিরাগত এসব আক্রমণ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করছে, চীন সমর্থিত হ্যাকাররা বিশ্বব্যাপী নানা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য চুরি করছে।

তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাইবার হামলার পেছনে চীনা হ্যাকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো বলে গত বছর জানিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র। যদিও বেইজিং সেই সময় অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।

রোববারের বিবৃতিতে চীনা নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রই যে আসল ‘হ্যাকার সাম্রাজ্য’ এবং বৈশ্বিক সাইবার জগতের সবচেয়ে বড় অস্থিরতার উৎস, তার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে আমাদের কাছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button